লক্ষ্য পূরণে দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা

ঢাকা, বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

লক্ষ্য পূরণে দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা

জাফর আহমদ
🕐 ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২১

লক্ষ্য পূরণে দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা

আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বিজিএমইএ পরিচালক। একজন সফল উদ্যোক্তা। ২৩ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে নিজেকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি এ ক্ষেত্রে অন্য উদ্যোক্তাদের চেয়ে ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। একে একে চারটি রুগ্ন পোশাক কারখানা কিনে সেগুলোতে প্রাণ ফিরিয়েছেন, করেছেন লাভজনক। এর মধ্যে দুটি পরিবেশবান্ধব কারখানা। পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, প্রযুক্তি ও আবাসন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন এই উদ্যোক্তা। সফল এই উদ্যোক্তার টিম গ্রুপের ১২টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সাড়ে ১৮ হাজার কর্মী। আব্দুল্লাহ হিল রাকিব কথা বলেছেন খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খোলা কাগজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ-

করোনা মহামারীর মধ্যে প্রবল বিরোধিতা এরিয়ে কারখানা চালু করেছিলেন। দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছে, গার্মেন্ট কারখানাতেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছিল। সব সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে, বিরোধিতাকে আমলে না নিয়ে কারখানা খুলেছিলেন। কিন্তু সমস্যায় পড়তে হয়নি। আপনাদের এই সাহসের পেছনের কী কাজ করেছে?

উত্তর : এখানে আমাদের যে তথ্য ছিল এটা ডিজি হেল্থ হোক, সরকারের গোপনীয় সংস্থা হোক প্রথমে সরকার আত্মবিশ্বাসী ছিল এই স্তরে আক্রান্ত করছে না। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে অধিকাংশ কর্মশক্তি ৩০ এর নিচে। টিকা ছাড়াও এখানে আক্রান্তের হার খুবই কম। জীবন ও জীবিকার যে অগ্রযাত্রা দুটোকেই ধরে রাখতে ওই তথ্য কাজ করেছে। জীবিকা বন্ধ করে জীবনকে আটকাতে পারবেন না। যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগে থেকেই বলেছেন, ‘দেখো আমরা খেটে খাওয়া লোক। আমাদের খেটে খেতেই হবে। ঘরে বসে থেকে আমরা মানসিকভাবে মারা যাব। এর চেয়ে আমরা ফ্রন্টলাইনে থাকি, এর প্রতিরোধমূলক যে সব ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলো আমরা নেবো, দূরত্ব বর্জায় রাখবো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সব স্বাস্থ্যগত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে সেগুলো মেনে তোমরা যদি কারখানা চালু করতে পারো, সেটা করো। এটা আমরা করেছি, সফলকাম হয়েছি এবং আমাদের বিশ্বাস আমরা অনেক দেশের চেয়ে ভালোভাবে হ্যান্ডেল করতে পেরেছি। যে কারণে এবারও প্রধানমন্ত্রীকে ইউএন অ্যাসেম্বলিতে অ্যাপ্রিসিয়েট করা হয়েছে।

করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান থেকেও বলা হয়েছে এই মহাবিপদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভালো করেছে। এক্ষেত্রে সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল, এটা তৈরি পোশাক শিল্পে কতটা কাজে লেগেছে?

আমি মনে করি সরকার যথেষ্ট সাপোর্টে ছিল। সরকার এই সেক্টরকে যথাযথভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। ইকোনমিতে যে অবদান সেই আলোকেই সরকার চিন্তা করেছে। এই শিল্প যদি না বাঁচে আমাদের অর্থনীতিতে যে এক্সিলারেট পরিস্থিতি ছিল সেটা আবার থেমে যাবে। সে কারণে এই শিল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে, তাৎক্ষণিক যে সাপোর্ট দেয়ার দরকার ছিল সেটা দিয়েছে। আমরা মনে করি ওই সাপোর্ট প্রয়োজন। কোভিড চলে গেলেও কোভিড পরবর্তী সেই ইস্যুগুলো রয়ে গেছে। করোনা পরবর্তীতে সাপ্লাই চেইনের ব্যাঘাত দেখা যাচ্ছে, সেটাকে বিবেচনায় নিতে হবে। সরকার প্রণোদনার নামে আমাদের যে সফ্ট লোন দিয়েছে এটা আঠারো মাসে ফেরত দেওয়ার যে শর্ত ছিল এখানে আমরা মনে করি বাড়িয়ে ৩৬ মাস করা প্রয়োজন।

এটা না করলে ২০২০-এ বন্ধ ও ২০২১ এ ক্রেতাদের অনিশ্চয়তা এবং ভারসাম্যহীনতার কারণের কন্টেইনার ক্রাইসেস বলেন বা কাঁচামাল ক্রাইসেস বলেন, যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছিল সে কারণে দুই অর্থবছরেই লাভ করতে পারছি না। ওই সময়ে এই লোনটা আমাদের পরিবারের সদস্য শ্রমিকদের ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এই লোনটা আমাদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু এই ২০২১ সালে আমরা ফেরত দিতে পারব না। আমাদের শিল্পের সেই সামর্থ্য আসেনি। ২০২২-এ যদি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি তাহলে ২০২৩-এর ওই লোনটা আমরা পরিশোধ করতে পারব।

দুই বছর লাভ হচ্ছে না, ব্যবসা কোনোমতে টিকে আছে। এই সময়ে দুটি বড় তৈরি পোশাক শিল্প গ্রুপের ক্রাইসিসে চিত্র সামনে এসেছে। একটি হলো গাজীপুরের স্টাইল ক্রাফ্ট, অপরটি হলো নারায়ণগঞ্জের ওপেক্স গ্রুপের কারখানা। বকেয়া বেতনের জন্য শ্রমিকরা কর্মসূচি পালন করছেন। এর পেছনে কী ব্যবস্থাপনা ত্রুটি না করোনার অভিঘাত দায়ী মনে করছেন? এ থেকে উত্তরণে কী পরামর্শ দেবেন?

স্টাইল ক্রাফটের যে সমস্যা এই প্রজন্মের যারা ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে এসেছে প্রথম জেনারেশনের বিসনেস ভ্যালু ও বিসনেসের যে স্প্রিট সেটার কোপআপ্ট করতে পরবর্তী জেনারেশন আসলে স্টাগল করছিল। এই সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসেস ছিল। একই সময়ে কোভিড এসে ধাক্কা দিয়েছে। সবগুলো ধাক্কা এক সঙ্গে লেগেছে। আবার শুধু কোভিডকেও দায়ী করা যাবে না, কারণ বাকি বড়রা তো পড়েনি।

ওপেক্সে যেটা হয়েছে-উনাদের কিছু ইস্যু আগে থেকেই ছিল। তারপরও তারা চেষ্টা করছিলেন চালানোর। তারা হয়তো বাঁধা উতরে যেতেও পারতেন। কিন্তু এর মধ্যে এসে পড়েছে কোভিড।

তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়নের একটি বড় ইস্যু। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে এ শিল্পে যে সমস্যার উদ্ভব হয় সেগুলো আর থাকবে না। শ্রমিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু আপনারা বলে থাকেন ট্রেড ইউনিয়ন ইস্যু তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য অন্যতম ইস্যু যা শিল্পের জন্য ব্যাঘাত তৈরি করে। তাহলে শিল্পের এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকের স্বার্থ বা অধিকার কীভাবে সংরক্ষিত হবে?

দুই পক্ষেরই কাজ করার সুযোগ আছে। মালিকদের যেমন দায়িত্ব আছে। ট্রেড ইউনিয়ন লিডারদেরও দায়িত্ব আছে। আসলে ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা আছে, সেটা ইতিবাচকভাবে কনভার্ট করতে তাদেরও কাজ করতে হবে। এবং যে কোনো সিস্যুয়েশনে আমরা তখন সাপোর্ট করব। ওপেক্সকে যদি আপনারা উদাহরণ হিসেবে আনেন, সেখানে কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন ছিল। শিল্প স্বার্থ ও মালিক স্বার্থ দুটিই কিন্তু লিডারদের দেখার আছে। একজন ইউনিয়ন নেতা হিসাবে যদি আপনি মনে করেন শিল্প স্বার্থ আপনি দেখবেন না, দিনের শেষে যদি শিল্পটাই না থাকে তাহলে শ্রমিকের স্বার্র্থ কীভাবে রক্ষা পাবে। আপনাকে শিল্পবান্ধব হতে হবে, শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। শিল্প মালিকদের শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। আবার ইউনিয়ন লিডারদের শিল্পবান্ধব হতে হবে। সব জায়গাতেই ভালোমন্দ লোক আছে। উভয় পক্ষেই এমন হয় অপব্যবহার হতে পারে। এটা মালিকের পক্ষে হতে পারে, আবার শ্রমিকের পক্ষেও হতে পারে। এখানেই এই অরাজকতা বা অনরেস্টটা হয়। এ জন্য আমাদের মালিকদের যেমন সচেতনতা প্রোগ্রাম করা দরকার, একই সঙ্গে শ্রমিক ও শ্রমিক লিডারদেরও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে ট্রেনিং দরকার। এখানে অনেক লিডার আছে, তারা শুরুতেই ভাংচুর শুরু করে দেয়, এটা আসলে কোনো দায়িত্বশীল ব্যবহার না। একটি শিল্পকে ধ্বংস করে, একটি প্রতিষ্ঠানকে আগুন লাগিয়ে দিয়ে আপনি কি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন? না, পারবেন না। একটি শিল্প মালিক কি চায় শিল্প বন্ধ হয়ে যাক, একজন শ্রমিক কি চায় সে যেখানে কাজ করে সেই শিল্প বন্ধ হয়ে যাক! সাধারণ শ্রমিক কিন্তু এটা চায় না। এই সাধারণ শ্রমিককে খুশি করতে আমরা যদি তাদের কি প্রাপ্য দিই, শ্রম আইনে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দিই, শ্রম আইন অনুযায়ী পাবে কি পাবে না এ ব্যাপারে যদি সচেতন করি, তাহলে অধিকারের সঙ্গে দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলা যাবে। অধিকারের সঙ্গে দায়িত্বশীলতা কিন্তু ওতপ্রতভাবে জড়িত। আপনি অধিকারটা নিলেন, দায়িত্ব পালন করলেন না, আপনি সেলারিটা বুঝে নিচ্ছেন প্রডাকশনটাও দিতে হবে।

এখানে উৎপাদনশীলতার বিষয়টি চলে আসছে। আরও পঞ্চাশ বছর যদি এই শিল্পটাকে ধরে রাখতে হয় তাহলে প্রডাকশন ও বিসনেসে ফিজিবল হতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে আপনি বা আমি কেউই ইচ্ছা করে এই শিল্পকে ধরে রাখতে পারব না।

আপনি সম্প্রতি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চালিয়ে নেওয়া যেমন কঠিন, আবার বেলআউট করে বের হয়ে যাওয়া আরও কঠিন। সে ক্ষেত্রে আগে থেকেই আপনাদের প্রস্তুতি কী হতে পারে?

আমরা চাই না কোনো শিল্প বন্ধ হয়ে যাক। মালিকানা বদল হতেই পারে। আমি বলতেই পারি এতদিন ব্যবসা-বাণিজ্য করেছিলাম, এখন আর করব না। যারা ব্যবসা করতে পারছে তারা ব্যবসা করবে। যারা করতে পারছে না তারা চলে যাবে। কিন্তু একটি শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। একটি প্রাণবন্ত ওয়ার্কফোস চলে যাবে এটা কাম্য নয়। পরিস্থিতি যদি এমন হয় তাহলে ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। এ ধরনের প্রত্যেকটা ঘটনা নিবিড়ভাবে গবেষণা করতে হবে। যেমন দুটি বড় বড় লিজেন্টারি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এটা একটি কেস স্টাডি হতে পারে। কী কারণে বন্ধ হচ্ছে- ম্যানেজমেন্টর অদক্ষতা, উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা, শ্রমিক ইস্যু নাকি আর্থসামাজিক সিস্যুয়েশন না কি অন্য কারণ?

এগুলো স্টাডি করলে সরকার যদি কোনো রিডাক্টিভ কোনো নীতি গ্রহণ করতে পারে। তাহলে যাওয়ার সময়টা সম্মানের হয়। যে ব্যক্তিটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা শিল্পের জন্য ব্যয় করলেন, কর্মসংস্থান তথা অর্থনীতির জন্য ব্যয় করলেন। তার বিদায় বেলাটা একটু সম্মানের হওয়া প্রয়োজন ছিল। এই যে কারখানা ভাংচুর হচ্ছে, অবরোধ হচ্ছে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য পুলিশ ডাকা লাগছে এটা তো কারো জন্য সম্মানের হলো না।

সামসুল হক সাহেব স্টাইল ক্রাফট ফ্যাক্টরিটা করার সময় তিনি স্বপ্নেই দেখেননি তার তার ফ্যাক্টরিটার এই পজিসনে দাঁড়াবে। তিনি ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তার পারলৌকিক শান্তি দান করুক। আজকে তার ছেলেরা পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে পারছে না। আমাদের কারোর জন্যই এ রকম অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি কাম্য নয়।

সম্প্রতি আপনারা একটি গবেষণা পত্র লন্স করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের বৈশ্বিক বড় বাজার রয়েছে। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে সে বাজার অধরাই রয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

টেকনিক্যাল টেক্সটাইল একটি ভিন্ন শিল্প। কোভিডের সময় এই ব্যবসাটা দৃশ্যমান হয়েছে। এর প্রডাকশন যেমন ভিন্ন, বিনিয়োগের প্যাটার্নটা ভিন্ন। এ পণ্যের যারা কাস্টমার তারাও ভিন্ন। দুই বছর আগে আমাদের এ কাস্টমার ছিল না। করোনার কারণে মধ্যে যখন প্রচলিত কাজগুলো কমে গিয়েছিল, তখন এখানে এ ধরনের কাজ এখানে শুরু হয়েছিল।

যদি আমাদের দেশ থেকে মাস্ক বানাতে হয়, মেডিকেল গাউন বানাতে হয়, পিপিই বানাতে হয়, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল বানাতে হয় টেকনোলজি ট্রান্সফার করতে হবে। এ জন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক দেবে যেখানে ১০ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে ঘোষণা করা হবে। যারা এ সব পণ্যের কাঁচামাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের আহ্বান জানাবে ‘তোমরা এখানে আসো কাঁচামালগুলো বানাও, এখানে তোমাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে’। এটা টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের জন্য। টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের উপরে যদি সরকারের বিশেষ প্রণোদনা থাকে। সরকারকে এখানে নির্দিষ্ট করতে হবে তারা এখানে কীভাবে কাজ করবে এবং কী চাইবে। এটা সম্ভব করা গেলে এখানে আরও ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিজনেস পাবে, যেখানে আরও কমপক্ষে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ইকোনমিতে মানি সার্কুলেশন আরও বাড়বে। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে পৌঁছানোর যে স্বপ্ন তা ত্বরান্বিত হবে। আমরা মনে করি সরকারের উচিত নির্দিষ্ট করা এ খাতে কারা কারা আসতে পারে এবং কী কী প্রণোদনা দিলে তারা আসবে। এটা তৈরি পোশাক শিল্প থেকে হতে পারে আবার তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে থেকেও হতে পারে। যারা এই নির্দিষ্ট শিল্পে বিনিয়োগ করবে। টেক্সটাইলের সঙ্গে যারা জড়িত আমাদের ক্ষেত্রে এটা সহজ হবে।

তৈরি পোশাক শিল্পে এখন দ্বিতীয় প্রজন্মের যুগ শুরু হয়েছে। তৈরি পোশাক সামনে এগিয়ে দিতে ইতোমধ্যে আপনারা যে সব অভীষ্ট ঠিক করেছেন তা বাস্তবায়নে দ্বিতীয় প্রজন্ম কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ?

আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম আরও ট্যালেন্ডেড। ১৯৮০ থেকে ২০০০, ২০০০ থেকে ২০২১ দুইটা শেগমেন্ট যদি দেখেন তাহলে প্রথম জেনারেশনের এনার্জি ও রেজিলিয়ান যে লক্ষ্য ছিল, দেশ গার্মেন্টসের নুরুল কাদেরের কথা বলেন, মুসা সাহেবের কথা বলেন, তাদের প্রবর্তিত ব্যাক টু ব্যাক এলসির কথা বলেন, বন্ডের কনসেপ্টের কথা বলেন, এগুলো যদি না নিয়ে আসতেন তাহলে তৈরি পোশাক আজকের এই জায়গায় আসত না। সেটা একটা বৈপ্লবিক উদ্যোগ ছিল। তারপর যে কর্মদক্ষতা ছিল- এখানে গত ২০০০ থেকে ২০২০-এর তৈরি পোশাক শিল্পের যে বিপ্লব হয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্পের যে বিকাশ হয়েছে, অবকাঠামোগত নিরাপত্তায় যে কাজগুলো হয়েছে, এটা অকল্পনীয়।

এখন এই যে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিজনেস, আমরা ৫০ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখছি। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন দ্বিতীয় প্রজন্মই করবে। ২০২০ থেকে ২০৪০-এর যে জার্নি সেই জার্নি আমাদের স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছানোর একটি ধাপ। যেটা আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম টেক্সটাইলের সমান্তরাল অন্যান্য বহুমুখি শিল্পের সমন্বয় ঘটাবে। যে শিল্পের যখন বিপ্লব হয়, যেমন ধরুন-ইউরোপে যখন রেনেসাঁ হয় তখন প্রাইমারি ভূমিকা পালন করেছিল টেক্সটাইল। চায়না যান, ইংল্যান্ডে যান, জাপানে যান শিল্প বিপ্লবে টেক্সটাইল প্রাথমিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই শিল্প থেকে দ্বিতীয় জেনারেশন আসছে তারা আরও স্মার্ট, আরও আত্মপ্রত্যয়ী এবং আরও ফিন্যান্সিয়ালি সলভেন্স। কারণ শুরুতে যারা তৈরি পোশাক শুরু করেছিল তার হাতে কিছুই ছিল না। কিন্তু এখন আমাদের সন্তানরা যখন শুরু করবে তারা আমাদের কাছে থেকে সব পাচ্ছে। সরকারের পলিসি, সরকারের নীতিও সহায়তা দিনে দিনে শিল্পবান্ধব হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রজন্ম যারা আসছে সেই ফেসেলিটি পাচ্ছে, ইতোমধ্যে তারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। আমাদের বিজিএমইএ-এর বোর্ডেও সাত-আট জন চলে এসেছে। তারাই সবাই সফল। তাদের জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের বাচ্চারা যারা এখনো বিজনেসে আসেনি এদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আসবে। আমাদের ফারুক ভাইয়ের দুই ছেলে বিজনেসে এসেছে। সে জন্যই ফারুক ভাই বিজিএমইএ-তে সময় দিতে পারছেন।

তৈরি পোশাক শিল্পে যদি সম্ভাবনার কথা বলি সেটা কী? আর সম্ভাবনার কথা বললেন, আরও কিছু যোগ করবেন?

চ্যালেঞ্জই সম্ভাবনা। চ্যালেঞ্জ আছে বলেই সম্ভাবনাকে দেখি।

অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ উন্নতি হয়েছে, হচ্ছে। অবকাঠামো নিয়ে আপনাদের দীর্ঘদিনের কথা বলে আসছেন। বর্তমান সরকার বেশ উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, করছে। অবকাঠামো নিয়ে এখন কী বলবেন?

সড়কের কথা যদি বলি ভার্নারেবল অবস্থায় রয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে ৭২টি কালভার্ট রয়েছে। এই প্রত্যেকটা কালভার্ট ভার্নারেবল। ভার্নারেবল এই অর্থে, কেউ যদি একটা কালভার্ট ভেঙে দেয় তাহলে পুরো ইকোনমির মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। এটা সরকার জানে এ জন্য অবকঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। সরকার এক্সপ্রেস ট্রেনের কথা চিন্তা করছে, এক্সপ্রেসওয়ের কথা চিন্তা করছে। এগুলো হলে ইফিসিয়েন্সি বাড়বে। আমরা ইকোনমিকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছি, আপনি আমি সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ফসল। আজকে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রতিজ্ঞা, সেই প্রতিজ্ঞার ফসল এই পদ্মা সেতু। আপনি যদি এখন মনে করেন এই এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল ২০২২ সালে উদ্বোধন হবে, ২০২৩-এ যেগুলো চালু হবে, এগুলো নিয়ে আমি তো খুবই আশাবাদী। অবকাঠামোগত আমাদের যে ইস্যুগুলো আছে সরকারের আন্তরিকতা, চেষ্টা এবং ফান্ডিংয়ের কারণে ২০২৫ সাল নাগাদ সেগুলো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তখন শিল্প উদ্যোগের যে গতি সেটা আরও ত্বরান্বিত হবে।

মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রগামী ভেসেলগুলো সেখানে আসবে। এখন আমরা কার্গো পাঠিয়ে সিঙ্গাপুর বা অন্য কোথাও থেকে পণ্য আনা নেওয়া করি। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রস্তুত হয়ে গেলে ভেসেলগুলো সেখানে চলে আসবে।

এগুলো যে সাপোর্ট আমাদের দেবে তা বলে শেষ করার মতো নয়। তখন বিদেশ বিনিয়োগ আসবে, দেশিও বিনিয়োগও বাড়বে। এখন এক থেকে ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি করতে যে সময় লাগছে, তখন ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন করতে সে সময় লাগবে না।

 
Electronic Paper