স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৪ বছর পর জামিনে মুক্ত

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৪ বছর পর জামিনে মুক্ত

যশোর প্রতিনিধি ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

print
স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৪ বছর পর জামিনে মুক্ত

স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তে ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি ১৪ বছর জেল খাটার পর যশোর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এর আগে গত ৩১ জুলাই যশোর কারাগারে ওই দম্পতিকে সন্তানের উপস্থিতিতে ফের বিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার মোহাম্মদ ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে যশোর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তার বাবা, দুই বোন ও ভাই কারাফটকে ছিলেন। তবে ১৪ বছর আগে বিয়ে করা স্ত্রী মালা ও ছেলে মিলন উপস্থিত হননি।

ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুল আজিজ মৃধার ছেলে। মামলা সম্পর্কে যশোর কারাগারের জেলার আবু তালেব জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৪ বছর ৬ মাস ২৯ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ইসলাম। তার সাজা হয়েছিল ৩০ বছরের। সন্তান ও স্ত্রীকে মেনে নেওয়ার শর্তে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে।

ছেলেকে নিতে কারাফটকে আসা ইসলামের বাবা আবদুল আজিজ জানান, ছেলেকে মুক্ত করতে পেরে তিনি অনেক খুশি। ইসলামের ছেলেকে তারা অনেক আগেই মেনে নিয়েছেন।

তিনি পুত্রবধূ মালার পরিবারকে দায়ী করে বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এত কিছু হত না।’ জামিনে কারামুক্ত ইসলাম বলেন, তিনি খুব খুশি। সন্তান-পরিবারসহ তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। বেলা আড়াইটার দিকে ইসলাম তার বাবা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে কারাফটক থেকে ঝিনাইদহে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

এ সময় ইসলাম বলেন, ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমের সম্পর্ক থেকে তাদের বিয়ে করেন। পরে তিনি পারিপার্শ্বিক চাপে স্ত্রী-সন্তানকে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ২০০১ সালে মামলা করেন তার স্ত্রী। ডিএনএ টেস্টের পরও ইসলাম স্ত্রী-সন্তানকে মেনে না নেওয়ায় আদালত তাকে ৩০ বছরের সাজা দেন। আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকে।

পরে আপিল রিভিউ আবেদন করলে ইসলামের আইনজীবী স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে আনেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ কারাগারের ভেতরে ইসলাম ও মালাকে আবার বিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।