করোনার নতুন ধাক্কা সামলানো যাবে

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

করোনার নতুন ধাক্কা সামলানো যাবে

জাফর আহমদ ৪:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০২০

print
করোনার নতুন ধাক্কা সামলানো যাবে

অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের ধারক। মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংকে নিয়ে গেছেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। তিনি কৃষি ঋণ বিতরণে সব ব্যাংকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গরিবের গভর্নর হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক খোলা
কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ

নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু দুই-ই বেড়েছে। জীবন ও অর্থনীতি দুই-এ আঘাত লাগছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
নতুন করে করোনার ধাক্কা যখন লেগেছে তখন আমরা এ বিষয়টিতে অনেক পরিণত। প্রথম ধাক্কা যখন এসেছে তখন আমরা প্রস্তুত ছিলাম না- করোনার অভিঘাত কেমন হবে এবং তা কীভাবে সামাল দেব। কিন্তু সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠেছি, আমরা সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগও সেভাবে প্রস্তুত ছিল না। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত ছিল না। গত কয়েক মাস এ সব করে আমরা অনেক শিখেছি। সেই অভিজ্ঞতা যদি কাজে লাগাতে পারি তাহলে দ্বিতীয় ধাক্কায় স্বাস্থ্যগত যে সমস্যাগুলো আছে তা মোকাবিলা করা যাবে। তবে সব সময় মনিটরিং দরকার। বিশেষ করে প্রাইভেট হাসপাতালগুলো নিয়মের মধ্যে কাজ করছে কিনা, প্রয়োজনে বেশি বা নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি নিচ্ছে কিনা-এগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। যেখানে ঘাটতি থাকে সে ঘাটতি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়-সেটাও দেখবে।
আর স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যে সুরক্ষা সেটা অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের ইনসেনটিভ প্যাকেজ এক সময় চালু করা হয়েছিল। এই ইনসেনটিভ আগামী কয়েকটা মাসের জন্য হলেও চালু করতে হবে।

অর্থনীতিতে যদি শিক্ষার কথা বলি- 
অর্থনীতির কথা যদি বলি, সেখানে আমরা এই করোনাকালে অনেক কিছু শিখেছি। কোনটা করা দরকার, কোনটা করা দরকার না, কখন করা দরকার- তা এই কয় মাসে আমরা শিখেছি। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে যে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়েছিল তাতে অর্থনীতি অনেকটাই সামলে ওঠা সম্ভব হয়েছে। নভেম্বর মাস নাগাদ আমরা রপ্তানি আয়ে প্রায় এক শতাংশ ইতিবাচক ধারায় আছি। এটি একটি ভালো দিক। তবে সামনে চ্যালেঞ্জ আছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় আমরা বেশি রপ্তানি করি, সেখানকার অবস্থার যদি অবনতি ঘটে, যদি চাহিদা কমে যায়, তার খানিকটা প্রভাব আমাদের রপ্তানিতে পড়বে।

যুক্তরাজ্য ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে, অন্যান্য দেশও শিগগির দেবে। নিশ্চয়ই এর একটা প্রভাব পড়বে?
যেহেতু ভ্যাকসিন আসা শুরু করেছে। ইউরোপে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হচ্ছে, রাশিয়াতেও চালু হয়ে গেছে, অন্যান্য দেশেও চালু হচ্ছে। এর একটি ইতিবাচক প্রভাব আমাদের আত্মবিশ্বাসের ওপর পড়বে। ব্যবসায় যে আস্থার প্রয়োজন তা ব্যবসাতে পড়বে এবং তাই যদি পড়ে তাহলে সাময়িকভাবে এক-দেড় মাসের জন্য খানিক থাক্কা লাগলেও সারা বছরের রপ্তানি কম হবে না। সে জন্য আমাদের শিল্পকারখানা চালু রাখতে হবে। যেমন করোনার শুরুর দিকে সরকারের হস্তক্ষেপে সব কারখানা চালু ছিল। সেটি একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবারও যদি প্রয়োজন হয়, আরেক দফা প্রণোদনাও যদি দিতে হয় তারপরও কলকারখানাগুলো চালু রাখতে হবে।

অভিজ্ঞতার কথা বলছেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের পথে অর্থনীতিতে ভালো খবর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আইএমএফ বলছে আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে অর্থনীতিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা পারফর্ম করেছে বাংলাদেশ। এটা সামগ্রিক প্রচেষ্টার ফসল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চৌকস নেতৃত্বে করোনার অভিঘাতকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। একদিকে ক্ষতিকে সর্বনিম্নে ধরে রেখে মানুষের জীবন রক্ষা করা, অন্যদিকে অর্থনীতি সচল রাখা গেছে। করোনা যখন ভীতির পরিবেশ সৃস্টি করে তখন প্রণোদনার ঘোষণা সাহস জুগিয়েছে।
প্রণোদনার কারণে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেগুলেটরি ব্যবস্থা শিথিল করার মাধ্যমে অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ক্যাশ রিজার্ভ ব্যবস্থা, যেমন সিআরআর, এসএলআর, এডিআর এগুলো অত্যন্ত নমনীয় করেছে। এর মাধ্যমে বাজারে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার সরবরাহ বেড়েছে।

আর প্রবাসী আয়-রেমিট্যান্সের প্রণোদনা দিয়ে ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করতে পেরেছে। প্রবাসী আয় আসা মানে দুটি কাজ হয়। প্রথমত : বাজারে যথেষ্ট অর্থ ঢুকে যায়, তারল্য বাড়ে।

দ্বিতীয়ত : হলো- গ্রামে টাকা যায়। এতে স্থানীয় চাহিদা অক্ষুণ আছে, ভোগ অক্ষুণ আছে। এ কারণে স্থানীয় অর্থনীতি স্থিতিশীল আছে। এ সব কারণে প্রবৃদ্ধি আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে বেশি হয়েছে। আইএমএফের মতে, সারা বিশ্বের মধ্যে আমরা এখন ষষ্ঠতম সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এক নম্বর দেশ। এশিয়ার মধ্যে চার নম্বর।

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী অন্তর্ভুক্তিমূলক কৌশল গ্রহণ করেছেন। সেই কৌশল গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার কারণে আমাদের ডিজিটাল অবকাঠামোর বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে এবং তার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল ফাইন্যান্সিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। যার ফলে মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, রিয়েল টাইম ব্যাংকিং অব সেটেলমেন্ট, অটোমেটিক ক্লিয়ার হাউজ, এ সব কারণে অর্থনীতিতে টাকার লেনদেনের গতি অনেক বেড়েছে। এর ফলে অর্থনীতির একটি অন্তর্নিহিত শক্তি তৈরি হয়েছে। যা করোনা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রণোদনা বিতরণে কথা উঠেছে বড়রা পাচ্ছে, ছোটরা পাচ্ছে না। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রীও প্রণোদনা সহায়তা বিতরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখবেন?
ব্যাংকগুলো বড়দের কাছে প্রণোদনা হয়তো পৌঁছে দিতে পেরেছে। কিন্তু ছোটদের কাছে সেভাবে পৌঁছে দিতে পারেনি। ছোট বা মাঝারিদের জন্য ব্যাংকগুলোর সক্রিয় হওয়া উচিত।

ইমপ্লিমেন্টেশন সেভাবে হচ্ছে না। ছোট বা ক্ষুদ্রদের কাছে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্ধেকও যায়নি। সে জন্য যেটা করা দরকার বাংলাদেশ ব্যাংক যেটা শুরু করেছে, আমি শুনেছি।

আমি দায়িত্বে থাকার সময়ে আমদানি-রপ্তানিতে এলসি খোলার জন্য আমরা অনলাইন ড্যাস বোর্ড চালু করেছি। এর আলোকে আরও একটি পরিকল্পনা করেছিলাম ডিজিটাল ড্যাসবোর্ড তৈরি করে মনিটর করার জন্য। আমি শুনেছি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকও এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, করবে। এটা তাড়াতাড়ি শুরু করা উচিত। দেশের যে কোনো প্রান্তে শাখা থেকে বলবে- তারা কতটি আবেদন পেয়েছে, কত বিতরণ করেছে এবং কতটা তারা বিতরণ করতে পারেনি। এ বিষয়গুলো যদি অনলাইনে শাখা থেকে এন্ট্রি করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয় থেকেই মনিটারিং করতে পারবে। সহজেই বলে দেওয়া যাবে কোন ব্যাংক কতটুকু বিতরণ করেছে, কতটুকু বাকি আছে। কারা এগিয়ে আছে, কারা পিছনে পড়ে গেছে। যারা পিছনে পড়ছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচনা করবে- অন্যরা ভালো করছে, তোমাদের বিতরণ এত কম কেন? এভাবে মরিটরিং করতে হবে।

দ্বিতীয়ত হলো- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে শাখা আছে। সেখানে একজন করে নির্বাহী পরিচালক নেতৃত্ব দেন। তার এলাকায় যতগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা আছে সেগুলো ইন্সপেক্টর পাঠিয়ে দেখবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে তাদের নিয়মনীতিগুলো সহজ করা হয়েছে কিনা; কীভাবে একই ফরমেটে এপ্লিকেশন করা যায়; কোন কাগজ লাগে সেগুলো শাখায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা, দিলে তারা কত মানুষকে সহযোগিতা করেছে। কারা আবেদন করেছে, কারা পেয়েছে, যারা পায়নি তারা কেন পায়নি? এ সব তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে এসে একটা স্পেশাল আঞ্চলিক সম্মেলন করা যেতে পারে। সেখানে ম্যানেজাররা থাকবেন, ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধানরাও থাকবেন, বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে। এভাবে যদি পর্যবেক্ষণ করা যায়- এতে ভালো ফল আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এটাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুনেছি। আশা করি দ্রুত কার্যকর করবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন ছোট গ্রাহকদের ব্যাংকে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে ছোট গ্রাহকের কাছে প্রণোদনার সহায়তা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
পরিকল্পনামন্ত্রী যেটা বলেছেন-অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তারা টাকা পায় না। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাদের বিজনেস অ্যাকাউন্ট নেই তারা রিটেইল অ্যাকাউন্ট বা পারসোনাল অ্যাকাউন্টেও ট্রান্সফার করতে পারবে। আমি মনে করি এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। এগুলোকে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ই-কমার্স এম-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিন্তু ঘরে বসেই ব্যবসা করছে। তাদের যদি শর্ত দেওয়া হয় তাদের কমার্শিয়াল অ্যাকাউন্ট লাগবে, তারা তো দিতে পারবে না। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলায় সহযোগিতা করা উচিত। আজকাল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্যালি কেওয়াইসি করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। সব ব্যাংকই করতে পারে এবং করা উচিত। কেওয়াইসি করে এনআইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টকেই ট্রেড লাইসেন্স হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং ওদের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। হয়তো বড় অংকের টাকা দেওয়ার দরকার নেই, মূলধনে বড় অংকের টাকা দেওয়ার দরকার নেই।
আরেকটা বিষয় চলতি মূলধন দিলে চলবে না। ওদের দরকার ট্রাম লোন। আমার মনে হয় প্রণোদনা প্যাকেজের যে সময়টা সেটা খানিক বাড়ানো উচিত। আর এক বছরের জন্য যেটা বলা হচ্ছে সেটা দুই বছরের করা উচিত। যাতে তারা মনে করতে পারে দুই বছর সময়ের মধ্যে দিতে পারবে। যাতে তারা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে। এ রকম প্র্যাকটিক্যাল ক্র্যাডিবল উদ্যোগ নিলে এই প্রণোদনার সুফল মিলবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে আকাক্সক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাবলম্বী হব, আমাদের চাহিদা বাড়বে, মানুষের আয়-রোজগার বাড়বে। এগুলো সবই পূরণ করা সম্ভব হবে। এগুলো করার জন্য আরও বেশি নজরদারির প্রয়োজন আছে। এগুলো শুধু মুখে বললে চলবে না, মনিটরিং করা দরকার।

ছোট ঋণ বিতরণ সহজ করতে বিসিক, পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণী সংস্থগুলোকে আরও বেশি হারে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তাব উঠছে। আপনি কি বলবেন?
ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাগুলোর জন্য তিন হাজার কোটি টাকার একটি নবায়নযোগ্য প্রণোদনা প্যাকেজ আছে। এমএফআই-এমআরএ- এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কাছে অনেকে আবেদন করেছে। ব্যাংক যেটা করছে, অনেক সময়ই তারা তাড়াতাড়ি দিচ্ছে না। তারা বলছে তাদের কাছে এফডিআর রাখতে হবে। নিয়ম হলো যদি ১০ কোটি টাকা চাও, এর মধ্যে ১০ শতাংশ এফডিআর নাও তার মানে তুমি ১০ কোটি টাকা দিচ্ছ না, ৯ কোটি টাকা দিচ্ছ। এরকম শর্ত যদি ব্যাংকগুলো ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে না দেয়, বড়রা সামাল দিতে পারবে, ছোটরা পারবে না। এগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দেখা উচিত টাকা দিতে যেন কোনো রকম কালক্ষেপণ না করা হয়।

এমএফআই গ্রামের একেবারে দরিদ্র মানুষগুলোকে ঋণ দিতে কোন ট্রেড লাইসেন্স চায় না। এ সব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের খুবই নিবিড়ভাবে চেনে। একেবারে তাদের কাছে চলে যায়। কোন গ্রাহকের একটি গরু কিনতে হলে একেবারে বাজারে পর্যন্ত চলে যায়। ঠিক গরুটি কেনা হলো কিনা, ঠিক গোয়ালে রাখা হলো কিনা- সেটাও এমএফআইগুলো দেখে দেয়। এ জন্য তাদের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর একটি পার্টনারশিপ তৈরি করতে হবে। অবশ্য ব্যাংকগুলোর পার্টনারশিপ আছে এগুলো মনিটর করা দরকার।

আর সবচেয়ে ভালো দিকগুলো হলো- ওই তিন হাজার কোটি সেটা কিন্তু নবায়নযোগ্য। তিন হাজার কোটি টাকা যদি শেষ হয়ে যায় আবারও টাকা পাবে। টাকা চাইলে ব্যাংক টাকা দিতে পারে। এ জন্য এখানে পার্টনারশিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আরও পার্টনারশিপ গড়ে তোলা দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক একটি এক্সপেরিমেন্টাল অনুমতি দিয়েছে। সেটা হলো সিটি ব্যাংক এবং বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন হিসেবে তারা আর্টিফিশিয়ালি ইন্টেলিজেন্ট ব্যবহার করে মাত্র পাঁচ মিনিটে অনুমোদন দেবে।

কোন গ্রাহক তার বিকাশের তিন মাসের লেনদেনের তথ্য দিতে পারলে, এ তথ্য বিকাশেই আছে, যে কোন মোবাইল ব্যাংকিংয়েও এ তথ্য জমা আছে। তারা যদি ব্যাংককে হ্যাঁ বলে, ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি করে তিন/চার মিনিটের পাস হয়ে যাবে এবং মোবাইল ওয়ালেটে টাকা চলে যাবে। এই টাকাটা তিন মাসের জন্য বা ছয় মাসের জন্য সে নেবে। প্রতিমাসে একটা কিস্তি শোধ করে দেবে। প্রয়োজনে আবার সে টাকা নেবে। এ রকম করে ছোটদের জন্য ১০ হাজার টাকা, মাঝারিদের জন্য ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে পারবে। আপাতত যে চাইবে তাকেই দেওয়ার জন্য একটি সিসটেম দাঁড় করিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীকালে এটা আরও বাড়ানো যাবে। এরকম যদি করা যায় তাহলে আমার মনে হয় ছোট গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।

ঠিকই বলেছে এমএফআইয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ বাড়ানো, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ বাড়িয়ে কাজ করতে পারলে আমার মনে হয় ছোটদের কাছে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

করোনায় প্রণোদনা বিতরণে মোবাইল ফাইন্যান্সিং বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে-
এ খাতের জন্য প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকা আছে। সেখানকার মাত্র ছয় বা সাত হাজার কোটি টাকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সেখানে থেকে যদি তিন-চার হাজার কোটি টাকা আলাদা এক্সপেরিমেন্টাল তহবিল দেওয়া শুরু করা যায়। তাহলে ছোটদের কাছে তাড়াতাড়ি প্রণোদনা পৌঁছে যাবে। এগুলো চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিংবা ট্রাম লোন হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। এভাবে নতুনত্ব আনতে হবে।

এখন কৃষিতে অর্থ সহায়তায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে?
সামনে বোরো মৌসুম আসছে। বোরো ধান খুবই খরচনির্ভর। সেখানে কৃষকের বীজ, সার, সম্প্রসারণের খরচসহ বেশ কিছু খরচ প্রয়োজন হবে। এ জন্য কৃষিঋণ যেন সঠিকভাবে বিতরণ হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ভালো করছে, কৃষি ব্যাংক ভালো করছে। প্রাইভেট ব্যাংক এমনকি বিদেশি ব্যাংকগুলোরও বিতরণ করার কথা।

আপনাকে ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ।