সাতক্ষীরায় বাঁধে ভাঙন আতঙ্কে মানুষ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

সাতক্ষীরায় বাঁধে ভাঙন আতঙ্কে মানুষ

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ৬:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

print
সাতক্ষীরায় বাঁধে ভাঙন আতঙ্কে মানুষ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ, বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরাজীর্ণ এসব বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে কোথাও কোথাও মাত্র এক থেকে দেড় ফুট অবশিষ্ট আছে। এতে প্লাবন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে মানুষ।

জানা গেছে, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন অন্তত ১২ বার প্লাবিত হয়। এ ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর কোলা-হিজলিয়া, সুভদ্রাকাটি গ্রামের সোহরাব সানার বাড়ি থেকে সাইদ সানার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০ চেইন বেড়িবাঁধ, কুড়িকাহনিয়া গ্রামের ঋষিপল্লী থেকে রুইয়ারবিল পর্যন্ত প্রায় ৫০ চেইন বেড়িবাঁধ, হরিশখালী গ্রামের স্লুইসগেট থেকে আয়ুব আলীর মৎস্য ঘের পর্যন্ত প্রায় ৩০ চেইন বেড়িবাঁধ, কোলা গ্রামের পুরাতন জামে মসজিদ থেকে হিজলিয়া প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত প্রায় ৬০ চেইন বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এসব বেড়িবাঁধের অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে একজন মানুষও তার ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে ভয় পায়। একই অবস্থা শ্রীউলা ইউনিয়নের থানাঘাটার এলাহী বক্সের মৎস্য ঘের থেকে রফিকের মৎস্য ঘের পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও থানাঘাটার জামাল মাস্টারের ঘের থেকে হাজরাখালী হয়ে বসিরের মৎস্য ঘের পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের।

প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, আমার ইউনিয়ন তিন দিক থেকে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদ বেষ্টিত হওয়ায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বশেষ চাকলা গ্রামের বাঁধ ভেঙে কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০০ বিঘা জমি বাদ দিয়ে রিং বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি কোনো মতে আটকায়। কিন্তু ওই ৫০০ বিঘা জমিতে বসবাসকারী দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটায় আজও জোয়ার-ভাটা খেলছে।

শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল জানান, জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আবুল হোসেন জানান, এলাকার বেড়িবাঁধগুলো বহু আগে নির্মিত। বর্তমানে এগুলোর অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। কিন্তু বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ মেলেনি।