নোটিসে ভুল ২২ বানান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

ছাত্ররা ইংরেজি না পারায় শিক্ষক বরখাস্ত

নোটিসে ভুল ২২ বানান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

print
নোটিসে ভুল ২২ বানান

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি পড়তে পারে না এমন অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামান তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু বরখাস্ত চিঠিতে ২২টি বানান ভুল করেছেন খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

চিঠিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকেই চলছে তুমুল সমালোচনা। ওই কর্মকর্তার জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তাকে বরখাস্ত করবে কে এমন প্রশ্নও করেছেন অনেকে। গত ৩১ জুলাই নার্গিস সুলতানাকে বরখাস্ত করা হয়।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের বক্তব্য, ছাত্রদের ভুলে শিক্ষক বরখাস্ত হলে জেলা শিক্ষা অফিসারের ভুলে কে বরখাস্ত হবেন? বরখাস্তের বিষয়ে শেখ মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, একটি বাচ্চাও রিডিং পড়তে পারেনি। যার রোল নম্বর ২ সেও পারল না।

শিক্ষকও রিডিং পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ ভুল করেছেন। শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরও ভুল করেছেন। তাই বরখাস্ত করেছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করব।
ভুল বানানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বয়স ৫০ এর বেশি। আমার চশমাটা কে বা কারা নিয়ে গেছে।

মুখে বলে দিয়েছি, প্রধান সহকারী লিখেছেন। চশমা না থাকার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। খেয়ালও করিনি। সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। পরে যখন জেনেছি তখন আবার একই স্মারকে সংশোধন করে দিয়েছি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির বলেন, ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারে না এ কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা ঠিক হয়নি। শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য তাকে সময় দিতে হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার যে ভুল করেছেন সেটাও তার অপরাধ এবং অদক্ষতা। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।