মোংলায় জায়গা সংকট নৌ-চ্যানেল খনন ব্যাহত

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

মোংলায় জায়গা সংকট নৌ-চ্যানেল খনন ব্যাহত

আবুল হাসান, মোংলা (বাগেরহাট) ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯

print
মোংলায় জায়গা সংকট নৌ-চ্যানেল খনন ব্যাহত

জায়গা সংকটের কারণে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেল খননের মাটি ফেলতে না পারায় চ্যানল খননে নতুন করে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২৬ কিলোমিটার এ চ্যানেলের নৌ পথের দু’পারে খননের মাটি দিয়ে সব জায়গাই ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এখন জায়গার অভাবে নদী খননের মাটি আর ফেলা যাচ্ছে না। ফলে খননকৃত মাটি কোথায় ফেলা হবে তা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হচ্ছে। মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেল খননে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিএ এসব তথ্য জানায়।

সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের দূরত্ব কমাতে ১৯৭৪ সালে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির খনন কাজ শুরু করা হয়। ৮০ দশকের পর থেকে স্থানীয়রা ওই চ্যানেলটির সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করলে ভাটার সময় পানির প্রবাহ কমে গিয়ে পলি পড়ে ভরাট হতে শুরু করে।

দ্রুত ২২ কিলোমিটার পলি পড়ে ২০১০ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এ চ্যানেলটি। পরে ২০১৪ সালে ১ জুলাই ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পলি অপসারণ করে খনন কাজ শুরু করে নৌ চ্যানেলটি পুনরায় চালু করা হয়। তবে চ্যানেলটি ড্রেজিং দ্বারা খনন করা মাটি কোথায় ফেলবে তা নিয়ে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়। নদীর দু’পারে খননের মাটি ফেলতে ফেলতে আর কোনো জায়গা নেই বলে জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনিচ্ছুজামান বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেলের নাব্য ঠিক রাখতে গত সোমবার পর্যন্ত ২৭৭ দশমিক ৪৬ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নদী খননের এসব মাটি নদীর দু’পারেই ফেলা হয়েছে। একই জায়গায় একাধিকবার এ মাটি ফেলায় উঁচু টিলার সৃষ্টি হয়েছে। যা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। এছাড়া তাদের ড্রেজিং দ্বারা নদী খননের মাটি মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে মাটি দিতে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো জায়গা পাচ্ছেন না তারা। তাই নদী খননের মাটি ফেলার জায়গা না পেলে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেল খননেও বাধা সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল বলেন, আন্তর্জাতিক এ নৌ চ্যানেলটি পুনরায় চালু হওয়ায় মোংলা বন্দরে আমদানি রফতানিতে গুরুত্ব বেড়েছে। স্থায়ীভাবে এ চ্যানেলটির নাব্য ঠিক রাখতে পারলে অর্থনৈতিকভাবেও বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। চ্যানেলে খনন কাজে বাধার সৃষ্টি হলে নৌ চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই চ্যানেলটি চালু রাখতে সরকারের সব রকম পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জাবের হোসেন মজুমদার বলেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেল খননের মাটি দিয়ে কয়েকশ একর সরকারি-বেসরকারি জমি ভরাট করা হয়েছে। মাটি ফেলার এখন আর কোনো জায়াগা নেই।