প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক

প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা

বি এম ফারুক, যশোর ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

print
প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা

লোভ দেখিয়ে যশোরের প্রায় এক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড। সমবায় সমিতির অনুমোদিত এ প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ গ্রহকদের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তারা ‘ব্যাংক’ নাম বলে সহজ সরল মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আর ঋণ পেতে কর্তাদের দিতে হচ্ছে উৎকোচ। উৎকোচ ছাড়া কেউ এখানে ঋণ পায় না। এ প্রতারণা শুরু হয়েছে বর্তমান ম্যানেজার আবুল হাসান যোগদানের পর থেকে।

দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের প্রতারণার শিকার ফল ব্যবসায়ী ফোরকান হোসেন। মেসার্স রশনি এন্টারপ্রাইজের মালিক ফোরকান হোসেন এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত চার বছর ধরে লেনদেন করে আসছেন। প্রথম প্রথম বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে গ্রাহক করা হয়। ২০১৬ সালে ফোরকান হোসেনকে দুই লাখ টাকা ঋণ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর লেনদেন ভালো হওয়ায় ২০১৭ সালে তিন লাখ, ২০১৮ সালে পাঁচ লাখ এবং একই বছর আর চার লাখ টাকা ঋণ দেয়। এ সময় বলা হয়, আপনি দ্রুত ঋণ পরিশোধ করেন। আপনাকে আট লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হবে। তাদের কথা মতো ফোরকান হোসেন দ্রুত ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু ঋণ নিতে গেলে তাকে নানা শর্ত দেওয়া হয়। সব শর্ত পূরণ করার পর তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় আপনার ঋণ দেওয়া যাবে না। এ সময় ফোরকান হোসেনের সঞ্চয় জমা ছিল প্রায় এক লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে ফোরকান হোসেন বলেন, আমি দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সব শর্ত পূরণ করে ঋণ চেয়েছি। কিন্তু আমাকে ঋণ দেওয়া হয়নি। আমার কাছে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে।

শুধু ফোরকান হোসেন নয়, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের প্রতারণা শিকার আরও এক ফল ব্যবসায়ী। তিনি হলে নিউ আল আমিন ফল ভা-ারের মালিক বিপুল আহমেদ।

বিপুল আহমেদ জানান, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে লেনদেন করে আসছি। তার সঞ্চয় দুই লাখ টাকা। মাঠকর্মী শওকত হোসেন তাকে জানায়, এবার তাকে ছয় লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। তাদের কথা মতো সব শর্ত পূরণ করে ঋণ নিতে গেলে টালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ বলা হয় তাকে ঋণ দেওয়া যাবে না। কি কারণে ঋণ দেওয়া যাবে না সে ব্যাপারে কিছুই বলছে না। ছয় লাখ টাকার জন্য তার কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে। দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সুদসহ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হলে আমাদের জমি বিক্রি করে তাদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অভিযোগের ব্যপারে সেকেন্ড অফিসার জাফেরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাকরি করি। আদের যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালন করি। ঋণ দেওয়ার বিষয়টি হেড অফিস জানে। কে ঋণ পাবে আর কে পাবে না তার দায়িত্ব ঢাকা অফিসের। আমাদের করার কিছু নেই।
ম্যানেজার আবুল হাসান বলেন, সব অভিযোগই মিথ্যা। এখানে কোনো ঘুষের লেনদেন হয় না।