বন্ধনে যাত্রী সংকট

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৫ মাঘ ১৪২৫

বন্ধনে যাত্রী সংকট

জামাল হোসেন, খুলনা ১০:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

print
বন্ধনে যাত্রী সংকট

অধিক সময়, অতিরিক্ত ভাড়া এবং বেনাপোল ও যশোর স্টেশনে টিকিট না পাওয়ায় যাত্রী সংকটে পড়েছে খুলনা-কলকাতা সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’। আসন সংখ্যার এক তৃতীয়াংশও যাত্রী না পেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এক বছরের বেশি সময় চালু হওয়া এ সার্ভিসটি। ফলে এ সার্ভিসটি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, প্রতি বৃহস্পতিবার খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ১০টি কোচের একটি ট্রেনে ৪৫৬টি আসন রয়েছে। এরমধ্যে ৩৭২টি এসি চেয়ার ও ১৪৪টি ফার্স্ট এসি। গত বছরে কোচটিতে সর্বোচ্চ যাত্রী ছিলো ১৪০ জন। তবে গত এক বছরের গড়ে এর সংখ্যা ১২০ এর কম। ফলে চাহিদার এক তৃতীয়াংশ যাত্রী নিয়ে ব্যাপক লোকসান দিয়েও সেবা চালু রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সপ্তাহে বৃহস্পতিবার একদিন করে এ ট্রেন সার্ভিস কলকাতা থেকে ছেড়ে আসে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আর খুলনা স্টেশনে পৌঁছে দেড়টায়। খুলনা থেকে আবার দুপুর দু’টায় ছেড়ে যায় এবং কলকাতা স্টেশনে পৌঁছার কথা সন্ধ্যা সাতটায়। তবে বেশির ভাগ দিনই এক থেকে দেড় ঘণ্টা কখনও তার থেকেও বেশি সময় নেয় ট্রেন আসতে এবং ছেড়ে যেতে।
এ রুটে যাতায়াতকারীরা বলছেন, মূলত তিন কারণে খুলনা কলকাতা ট্রেন সার্ভিস বন্ধন এক্সপ্রেস যাত্রী না বেড়ে দিন দিন কমছে। ফলে লোকসান নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে এ সার্ভিসের।
যাত্রীদের অভিযোগ, ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ খুলনা থেকে ছেড়ে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছে রাত ৮টায় বা তার পরে। খুলনা থেকে চিকিৎসা বা ভ্রমণেচ্ছু যাত্রীরা প্রাথমিকভাবে আবাসন সমস্যায় পড়ে।
এ রুটের নিয়মিত যাত্রী আসলাম উদ্দিন বলেন, রাত ৮টায় কলকাতা পৌঁছানোর কারণে আবাসিক হোটেল বেগ পেতে হয়। অনেক চেষ্টা করে বেশি ভাড়া দিয়ে হোটেলে উঠতে হয়। তারমতো একই সমস্যায় পড়েন ‘বন্ধন এক্সেপ্রেস’ এ আসা বেশিরভাগ যাত্রী।
দিনের বেলা কলকাতায় না পৌঁছালে আবাসিক হোটেলগুলোতে সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু কলকাতায় পৌঁছায় রাতে। এ কারণে খুলনা থেকে কেউ ট্রেনে আসতে চায় না।
যাত্রীরা বলেন, ট্রেনে যাত্রী না হওয়ার পিছনে অতিরিক্ত ভাড়াও একটি বড় ফ্যাক্টর। সবমিলে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বের রেল যাত্রায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এসি সিট ২ হাজার টাকা এবং এসি চেয়ার ১৫০০ টাকা। অথচ খুলনা থেকে যশোর হয়ে গাড়িতে বেনাপোল পৌঁছাতে একজনের সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা খরচ হয়। কেউ চাইলে তার থেকেও আরও কমে যেতে পারে।
খুলনা রেলের স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, সপ্তাহে একদিন ট্রেন ছাড়ার কারণে সিডিউলে একটা সমস্যা হয়েছে। কলকাতা গিয়ে অনেক সময় ভালো হোটেল পেতে সমস্যা হয়। এসব কারণে যাত্রী কম। এসব বিবেচনায় নিয়ে খুলনা কলকাতা ট্রেন সার্ভিকে লাভজনক করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।