কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল

ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১ | ৭ মাঘ ১৪২৭

কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল

জাফর আহমদ ৫:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

print
কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল

মোহাম্মদ আব্দুর রহিম তৈরি পোশাক খাতের সফল উদ্যোক্তা। ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। সহ-সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছেন। ৯১ সালে তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবসা শুরু করেন। চাচাত ভাইয়ের ব্যবসা দেখে তৈরি পোশাক শিল্পের দিকে ঝোঁকেন। নিজেরা ৪ ভাই মিলে গড়ে তোলেন বিশাল শিল্প পরিবার। ডিবিএল গ্রুপে বর্তমান ৩৭ হাজার ৩১২ জন শ্রমিক কর্মরত। পোশাক শিল্পে শ্রমিকের কর্মপরিবেশ ও পরিবেশের উন্নয়নে ২০ বছর ধরে ডিবিএল গ্রুপ কাজ করছে। মোহাম্মদ আব্দুর রহিম নানা বিষয়ে কথা বলেছেন খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ

করোনা মোকাবিলায় প্রণোদনা কতটা কাজে লাগছে?
করোনার আঘাত কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যদি প্রণোদনার প্রভাব বলেন, তাহলে বলব এই যে এখন কারখানা খোলা রেখেছিÑ এটা তারই সুফল। সরকারপ্রধান যদি করোনা মোকাবিলার জন্য, শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা না করতেন তাহলে আজ অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেত।
আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। যতই ক্ষতিগ্রস্ত হই না কেন আমরা তো এখনো এক্সপোর্ট করে যাচ্ছি। এর একটাই কারণÑ সরকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল তার জন্য আমরা সারভাইব করে যাচ্ছি।

করোনার অভিঘাত অনেকটা কাটিয়ে উঠেছেন, এজিএম-এ আবার সহায়তার কথা বললেন?
এজিএম-এ আমরা যেটা বলতে চেয়েছি- করোনার দ্বিতীয় আঘাত মোকাবিলা করার জন্য আরও খানিক সুবিধা চাচ্ছিলাম। এ সুবিধা নতুন কোনো প্রণোদনা নয়। পুরাতন যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল সেই টাকা পরিশোধের জন্য গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাসসহ আরও এক বছর সময় দেওয়া হয়েছিল। সেটা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হোক।

এখন যেটা হলো, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার কারণে আমাদের ক্রয়াদেশ ১০ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এই কমে যাওয়ার কারণে আমাদের অনেক কারখানা আবার নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। আমরা চাচ্ছি প্রণোদনার পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছয় মাসের জায়গায় ৫ বছর করা হোক। তাহলে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের কারণে যে আঘাতটা আসছে সেটা আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

আর একটি বিষয় হলো- আমাদের ব্যাক টু ব্যাক এলসির বেশ ট্র্যাক হয়ে গেছে। কিছু আসেনি, কিছু পণ্য এখানে বানিয়ে রেখেছি সেগুলো রপ্তানি করা যায়নি। বিজনেস করে আমরাই আস্তে আস্তে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে দেব। আমরা দাবি জানাচ্ছি এগুলো ব্লক অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং ইন্টারেস্ট ফ্রি করে দেওয়ার জন্য। এগুলো সবই কোভিডের কারণে হয়েছে। কোভিডের আগের ঋণের ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। শুধু কোভিডের কারণে যে ক্রয়াদেশগুলো ডিসকাউন্ট হয়েছে, স্টকলট হয়ে গেছে বা তারা ডেলিভারি নেয়নি- সেগুলোর ব্যাপারে সহায়তার প্রয়োজন।

করোনার মোকাবিলা করার জন্য প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। প্যাকেজের বড় ঋণের ৩৩ হাজার কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই বিতরণ হয়ে গেছে। ছোট্ট ঋণগুলো অর্ধেকও হয়নি। তৈরি পোশাক শিল্পে এর কী প্রভাব দেখছেন?
করোনায় শুধু তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া বা অন্যান্য বড় শিল্পই নয় প্রতিটা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছোট্ট ছোট্ট যে সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারাও অর্থনীতিতে বিভিন্নভাবে কন্ট্রিবিউট করত। করোনার কারণে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে তারা সে সহায়তা পাচ্ছে না। ইভেন তৈরি পোশাক খাতের ছোট্ট ছোট্ট উদ্যোক্তারা তা পাচ্ছে না।

প্রণোদনা বিতরণ যখন শুরু করল তখন সবাই পায়নি। আমাদের একেবারে দুর্বল কারখানা, ছোট্ট কারখানাগুলোর অনেকে টাকাই পায়নি। আমাদের মধ্যে যাদের ব্যাংকে টার্নওভার ভালো, ব্যাংকের সঙ্গে ডকুমেন্টেশন ভালো তাদের সমস্যা হয়নি। কিন্তু ছোট্টরা অনেকেই পায়নি। প্রণোদনা সহায়তা বিতরণের জন্য যে সব সহায়তা প্রয়োজন ছোট্ট ও দুর্বল কারখানাগুলোর অনেকেই কিন্তু পূরণ করতে পারছে না। এ জন্য ফান্ড পাচ্ছে না। তহবিল বিতরণে আমরা বলছিলাম ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সহজিকরণ ও স্বচ্ছতা করা দরকার। দুটি একসঙ্গে না হলে ঋণ হাতে পৌঁছাবে না। যে উদ্দেশ্যে প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছিল সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না। হচ্ছেও তাই।

করোনার মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?
সে সময় যারা সমালোচনা করেছিল তা তখন পরিস্থিতির কারণে করেছিল। তাছাড়া মনোভঙ্গির একটি ব্যাপার ছিল। সে সময় করোনা সারা বিশ্বে ভয়ানক অবস্থা ধারণ করেছিল, এখনো কোনো কোনো দেশে এ অবস্থা বিরাজমান। এদিকে বাংলাদেশ খুবই ঘনবসতি দেশ। তার ওপর তৈরি পোশাক শিল্প হচ্ছে শ্রমঘন শিল্প। কোনো কোনো কারখানায় ৫০০, ১০০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার শ্রমিক পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করেন। তারা যেখানে বসবাস করে সেখানেও দূরত্ব বজায় রেখে বসবাস করে না। এখানে একজন শ্রমিক যদি আক্রান্ত হয় তাহলে পুরো কারখানা আক্রান্ত হবে। আর কারখানা থেকে পুরো এলাকা এভাবে সারা দেশ অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে যাবে। এ রকম পরিস্থিতিতে তারা সমালোচনা করেছিল। সেই সময় যারা সমালোচনা করেছিল, আমি বলব ওই সময়ের জন্য ঠিক ছিল।

একটি সুখের বিষয় হলো, আমাদের শ্রমিক ভাই-বোন ও খেটেখাওয়া মানুষগুলোর ইমিউনিটি অনেক স্ট্রং। করোনা মোকাবিলায় পুরো পৃথিবী ক্লান্ত। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে। কিন্তু আমাদের মতো সর্বোচ্চ শ্রমঘন শিল্প তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের স্পর্শ করতে পারেনি। তারা সমালোচনা করেছে, তখন গ্লোবাল একটি বিপদ পরিস্থিতি ছিল। যখন দেখল কারখানা খুলে দেওয়া হলো তখন দেখা গেল দেশে এত মানুষ মারা গেলে কিন্তু কারখানাতে কোনো শ্রমিক কোভিডের কারণে মারা যায়নি। কোনো রেকর্ড নেই। মানুষ তখন বুঝল, তৈরি পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল। এখন সবাই উপলব্ধি করছে। আমরা যদি তখন কারখানা চার-পাঁচ মাস বন্ধ রাখতাম তাহলে দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ হয়ে যেত।

আইএমএফ বলছে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল। দেশের প্রধান শিল্প খাতের উদ্যোক্তা নেতা হিসেবে বিষয়টি কীভাবে দেখবেন?
যখন আমরা কারখানা খুলে দিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কারখানা খুলে দিন কিন্তু শ্রমিকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খুলতে হবে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা যেন শক্তভাবে নেওয়া হয়। আমরা সে ব্যবস্থা করেছিলাম। মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এজন্য ডাক্তার ও গাড়ির ব্যবস্থা রেখেছিলাম। যাতে শ্রমিককে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। সরকারপ্রধানের যে নির্দেশনা ছিল, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে নির্দেশনা ছিল আমরা কঠোরভাবে মেনে কারখানা খুলে রেখেছি। এজন্য যদিও আমাদের কিছু ব্যয় বেড়ে গেছে। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি।

করোনার মধ্য দিয়ে আপনারা কী শিক্ষা পেলেন?
অভিঘাতের তো শেষ নেই। শেষ কথা হলো, স্বাস্থ্য ভালো থাকে তো সব ভালো। জীবনে সঞ্চয়ের দরকার আছে। আমরা বিনিয়োগ করে যাচ্ছি। করোনা আঘাত যখন শুরু হয়, আমাদের সাংবাদিক ভাইবোন ও সুশীল সমাজের লোকজন বলেছিলেন, আপনারা এক বিলিয়ন থেকে রপ্তানি শুরু করে শত বিলিয়ন রপ্তানি করছেন, বড় বড় গাড়ি চালাচ্ছেন, বড় বড় বাড়িতে থাকছেন শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই? এই যে সমালোচনা কথাগুলো, এর উত্তর কিন্তু ভেরি সিম্পল। আমি ১৯৯১-এ যখন কারখানা শুরু করি তখন মাত্র দেড়শ’ শ্রমিক ছিল। মেশিনও ছিল এমন একশ’ থেকে দেড়শ’। আজকে আমার মেশিন সংখ্যা হয়তো দশ হাজার। এই টাকাটা কোত্থেকে আসছে, এই টাকা কি পুরোটা ব্যাংকের? নিশ্চয়ই না। আমরা রপ্তানি থেকে যখন যেটা পেয়েছি, ইনকাম করেছি সেটা বিনিয়োগ করেছি। ঢাকা শহরের মধ্যে একটি ভবনের মধ্যে একটি ফ্লোর নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তারপর যখন ব্যবসা বড় হয়েছে তখন ঢাকার বাইরে দু’বিঘা, চার বিঘা, দশ বিঘা- যে যেমন পেরেছি জমি কিনেছি। কমপ্লায়েন্স কারখানার করার জন্য। আগে যখন ছোট্ট একটি ফ্লোরে কারখানা শুরু করেছিলাম এখন সেখানে আট-দশ তলা ভবন হচ্ছে; এগুলো কোত্থেকে আসছে! আমরা যদি সঞ্চয় করে রেখে দিতাম তাহলে এই কাঠামো, এই কর্মসংস্থান হতো না। আমরা যদি রপ্তানি আয় না বাড়াতাম তাহলে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যে ভূমিকা রাখছি, সেটা হতো না।

এখন আমি যেটা করব একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব। উপার্জনের একটি অংশ সঞ্চয় থাকতে হবে। আগামী ১০ বছর কী করব তার একটি বাজেট হবে। কী পরিমাণ কর্মসংস্থান করব তার একটি বাজেট হয়ে যাবে। আগামী ১০ বছরে কী পরিমাণ মেশিন কিনব; কী পরিমাণ সঞ্চয় রাখব, যা আপদকালে কাজে দেবে। আগামীতে আবার যদি কোনো দুর্যোগ আসে তখন ব্যাংক বা সরকারের কাছে থেকে ঋণ নিয়ে শ্রমিকের বেতন না দিতে হয়; নিজের সঞ্চয় থেকে তিন বা চার মাস শ্রমিকের বেতন দিতে পারি। ওই সঞ্চয় করব। এই সঞ্চয়ের পর যদি টাকা থাকে জমি কিনব, ভবন বানাব মেশিন ইনপুট করব, শ্রমিক নিয়োগ করব।

করোনার আঘাতে যখন কারখানা বন্ধ হতে থাকল, লে-অফ হতে শুরু হলো তখন অনেক শ্রমিক কর্ম হারিয়েছিল। পরবর্তীকালে ক্রয়াদেশ ফিরে এলে শ্রমিকরা কাজ পেয়েছে?
আমরা এপ্রিল মাসে একেবারে লকডাউন করে দিলাম। তারপর ক্রয়াদেশগুলো বাতিল ও স্থগিত হওয়া শুরু করল। ওই সময় কিন্তু অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, অনেক শ্রমিকের কাজ চলে গেল। স্যালারি যতদূর দিতে পেরেছি তত দিয়েছি। আপনি দেখে থাকবেন মে মাসের শেষে জুন মাসের শুরুতে আবার নতুন করে আবার ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করল। স্থগিত ক্রয়াদেশ শুরু হলো।

আপনি যদি দেখেন আমাদের নীট গার্মেন্ট কারখানা আছে, ওভেন কারখানা আছে আমাদের সোয়েটার কারখানা আছে। ডেনিমের মতো কারখানাসহ অনেকগুলো আইটেম আছে। এসব কারখানাতে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় শতভাগ ক্রয়াদেশ চলে এলো, বিশেষ করে নীট-এর। জুন মাসের শিপমেন্ট, জুলাই মাসের শিপমেন্ট, আগস্ট মাসেরও শিপমেন্ট এর শতভাগ থেকে শুরু করে একশ পাঁচ, একশ’ দশ ভাগ পর্যন্ত বুকিং চলে আসছে। এ অবস্থায় তো শ্রমিক ছাড়া উৎপাদন হবে না। ক্রয়াদেশ ফেরার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের নিয়োগ শুরু হয়েছিল। এটা তো অর্থনীতির ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের মতো ব্যাপার। ক্রয়াদেশ এলে শ্রমিকের দরকার হবেই।

আমরা দক্ষ শ্রমিককে ছেড়ে দিতে চাই না। অনেক আগে থেকেই তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের অভাব আছে। আমাদের যেভাবে গ্রোথ হচ্ছিল সেভাবে শ্রমিক অপারেটর পাইনি। কোভিডের কারণে যে সব শ্রমিক বাদ গেল জুন-জুলাইয়ে এসে আবার বিনিয়োগ শুরু হয়ে গেল।

করোনার ভ্যাকসিন এসে যাচ্ছে। এতে রপ্তানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে?
হ্যাঁ, ভ্যাকসিন এসে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ বুশ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর প্রভাব বাজারে পড়েছে। এটা সেখানকার বাজারে যেমন এসেছে, আমাদের এখানেও এসেছে। এই যে বিখ্যাত বিখ্যাত মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গেছে। ভ্যাকসিন এসে গেছে, যেকোনো সময় ভ্যাকসিন হাতে এসে যাবে, কোনো ভয় নেই। দুই কোটি ভ্যাকসিন এখনই আমেরিকায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যেও দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি স্বস্তির জায়গা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যতটা ভয় পাচ্ছি ততটা নাও হতে পারে।

তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক ইস্যুটি সবচেয়ে আলোচিত। শ্রমিকদের কল্যাণে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?
এখন যে কমপ্লায়েন্স নিয়ে কথা হচ্ছে আজ থেকে ২০ আগে থেকে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। শুরু থেকে আমরা কমপ্লায়েন্সের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এজন্য সাসটেইনেবিলিটি একটি বিভাগ আছে। এ বিষয়ে আমরা পাইওনিয়র বলতে পারেন। শ্রমিকদের সঙ্গে অনেক বিষয়ে কাজ করছি। শ্রমিক ও পরিবেশ ইস্যুতে ইউএনডিবি, ইউনেসকো, আইএফসি-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা কার্বন নিয়ে কাজ করছি, পানি নিয়ে কাজ করছি। অনেক আগে থেকেই এসব কাজ করছি। অথচ এসব বিষয় গত চার-পাঁচ বছর ধরে আলোচিত হচ্ছে।

এটা মনোভঙ্গির ব্যাপার। আপনি যদি প্রতিবেশী নিয়ে ভাবেন, সমাজকে নিয়ে ভাবেন, দেশকে নিয়ে ভাবেন তাহলে এগুলো করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন শুধু ইনকাম করতে এসেছেন তাহলে হবে না। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সে চিন্তা থেকেই আমরা এটা বলে থাকি।

শ্রমিকদের ন্যায্য মূল্যে পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কারখানার ভিতরে ফেয়ার প্রাইজ শপের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বলা যেতে পারে এ ব্যাপারে আমরা পাইওনিয়র। এর মাধ্যমে শ্রমিকরা কম দামে সঠিক পণ্যটি পাচ্ছে। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই করছেন।

শ্রমিক সন্তানদের বৃত্তি দিচ্ছি। এমনকি তাদের সন্তানরা কোন বিষয়ে লেখাপড়া করবে সে ব্যাপারেও বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ব্যবস্থা করেছি, কাউন্সিলিং করছি। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে এসে শ্রমিক সন্তানদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পরামর্শ দিচ্ছি। এর মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা পাচ্ছে। যদি কোনো শ্রমিক সন্তান মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চান্স পায় তাহলে আমাদের কারখানার উদ্যোগে খরচ বহন করা হচ্ছে। এগুলো সবই করা হচ্ছে শ্রমিকদের বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।

সব শেষে কী বলবেন?
বাঙালি সাহসী জাতি, বীরের জাতি, সংগ্রামী জাতি। যুদ্ধ করে জেতা জাতি। যতবারই আমাদের সামনে সমস্যা আসবে- অতিক্রম করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। এটা আমরা খুব ভালোভাবে বিশ্বাস করি। সামনে যেকোনো সমস্যা আমাদের সরকারপ্রধান যদি বিবেচনায় নেন, একসঙ্গে মিলে কাজ করেন তাহলে সেটা মোকাবিলা করা সহজ হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।