৯২ পদের ৪১টি শূন্য

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

জনবল সংকটে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

৯২ পদের ৪১টি শূন্য



বিএম ফারুক, যশোর ১০:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

print
৯২ পদের ৪১টি শূন্য

নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে যশোরে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ডাক্তার নেই, নার্স নেই, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অফিস সহায়কও নেই। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯২টি পদের মধ্যে ৪১টি পদই শূন্য রয়েছে। এ কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগ ছাড়াই প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগী দেখতে হচ্ছে সেখানকার চিকিৎসকদের। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় রোগী দেখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এছাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ১১ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র সাতজন আছেন। বর্তমানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) এ চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

এছাড়া নার্সিং সুপারভাইজার একটি, সিনিয়র স্টাফ নার্স একটি, পুষ্টিবিদ একটি, ক্যাশিয়ার একটি, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক দুটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) একটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফার্মাসিস্ট) দুটি, স্টোর কিপার একটি, সহকারী সেবক একটি, স্যাকমো একটি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক তিনটি, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক চারটি ও স্বাস্থ্য সহকারীর ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

জুনিয়র কনসালটেন্ট, সহকারী কাম-হিসাব রক্ষক এ দুজনের বদলি অর্ডার হলেও উক্ত পদে লোক না থাকার কারণে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে পরিসংখ্যানবিদ মাহাবুবুল হক জানিয়েছেন। সব মিলে হাসপাতালের জনবল ৯২ জনের মধ্যে আছে ৫১ জন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ১৯ জনের মধ্যে আছে ১১ জন।

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার হাড়িয়দেয়াড়া গ্রামের গুলজান বিবি (৫৫) বলেন, ডাক্তার কম থাকায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর সিরিয়াল পেয়েছি। এখন বসে আছি। কখন ডাক্তার চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেন।

এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পারবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান অনেক ভাল। রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে জনবল কম থাকায় সাময়িক অসুবিধার মধ্যে রয়েছি। অচিরেই এ অবস্থা অবসান হবে।