ইন্স্যুরেন্সে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭

ইন্স্যুরেন্সে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে

টাকার বাজার ডেস্ক ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

print
ইন্স্যুরেন্সে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ইন্স্যুরেন্স খাত। স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ সময় ষাট দশকে বঙ্গবন্ধু রাজনীতির পাশাপাশি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নেন। চাকরির আড়ালে চলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তিনি দেশব্যাপী সফর করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতেন, সংগঠিত করতেন। উদ্যোক্তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। যা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর সেই ইন্স্যুরেন্স খাত এখন কেমন আছে, করোনা মহামারীকে কীভাবে মোকাবিলা করছে- এ বিষয়ে কথা হয় ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ কবির হোসেনের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খোলা কাগজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ

করোনা মহামারী বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিকে বিপর্যন্ত করেছে। ইন্সু্যুরেন্স খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বীমা খাতের ক্ষতিকে কীভাবে দেখছেন?
ইন্স্যুরেন্স খাতকে কেমন ক্ষতি করেছে তা বলার আগে একটু ব্যাখ্যা জরুরি। ইন্স্যুরেন্স দুই ধরনের কাজ করে থাকে, সবার আগে সে কথা বলা প্রয়োজন। ইন্স্যুরেন্সে লাইফ ও নন লাইফ- এ দুটি বিষয় আছে। নন-লাইফ হচ্ছে যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়টি থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্য যত ভালো হবে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স তত ভালো ব্যবসা করবে। ব্যবসা বাণিজ্য যেভাবে চলছে নন-লাইফও সে অনুযায়ী চলছে।

আর লাইফ ইন্স্যুরেন্স হচ্ছে ব্যক্তি মানুষের বীমার কাজ করে থাকে। করোনার কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যাহত হয়েছে। এজন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্সও সমস্যা মোকাবিলা করছে।

তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে পারছে না; ব্যবসা অর্জন করতে পারছে না। সে জন্য তাদের ব্যবসাটা কমে গেছে। আর নন-লাইফেরও একই অবস্থা। ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাচ্ছে, সারা পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী কিছু পদক্ষেপের কারণে করোনা তেমন ক্ষতি করতে পারেনি।

করোনা মোকাবিলায় বীমা খাত কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?
ইন্স্যুরেন্স সেক্টর করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়েছে। কোম্পানিগুলো তাদের আইটি শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে; অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাছাড়া করোনা মোকাবিলায় ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের বিশেষ কিছু করার নেই। করোনার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষতি মোকাবিলা করে সামনে এগুতে পারলেই ইন্স্যুরেন্স এগুবে। প্রধানমন্ত্রী করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিকে সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেমন, তৈরি পোশাক শিল্প ঝুঁকি নিয়ে হলেও চালু রেখেছেন। অন্যান্য শিল্প-কারখানা, অফিস আদালত চালু রেখেছেন। এর ফলে রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, মানুষ আবার আয়-রোজগার করতে শুরু করেছে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোতেও আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে।

আইটি শক্তিশালী কোম্পানিগুলো ভালো করছে বলছেন। যাদের আইটি বিভাগ শক্তিশালী নয় তারা ভালো করতে পারছে না। আইটিতে শক্তিশালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির হার কেমন আছে?
হারটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। বলা যায় করোনা মোকাবিলায় প্রযুক্তি সহায়ক হচ্ছে। যখন সবকিছু গ্রহণ করে হিসাব করা হয়, তখন পার্সেন্টেজ বলা যাবে। বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এমন হিসাব করছে। তবে এখন পর্যন্ত যেটা জানা গেছে করোনার কারণে অনেক ব্যবসা কমে গেছে।

করোনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী যখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কল-কারখানা খুলে দেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপণন কেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমন্বয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে লকডাউন খুলে দেন তখন সমালোচনা হয়েছিল। ছয় মাস পর এখন বিষয়টিকে কীভাবে দেখবেন?
প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাইরে গেলে কী করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনি সব উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন। তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় ফিরে আসছে। আপনি দেখেছেন, জিডিপি বাড়ছে। দেখছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপণন কেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনের চাকা সচল হয়েছে। মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে পেরেছে। মানুষের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দুই-ই কমে এসেছে। এজন্য আমরা আবহাওয়াগত সুবিধা পেয়েছি। সারা বিশ্ব করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খেয়েছে সেখানে বাংলাদেশে আমরা করোনার ক্ষতি সর্বনিম্নে ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নেতৃত্বের কারণে করোনা সেভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাংলাদেশে আক্রান্তের হার যেমন কম হয়েছে; আবার সুস্থতার হারও বেশি। এটা কিন্তু দেখা যায়। ইদানীং আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তাই বলে আবার কন্টিনিউয়াস নয়। একদিন বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে। এটাও ঠিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

আইএমএফ বলছে, পাশের বড় অর্থনীতির দেশ ভারতকে করোনা ক্ষতিগ্রস্ত করলেও বাংলাদেশে ইতিবাচক ধারায় আছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরবিআই বলছে তাদের অর্থনীতি সঙ্কুচিত হয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
এটা আগেই বলেছি, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের জন্য সম্ভব হয়েছে। সময়োচিত পদক্ষেপগুলো নেওয়ার জন্য, দিক-নির্দেশনার জন্য সবকিছু সম্ভব হয়েছে। যে কোনো বিষয়ে যিনি নেতা। তিনি যদি সময়োপযোগী, সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেন সেটা সংসারই হোক, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে হোক বা দেশই হোক; সবকিছু নির্ভর করে তার নেতৃত্বের গুণাবলীর ওপর। সেদিক থেকে বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাজারে একটি গ্রোয়িং কান্ট্রি হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। পাশর্^বর্তী এত বড় বড় দেশ যেখানে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অতএব আজ বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটা তারই সাহসী ও সঠিক নেতৃত্বের কারণে।

করোনায় উদ্যোক্তারা যখন বিপর্যস্ত তখন প্রণোদনা ঘোষণার আশার সঞ্চার করেছিল। প্রণোদনা বিতরণ নিয়ে কথা হচ্ছে, বিশেষ করে এসএমই ও কৃষিঋণ বিতরণ নিয়ে... ?
প্রণোদনা ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সফলতা নির্ভর করছে যারা বিতরণ করবে ও যারা নেবে তাদের ওপর। এখন সেটি ঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কিনা, তা নির্ভর করবে যিনি নেবেন এবং যিনি দেবেন তার সদিচ্ছার ওপর। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কতখানি দিতে পারছে, আর আমরা যারা নেব তারা কতখানি নিতে পারছি তার ওপর নির্ভর করছে সফলতার। ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই দেখতে হবে যাকে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে তিনি সঠিক ব্যক্তি কিনা। সঠিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা। তাহলেই প্রণোদনা বিতরণের উদ্দেশ্য সফল হবে।

কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা বিতরণে পিছিয়ে আছে...
ব্যাংকগুলো কোন কারণে বিতরণ করছে না বা কোন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে। নিশ্চয়ই দেখছেও। আপনারা যারা গণমাধ্যমকর্মী আছেন, তাদের ভূমিকা রয়েছে কেন বিতরণ হচ্ছে না তা খুঁজে বের করার। কী করলে বিতরণ হয় সেগুলো আপনাদের লেখার মাধ্যমেও উঠে আসতে পারে।

বীমা দাবি মেটানোর ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে কী বলবেন?
এটা পুরনো কথা। দাবি মেটানো কম হয় বা দাবি মেটানো হয় না- এটা অতীতের কথা। এখনকার চিত্র এটা না। এখন রেগুলার বীমা দাবি পরিশোধ হচ্ছে। গত বছরও লাইফ ইন্স্যুরেন্সে আট হাজার কোটি টাকা বীমা দাবি মেটানো হয়েছে। আর নন-লাইফে পেমেন্ট হয়ে যায়, এটা নিয়ে কোনো কথা নেই। কোনো সমস্যা নেই। নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স খুব একটা থাকে না।

আপনি যদি খবর রাখেন দেখবেন- বীমা দাবি নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। সে দিনও কক্সবাজারে গিয়ে পরিশোধ করা হলো বড় আকারের দাবি। আগামী ২৫ তারিখেও বড় একটি পেমেন্ট আছে। হাজার কোটি টাকার পেমেন্ট হচ্ছে। অভিযোগ এখন অনেক কমে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে যে অভিযোগ নেই সে কথাও বলব না। এখনো হয়তো অনেক কোম্পানির কাছে অনেকেই পাবে, এটা আমি অস্বীকার করি না। তারা দিতে পারছে না। আমরা তাদের অনুরোধ করছি। শাস্তি দিতে পারি না।

আমরা মানুষকে মোটিভেট করতে পারি। সেটা করছি। আর আইডিআরএ খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। একটি কোম্পানি খারাপ করার কারণে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। কোম্পানিটি এখন ভালো করছে। তারা তাদের সমস্যা ঠিকঠাক করছে। আবার অনেক কোম্পানিকে বলা হয়েছে তোমরা তোমাদের গ্রাহকের টাকা পরিশোধ কর। প্রয়োজনে তোমাদের যে সম্পদ আছে সে সম্পদ বিক্রি করে বীমা দাবি পরিশোধ কর। এখন কিন্তু আইডিআরএ খুব সিরিয়াস।

সব কোম্পানি যাতে বীমা দাবি পরিশোধ করে সে জন্য তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। আমরাও মোটিভেট করছি কোম্পানিগুলোকে। ভবিষতে যখন কোনো ক্লেইম হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তবে দাবিও যথার্থ হতে হবে। নন লাইফে কোনো বীমা দাবি হলে সেটা সার্ভে করে। এবং সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী দাবি পেমেন্ট হয়। সে রকম লাইফেও বীমা যখন ম্যচিউরড হয় বা বীমাকারী মারা গেলে তখন সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরিশোধ করা হয়।

অতীতের যে সিস্টেম ছিল এখন তার অনেক উন্নত হয়েছে। এখন বীমা দাবি নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে। কিছু কোম্পানি এ রকম করেছিল আমাদের উদ্যোগের ফলে এখন তারা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রয়োজনে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তোমাদের সম্পদ আছে ওইগুলো বিক্রি করে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করে দাও। বীমা দাবি পরিশোধের ব্যাপারে আইডিআর-এর কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

করোনার মধ্যে বীমা কোম্পানিগুলো কী অভিজ্ঞতা অর্জন করল?
বীমা খাত প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে। এজিম, ইজিম সবই বীমা খাত করছে অনলাইনের মাধ্যমে। আগে কাগজে রিসিট দিত, এখন ই-রিসিটে রূপান্তর হয়েছে। আগে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়া ছিল সেগুলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও কী সব উদ্যোগ নেওয়া যায় সে ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন, করোনার মধ্যে সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে। আগে যেমন সরাসরি শিক্ষা দেওয়া হতো এখন তা অনলাইনে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ছোট্টদের ক্লাসেও এখন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার ছিল এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এ করোনার সময়ে তা কাজে লাগানো হচ্ছে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজড হচ্ছে, ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে করোনা মহামারীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল অভিযাত্রা আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রযুক্তি ব্যবহারে সুচিন্তিত পরিকল্পনা কাজে লাগানোর কারণে সুফল মিলছে। এ কারণে করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

বীমা নিয়ে সামনের দিনের পরিকল্পনা বলুন?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এ বীমা পরিবারের সদস্য। তিনি ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আলফা ইন্স্যুরেন্সে বসতেন এবং আলফা ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন পুরো পূর্ব পাকিস্তানকে তথা বাঙালিকে স্বাধীনতার পক্ষে সংগঠিত করেছিলেন। এটা তার জন্য সুবিধা হয়েছিল। এজন্য আমরা গর্ব করে বলি বঙ্গবন্ধু আমাদের পরিবারের সদস্য।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ইন্সুরেন্সে জয়েন্ট করার দিনটিকে জাতীয় বীমা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিলেন, ‘যেহেতু আমার বাবাও এ পরিবারের সদস্য ছিলেন, আমিও নিজেকে এ পরিবারের সদস্য মনে করি।’

ইন্স্যুরেন্স সেক্টর মনে করে এ খাতের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে নেতিবাচক কিছু না করতে পারে, যেসব ভুল-ভ্রান্তি ছিল সেগুলো সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সে জন্য সবাই চেষ্টা করবে। সেটা আমারও উদ্দেশ্য। আমরা সবাই সেভাবেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এ নির্দেশনাগুলো আমরা দিচ্ছি। সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সের যতটা দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেটুকু যেন সবাই পালন করতে পারে এজন্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে আইডিআরএ-কে সহযোগিতা করছে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।