‘আড়াই বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন’

ঢাকা, সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘আড়াই বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন’

মো. জামাল হোসেন, খুলনা
🕐 ৯:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ০১, ২০২২

‘আড়াই বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন’

ঘটনার দীর্ঘ আড়াই বছর পর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পল্লীতে ইন্স্যুরেন্স কর্মী সৌরভি মন্ডলকে (৪৫)কে শ্বাসরোধ করে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

বুধবার দুপুরে পিবিআই খুলনা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান। আলোচিত এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ডুমুরিয়া উপজেলার পশ্চিম বলাবুনিয়া গ্রামের।

ঘটনার দীর্ঘ আড়াই বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই ক্ল-লেস এ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ঘটনার একমাত্র মাস্টারমাইন্ড প্রণব কুমার মন্ডলকে (৩৯)। আদালতে সে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও প্রদান করেছে। জবানবন্দি রেকর্ড করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক মো: আজহারুল ইসলাম।

নিহত সৌরভি মন্ডল ডুমুরিয়া উপজেলার বলাবুনিয়া গ্রামের স্বপন মন্ডলের স্ত্রী। তিনি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের একজন মাঠ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সুদেরও ব্যবসা করতেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত প্রণব মন্ডল একই উপজেলার বলাবুনিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র মন্ডলের পুত্র।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আসামি প্রণব মন্ডল সৌরভী মন্ডলের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নেয়। একাধিকবার টাকা ফেরত দিতে চেয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করে সে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২ জুলাই সকালে সৌরভী মন্ডল টাকা ফেরত চাইতে প্রণবের বাড়িতে যান। টাকা না দিলে মামলা করার হুমকি দেন সৌরভি। ঐ দিন রাতে প্রণব স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে ছিল। বাড়ি ফিরে যাবার পথে রাত পৌণে ১টার দিকে প্রণব সৌরভি মন্ডলের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যায়। ঘুমন্ত সৌরভিকে ডেকে তুলে বলে টাকা দিতে তার আরও সময় লাগবে।

এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতান্ড হয়। একপর্যায়ে প্রণব গলা চেপে ধরলে সৌরভির মৃত্যু হয়। নড়াচড়া করতে না দেখে তার গলায় গামছা পেচিয়ে সে পালিয়ে যায়। তাকে যেন কেউ সন্দেহ না করে সেজন্য সকালে গ্রামের মানুষের সাথে সৌরভির লাশ দেখতে তাদের বাড়িতেও যায় প্রণব।। হত্যাকান্ডের পরদিন হত্যাকারী লাশের পাশ থেকেই ঘোরাঘুরি করেন। ঘটনার চারদিন পর তিনি ভারতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

হত্যাকান্ডের ৪ দিন পর পালিয়ে ভারতে চলে যায় প্রণব। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ৭ জনকে আসামি করে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিরা সকলে নিহতের প্রতিবেশী। তাদের সাথে পূর্ব শত্রুতা ছিল। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, সৌরভি হত্যা মামলাটি ছিল একটি ক্ল-লেস মামলা। প্রথমদিকে মামলাটি ডুমুরিয়া থানার পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু পুলিশের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা জানতে পারনে প্রণব নিহতের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা সুদে নিয়েছে এবং হত্যাকান্ডের ৩ দিন পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

তখনই পিবিআই নিশ্চিত হয় এ হত্যাকান্ডের সাথে প্রণব জড়িত রয়েছে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রণব ডুমুরিয়ায় ফিরে আসে। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। পরে বিভিন্ন সোর্স মারফত ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৩০ মে রাতে ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রাম থেকে প্রণবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই খুলনার পরিদল্শক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃত প্রণব মন্ডল হত্যাকান্ডের সঙ্গে একাই জড়িত ছিল- মর্মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক বর্ণনা দিয়েছে। দ্রুতই এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

 
Electronic Paper