‘প্রত্যাশা ও ভাবনায় নারী দিবস’

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘প্রত্যাশা ও ভাবনায় নারী দিবস’

ডেস্ক রিপোর্ট
🕐 ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৮, ২০২২

‘প্রত্যাশা ও ভাবনায় নারী দিবস’

নারীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব নারী দিবস। এই দিবসটি উদ্যাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকায় সে সময়কার সোশালিস্ট পার্টি প্রথম জাতীয় পর্যায়ে নারী দিবস পালন করে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি বছরের ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁদের কাজের প্রশংসা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে নারীদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য অর্জনের উৎসব হিসেবেই এই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।

পুরুষের ক্ষমতাভিত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা

অনামিকা, আইন বিভাগ

বাংলাদেশর সংবিধানে মৌলিক অধিকার নিয়ে কিছু অনুচ্ছেদ আছে। তার ভেতর অনুচ্ছেদ ২৮ এ বলা হয়েছে নারী পুরুষ ভেদে এই রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। নারীর মানব অধিকার নিয়ে ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সিডও সনদ কার্যকর শুরু হয়। সিডিও এর ৩০ টি ধারা ভেতর প্রথম ১৬টি ধারা নরীর প্রতি কত প্রকার বৈষম্য আছে তা প্রকাশ করে। এ সনদটি তিনটি প্রেক্ষিত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেয়। ক. নারীর নাগরিক অধিকার ও আইনি সমতা নিশ্চিতকরণ, যার মাধ্যমে নারী গণজীবনে ও সমাজে পুরুষের সমপর্যায়ে সব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। খ. নারীর প্রজনন ভূমিকাকে সামাজিক ভূমিকা হিসেবে গণ্য করা, যাতে প্রজননের কারণে নারীকে কোণঠাসা না করে এ ক্ষেত্রে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া। গ. আচার-প্রথা, সংস্কার ও বিধি যা নারীর জেন্ডার ভূমিকা নির্ধারণ করে, তা বাতিল করা। পরিবার ও সমাজে শুধু 'মানুষ' হিসেবে নারীকে গণ্য করা এবং পুরুষের ক্ষমতাভিত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সিডও একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সনদ, যা শুধু নারী সংক্রান্ত। আমরা অনেক সময় দেখি নারীরা তাদের সঠিক অধিকার পায় না। পোশাকের কারণে তাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলা হয়ে থাকে। চাকরির ক্ষেত্রে নারীর প্রমোশন হলেও উঠে আসে ভিন্ন করুচিপূর্ণ কথা। আমাদের সবার উচিৎ নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহায্য করা।

নারীরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে

ফাতেমাতুজ জোহরা,ইংরেজি বিভাগ

আমরা যতোই সমান অধিকার নিয়ে কথা বলিনা কেনো আমাদের দেশের নারীরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। একজন নারী হিসেবে আমাদের চাওয়াটা কিন্তু ছিল খুবই স্বল্প। নিজের পায়ে দাঁড়ানো, নিজেকে সাবলম্বী করে তোলা যাতে করে সারাজীবন কারো বোঝা হয়ে না থাকতে হয়। কিন্তু কয়জন পেরেছে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে? সমাজের বিভিন্ন বাঁধা, অনিরাপত্তা, লোকে কি বলবে এসব ভেবে আজও আমরা পিছিয়ে।কবে পারবো সব বাধা পেরিয়ে নির্ধিদায় নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে? আমরা একটি সুস্থ সমাজ চাই যেখানে নারীদের কেউ ছোট করে দেখবেনা, নারীর শক্তি সামর্থের উপর প্রশ্ন তুলবেনা। এমন এক সমাজ চাই যে সমাজে নারীর লক্ষ্যে পৌঁছাতে সবাই তাকে সাহায্য করবে। একটি নিরাপদ দেশ চাই যেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। দেশের শতভাগ নারী যখন তাদের স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবে তখন সত্যিই আমাদের দেশকে স্বাধীন দেশ মনে হবে। দেশের উন্নতি সাধনে নারীশক্তির ভূমিকা অপরসীম। তাই নারীকে এগিয়ে যেতে দিতে হবে। তাদের প্রাপ্য স্বাধীনতাটুকু তাদের দিতে হবে।

নারীকে মানুষ ভাবতে হবে

যারিন জাসিয়া ঐশী,কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

যেকোনো দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে সেই দেশের জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই হলো নারী।আর এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে না পারলে এ দেশের উন্নয়ন কখনোই পুরোপুরি সম্ভব নয়। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের মেয়েদের অবস্থান সন্তোষজনক। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও যদি কর্মস্থলে নারী প্রবেশ করতে না পারে তাহলে সমাজে তার অবস্থার উন্নতি হবে না। প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে লেখা ধর্ষণের খবরে থাকে আজ অমুক জায়গায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে অমুক শ্রেণির ছাত্রী, তমুকের কন্যা, স্ত্রী বা মা। যেন দেশে রোজ দুই চারটা ধর্ষণ হবে, এটাইতো স্বাভাবিক। তার চেয়েও শোচনীয় অবস্থা হচ্ছে আমাদের আইন ব্যবস্থা। সেখানে একজন ধর্ষিতা হয়ে উঠে সমাজের বোঝা।একজন পুরুষ যতোটা সাবলীল ভাবে চলাফেরা করতে পারেন,একজন নারীর ক্ষেত্রে বাইরে চলাফেরা করাটা ততোটাই বিপদ জনক হয়ে উঠেছে।যদি কেউ বলে পোশাকের কথা, তবে হয়তো তারা জানে না বোরকা পরা হাজারটা মেয়েকেও হতে হয় হ্যারাজমেন্ট এর শিকার। হার্ভার্ড ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার গ্যাপ প্রতিবেদনে রাষ্ট্র ক্ষমতায়নে নারীর অবস্থান বিবেচনায় বিশ্বের এক নম্বরে উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। অথচ এদেশে প্রতিটা নারী এখনো নিরাপদ নয়। নিরাপত্তাই নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান বাধা। হ্যারিয়েট বেচার স্টোও বলেছিলেন,'Women are the real architect of society' অর্থাৎ নারী হলো সমাজ গড়ে তোলার স্থপতি। সবার আগে এই স্থপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবেই না স্থাপত্য হবে মজবুত। আসুন না আজ এই নারী দিবসে নারীদের এই পিছিয়ে পড়া সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতন হই। নারীকে শুধুই নারী বা অবলা না ভেবে একজন মানুষ ভাবতে শিখি। ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করতে পারে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস।

আতংকের বদলে স্বস্তির নিঃশ্বাস চাই
আদিবা মেহনাজ

নারীদের বিরোধী না ভেবে শুধু মাত্র নারী দিবসে নারীর অধিকার নিয়ে কথা বললে হবে না, সবার আগে নিশ্চিত করা দরকার নারীর নিরাপত্তা, নারীর সুস্থতা। নারীদের বিরোধী না ভেবে আপন ভেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেই দেখুন না, পৃথিবীটা কতো সুন্দর। আমার পরিবারে সবদিকেই নারী, ডানে নারী, বাঁয়ে নারী সর্বদিকে নারী। তবে এই নারীদের সফল হয়ে ওঠার পেছনে নর-দের ভূমিকা নিঃসংকোচে প্রশংসার দাবিদার। পূর্ণজন্মে আমি বিশ্বাসী না, যদি কখনো আবার জন্ম হয় আমি কারো মেয়ে হয়ে, অথবা কারো বোন হয়ে জন্মাতে চাই। শুধু মাত্র একটি দিন নয়, সারাবছর নারীত্বের উপর গর্ব করা হয় এমন একটা সমাজ গড়ে উঠুক। যেখানে আতংকের বদলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে নিজের প্রতিভা বিকশিত করবে নারীরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা বিশ্বের প্রতিটি কোণায় কোণায় বসবাস করা নারীদের।

নারীর যোগ্য অধিকার ও সন্মান নিশ্চিত করা হোক

শর্মিষ্ঠা সরকার

নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোন দিবস লাগে না । নারী তুমি ছিলে ঘরের সৌন্দর্যে,ছিলে মায়ায়,ছিলে আন্দোলন আর রণক্ষেত্রে সম্মুখ যোদ্ধা হয়ে অকুতোভয় রূপে। তারপরও কোনো দিবস মানে বিশেষ ভাবে মনে করা।নারী অধিকার আন্দোলনের স্মরণে প্রতিবছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। মূলত নারীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য না দেখিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনের সর্বস্তরে নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারী দিবসের সূচনা করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন আমরা কি নারীদের যোগ্য অধিকার বা সন্মান দিতে পেরেছি!! বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যাই নারী।এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পিছিয়ে রেখে, তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া জেন্ডার সমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও অসম্ভব। তাই নারী দিবসে আমাদের অঙ্গিকার হোক নারীর যোগ্য অধিকার ও সন্মান নিশ্চিত করা।

 
Electronic Paper