ব্যাংকের অদক্ষতাই প্রণোদনা বিতরণে বাধা

ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

ব্যাংকের অদক্ষতাই প্রণোদনা বিতরণে বাধা

জাফর আহমদ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০২০

print
ব্যাংকের অদক্ষতাই প্রণোদনা বিতরণে বাধা

অধ্যাপক ড. এমএম আকাশ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান। তিনি বাম ঘরানার চিন্তাবিদ ও গবেষক হিসেবে খ্যাত। তিনি রাষ্ট্র-সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতিকে বিচার-বিশ্লেষণ করে থাকেন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে। তবে তার বিশ্লেষণের গভীরতা একাধারে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তনির্ভর, যুক্তিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। খোলা কাগজের সঙ্গে অর্থনীতির নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ

করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় ঘোষিত প্রণোদনার বড় ঋণগুলো বিতরণ হয়ে গেছে। এসএমই, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতের জন্য বরাদ্দ ঋণ বিতরণ পিছিয়ে আছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এসএমই-সহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য প্রণোদনা বিতরণে ব্যাংকগুলোর প্রথম থেকেই অনীহা ছিল। অনুৎসাহ ছিল এই কারণে যে, কস্ট অব অপারেশন বেশি। বড় ঋণের জন্য প্রাপ্ত সুদ এবং ছোট ঋণের জন্য প্রাপ্ত সুদ যেহেতু একই আছে সেহেতু ব্যাংকের জন্য বড় ঋণের ক্ষেত্রে মুনাফা বেশি, ছোট ঋণের ক্ষেত্রে মুনাফা কম। এ কারণে তাদের ছোট ঋণের ক্ষেত্রে উৎসাহ কম। এখন কেউ কেউ বলেন ছোট ঋণের ক্ষেত্রে রেট অব রিটার্ন নেগেটিভ বা জিরো। যদি সত্যি সত্যি তা হয়ে থাকে তাহলে কোনো ব্যাংক কখনই ঋণ বিতরণ করবে না। যত চাপ দিক তারপরও ঋণ বিতরণ করবে না।

কিন্তু ব্যাংকিং খাতের যারা অভিজ্ঞ লোক যারা মালিক পক্ষ না, যারা মনিটর করে যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা মনে করে, প্রাপ্ত রেট অব ইন্টারেস্ট আগের সমানই ১২ শতাংশ আছে কারণ ৬ শতাংশ সাবসিডি দিয়ে ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক তহবির দিচ্ছে। অর্থাৎ একার্থে অর্ধেক ইন্টারেস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করছে। বাকি অর্ধেক যদি কস্ট অব অপারেশনে কাভার করতে না পারে তার অর্থ হচ্ছে ব্যাংক ইন-ইফিসিয়েন্ট ১২ শতাংশ হারেই ছিল। সেই কারণে সে ১২ শতাংশ পেয়েও ছোটদের দিতে পারছে না। অথবা সেখানে দুর্নীতি আছে বা অন্যান্য ব্যাপার আছে যে কারণে সে ব্যর্থ হচ্ছে অথবা ব্যাংক অতি মুনাফা রাখতে চাইছে। সুতরাং এসবও ব্যাংকের একটি ডিসক্রেডিট। তাহলে যেটা করতে হবে সেই সব ইন-ইফিসিয়েন্ট ব্যাংককে টাকা না দিয়ে যে সব ব্যাংক ঋণ দিতে পারছে শুধু সেইসব ব্যাংককে কোভিড প্যাকেজের টাকা ট্রান্সফার করে দিতে হবে।

তাহলে সরকারের প্রথম যে উদ্যোগটা ছিল, সেটা...?
সেটা ব্যর্থ হয়েছে। অন্তত যথাসময়ে যথোচিত মাত্রায় হয়নি। ৯ মাস হয়ে গেল, কতটুকু হয়েছে (এসএমই-র ক্ষেত্রে)?

করোনার অভিঘাতে সামাজিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। করোনাপরবর্তী কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?
কোভিড-১৯ একটি মহামারী; সর্বজনীন বৈশ্বিক মহামারী। এই মহামারীতে শ্রেণি নির্বিশেষে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন। কোভিড-১৯-এর আগের পৃথিবী ও কোভিড ১৯-এর পরের পৃথিবী এ রকম হবে না। আগের বাংলাদেশ ও পরের বাংলাদেশ এরকম হবে না। প্রশ্ন হচ্ছে বড় পরিবর্তনটা কোথায় হবে?
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দুর্বল ও প্রান্তিকজনরা। অর্থনীতিতে এই সময় জাতীয় কর্তব্যের পাশাপাশি আমাদের দু-ধরনের শ্রেণিভিত্তিক বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কাজ আরও দীর্ঘদিন ধরে চালাতে হবে। এক ধরনের কাজ হবে পুনর্বাসনমূলক। আরেক ধরনের কাজ হবে ‘ঘুরে দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করার’ কাজ।

যারা নতুন করে দরিদ্র হয়ে গেলেন, যারা করোনায় চাকরি হারিয়েছেন, যারা পুঁজি ও বাজার হারিয়ে এখন সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন বা না খেয়ে আছেন এদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার বা অনুদানের ব্যবস্থা করতে হবে রাষ্ট্রকে। এদের অনুদানের মাধ্যমে আগে পুনর্বাসিত করতে হবে। যেটুকু তারা হারিয়েছে তা যথাসম্ভব পুষিয়ে দিতে হবে। সবচেয়ে প্রথমে অনুদান দিতে হবে সবচেয়ে নিচে যারা নেমে গেছেন তাদের। প্রশ্ন হচ্ছে তারা কারা- কোথায় বা কোন ‘পকেটগুলো’তে তারা বাস করে- সেই সবকিছু চিহ্নিত করা যাবে কীভাবে? সে জন্য রাষ্ট্র কি আগ্রহী বা প্রস্তুত?

কোভিড ১৯-এর আঘাত শুরুর দিকে অনেক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের বড় একটি অংশ ফিরে আসতে পারেনি। বিশেষ করে যাদের বেশি বেতন ছিল, যারা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গিয়েছিল এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন সেই ধরনের শ্রমিক...।
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কারখানাতে শ্রমিককে হায়ার ও ফায়ার করার পূর্ণ অধিকার মালিকদের আছে। শ্রম আইনে সে অধিকার দেওয়া আছে। শুধু কতগুলো নিয়ম মেনে সেগুলো করতে হয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি এই মন্দার কারণে পৃথিবীব্যাপী অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এখানেও একই অবস্থা। যেতে বাধ্য। তাহলে কী হবে- সেখানে প্রথম দেখতে হবে সেটা নিয়মমাফিক হচ্ছে কিনা। নিয়ম মেনে যেন দেওয়া হয়। তিন মাসের বেতন দিতে হবে। আরও যে সব পাওনা আছে সেগুলো বুঝে দিতে হবে। সেগুলো আমাদের দেখার আছে। অন্যদিকে যদি ওয়েলফেয়ার ক্যাপিটালিজম থাকে, কল্যাণ পুঁজিবাদের নীতি সরকার অনুসরণ করতে চায়, সেটা সংবিধানে সরকারের ঘোষিত নীতি, সেটা যদি বাস্তবায়ন করতে চায় ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের জন্য পুনরায় কাজ পাওয়া পর্যন্ত ভাতা সরকারকে তখন দিতে হবে; আন-এমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট দিতে হবে। কিন্তু ওই আইনটা সরকার এখনো করেনি। তাই সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল থেকে সরকারকে সাপোর্ট দিতে হবে।

সরকার আরেকটা বিষয় দেখতে পারে। এই ছাঁটাইটা বাধ্যতামূলক ছিল কিনা। অর্ডার কমে গেছে, কাজ কমে গেছে, মেশিনের ক্যাপাসিটি মোতাবেক কার্যাদেশ কমে গেছে কিনা, সে অনুযায়ী কাজ করলে মার্কেটের চাহিদার অতিরিক্ত হয়ে যাবে কিনা- এর বেশি উৎপাদন করলে বিক্রি হবে না। দেখতে হবে সে কারণে শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে কিনা। শুধু সেক্ষেত্রে ছাঁটাই অনিবার্য।

কিন্তু রপ্তানির যে চিত্র, ক্রয়াদেশ কমে গিয়েছিল, রপ্তানি কমে গিয়েছিল তা তো আবার প্রায় রিকভার হয়েছে? যদিও শেষের মাসটিতে রপ্তানির কিছুটা ঘাটতি আছে...।
সেটা পরিসংখ্যানের ব্যাপার। যদি তা হয়ও কারখানা ভেদে সাময়িক ‘Frictional’ শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। কিন্তু যে কারখানায় বেড়েছে সেই কারখানার বাড়তি শ্রমিককে গ্রহণ করে নেবে। সেটা একটি মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাপারে, অস্থায়ী সময়ের ব্যাপার। ওই সময়টা পর্যন্ত সরকারকে সমর্থন দিতে হবে। তবে আমার মত হলো- যে কোনো শ্রমিককে হায়ার এবং ফায়ারের অধিকার মালিককে দেওয়া যাবে না। তার আরেকটা কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা নিশ্চিত না করে তাকে ফায়ার করা যাবে না। এটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সংবিধানের সকলের জন্য কর্মসংস্থানের নৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে।

সেটা তো হচ্ছে না?
সেটার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে আদায় করতে হবে। শ্রমিকের বন্ধুদের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাছাড়া কোনো সহজ রাস্তা নেই।

করোনার মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের কষ্ট বেড়েছে। অনেকে ছাঁটাইয়ের শিকার হয়ে রোজগার হারিয়েছে, আয় কমেছে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে গরিব আরও গরিব, ধনী আরও ধনী হবে। সেই হিসাবে যে কোনো সংকট হলে এটা হয়। যে কোনো অর্থনৈতিক সংকট হলে নিচের দিকের মানুষের ওপর বেশি চাপ পড়ে। আমরা তো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি কায়েম করতে পারিনি যে, কোনো সংকট এলে তা সমান হারে সবাই ভাগাভাগি করে নেব। যখন কোনো সংকট আসছে তখন যারা সবল তারা সহ্য করতে পারছে, সংকটকে কেন্দ্র করে তারা উন্নত হচ্ছে। সংকটকে ব্যবহার করে তারা আরও উন্নত হচ্ছে। আর যারা দুর্বল তারা আরও দুর্বল হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির পর্যবেক্ষণেও ধরা পড়ছে কর্মহারা মানুষগুলো নানারকম অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে...।
মন্দা হলে পারে, সংকট হয়। অর্থনৈতিক মন্দা হলে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, সামাজিক সংকটও হয়। সামাজিক সংকট হলে রাজনৈতিক সংকট হয়। আমরা তো আগামীতে এগুলো দেখব। ইতোমধ্যে সামাজিক-রাজনৈতিক সংকটের লক্ষণ শুরু হয়ে গেছে।

এটা থেকে উত্তরণের উপায় কী- পরামর্শ দেবেন?
উত্তরণে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। ধনীদের কাছে ট্যাক্স আদায় করে গরিবদের রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করার দরকার ছিল। সরকারের যে সামাজিক নিরাপত্তার বাজেট সেটাকে যদি দ্বিগুণ করত এবং সেই বাজেট যদি ঠিকমতো বরাদ্দ করার ব্যবস্থা হতো তাহলে প্রান্তিকজন বাঁচতে পারত। ঘুরে দাঁড়াতে পারত। এটা কাঠামোগত অসমতার সমস্যা, এটা কোনো টোটকা সমস্যা নয় যে, টোটকা পথে সমাধান করা যাবে। এটা শ্রেণিগত সমস্যা। কোন শ্রেণি ক্ষমতায় আছে; কোন শ্রেণির স্বার্থ দ্বারা রাষ্ট্র চালিত হয় তার ওপর এসব নির্ভর করছে। যারা ব্যাংকের ব্যবসা করছে, যারা ব্যাংকের মালিক, যারা অতি ধনী তাদের তো কিছু হয়নি। করোনার আঘাত শুরু হওয়া মাত্র তারা সিঙ্গাপুর, কানাডা, ইউকে-সহ বিভিন্ন দেশে চলে গেছে। সেখানে তারা নিরাপদে দিনযাপন করছে বা ভাবছে তা করতে পারবে! এখন টাকা পাচার বেড়েছে।

সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ২৪ জন কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করেছেন। তার কাছে এ ব্যাপারে খবর আছে। তারা সেখানে সম্পদ বানিয়েছেন। গ্লোবাল ইন্টিগ্রিটি ইনডেক্স জানিয়েছে গত ১০ বছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ওই টাকা যদি দেশে থাকত তাহলে এই সংকটের সময় ওই সব টাকা দেশে বিনিয়োগ হতো, এগুলোর বিনিয়োগ বহুমুখী হতো; শুধু গার্মেন্ট খাতে হতো না, কৃষিসহ নানা খাতে এগুলো বিনিয়োগ হতো। সর্বত্র কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। এখন যেটা হয়েছে এক জায়গায় ভূমিকম্প হলে এক বাস্কেটে থাকা সব ডিম ভেঙে যাচ্ছে, ভিন্ন ভিন্ন বাস্কেটে ডিম থাকলে সব ডিম ভেঙে যেত না। এক জায়গায় ভূমিকম্প হলে কোনো ঝুড়ির ভাঙত, কোনো ঝুড়ির ভাঙত না। তাহলে সংকট হতো অন্য রকম। সুতরাং এগুলো কাঠামাগত সমস্যা এবং সামষ্টিক নীতির সমস্যা। এগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার সহজ কোনো দ্রুত সমাধান হবে না। বিপদ আবার আসবে। একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে।

করোনাকালের কৃষির কথা বলুন...।
কৃষিতে এবার উৎপাদন বেশি হয়েছে।

কিন্তু কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিয়ে সমস্যা হয়েছে...।
যেটা হয়েছে বাজার সমস্যার কারণে হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগী কর্তৃক কৃষকের শোষণের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এটা কোনো কঠিন সমস্যা নয়, কৃষকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফড়িয়ার কাছে বিক্রি না করে তাহলে সমাধান সম্ভব। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে একদিকে কৃষি উৎপাদকের সমবায় থাকবে; অন্যদিকে ভোক্তাদের সমবায় থাকবে। কৃষি উৎপাদক ও ভোক্তাদের সমবায়ের মাধ্যমে ই-টেকনোলোজির মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হবে। এবং ট্রাক ও অন্যান্য গুদামের জন্য যতটুকু পুঁজির দরকার সেটুকু পুুঁজি ব্যাংকের মাধ্যমেই আসতে পারে, এনজিওর মাধ্যমে আসতে পারে। আবার অন্য কোনো মাধ্যম থেকেও আসতে পারে। তাহলেই মধ্যস্বত্বভোগীর টাকাটা সারপ্লাস হিসাবে কিছু ভোক্তার কাছে, কিছু কৃষকের কাছে চলে যাবে।

প্রণোদনার একটি অংশ বিতরণ করা হবে এনজিওর মাধ্যমে; সম্প্রতি গভর্নর এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেছেন বড় এনজিওগুলো সরকারের এ প্রণোদনা বিতরণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না...।
সরকারের প্রণোদনা অণুঋণ হিসেবে বিতরণ করলে তো ১২ শতাংশ হারে সুদ নিতে হবে। ১২ শতাংশ হারে বিতরণ করলে তাদের পোষাবে না। তাদের কস্ট অব অপারেশনও হচ্ছে ১২ শতাংশের বেশি।

তার মানে হচ্ছে ঋণের চাহিদা আছে?
চাহিদা আছে গরিবদের ১২ শতাংশ হারে। ৩২ শতাংশ হারে তো চাহিদা নেই। বা ৩০ শতাংশ হারে চাহিদা নেই। আর এনজিওর ১২ শতাংশ হারে বিতরণ করে এনজিওর পোষাবে না। এটা সেই পুরনো তর্কের বিষয়; ব্যাংকের তো পোষায়, পোষানোর কথা। ইন-ইফিসিয়েন্সির কারণে পোষাচ্ছে না। কিন্তু এনজিও ইফিসিয়েন্ট হলেও পোষাবে না। এখানে ক্যালকুলেট করে সরকারকে আরও বেশি সাবসিডি দিতে হবে। সরকারকে বলতে হবে, তোমরা দরিদ্র টার্গেট গ্রুপকে কার্যকর (Effective) ১২ শতাংশ হারে বা নমিনাল ৮ শতাংশ হারে বিতরণ করো। আরও ৮ শতাংশ আমি পুষিয়ে দেব। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ হবে।