মিডিয়ায় সেল্ফ সেন্সরশিপ হয়

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মিডিয়ায় সেল্ফ সেন্সরশিপ হয়

বদরুদ্দোজা বাবু ১০:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

print
মিডিয়ায় সেল্ফ সেন্সরশিপ হয়

বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত মাছরাঙা টেলিভিশনের সাবেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও বর্তমানে হেড অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম হেল্প ডেস্কের বাংলাদেশ প্রধান বদরুদ্দোজা বাবু। বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সমসাময়িক বাস্তবতা, পথচলার গল্প ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলেছেন খোলা কাগজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ছাইফুল ইসলাম মাছুম

আপনার সাংবাদিকতার শুরুটা জানতে চাই। 

আমি আসলে হুট করেই সাংবাদিকতায় চলে আসি। ছোটবেলায় সাংবাদিকতা নিয়ে স্বপ্ন কিংবা ইচ্ছা তেমন কিছু ছিল না। আমার মনে হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সাবজেক্ট রয়েছে, তার মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ে আনন্দ পেতে পারি। তবে ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষকদের মুখে সাংবাদিকতার গল্প শুনে সাংবাদিকতার প্রেমে পড়তে থাকি। তখন সাংবাদিকতার ইচ্ছে জাগে এবং সিদ্ধান্ত নিই, সাংবাদিকতা করব। প্রথমে সাপ্তাহিক ২০০০-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজ রুমে কাজ করার সুযোগ পাই। সংবাদের গভীরে যাওয়া, একটা ঘটনাকে বিভিন্নভাবে চিন্তা করা পত্রিকাটির সম্পাদক সাহাদাত হোসেনের কাছ থেকে শিখেছি। পরে সমকালে গিয়েছি। এক সময় ভাবলাম, টেলিভিশনে যাওয়া দরকার, তখন এনটিভিতে যোগদান করি।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দিকে কীভাবে ঝুঁকলেন?
সাংবাদিকতার আসল সৌর্ন্দয অনুসন্ধানে। আমরা সাংবাদিকতা মানুষের জন্য করি, সমাজের জন্য করি। সেটা আসলে আনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সম্ভব। এটা যখন বুঝতে পেরেছি, তখন আমার বিশেষ রিপোর্টের প্রতিটি অনুসন্ধানী স্টাইলে করার চেষ্টা করলাম। প্রতিটি রিপোর্টে আগেরটাকে ছাড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। ২০১০ সাল থেকে মাছারাঙা টেলিভিশনে পুরোদমে শুরু করি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। হাসপাতাল নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছি, যা আমাকে একাধিক পুরস্কার এনে দিয়েছে।

আপনার বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আলোচিত হয়েছে...
আমার করা প্রথম দিকের রিপোর্টগুলোর মধ্যে হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট খুব আলোচিত হয়েছে। সেটা করেছি পাবনা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে। পরে বিস্তারিত তথ্য সমেত হাসপাতাল নিয়ে আরও দুটি প্রতিবেদন করি। ওই প্রতিবেদন ঢাকা রিপোর্টর্স ইউনিটি পুরস্কার, দুদুক পুরস্কার ও টিআইবি পুরস্কার এনে দেয়। এরপর ড্রেজার কেনাকাটার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করি। কেনাকাটায় কিছু গ্রুপ ঢুকে গিয়েছিল যারা নিম্নমানের ড্রেজার দিচ্ছিল। আমি প্রতিবেদনে প্রমাণ করেছি, উচ্চমূল্যে যে ড্রেজার কেনা হচ্ছে, তা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি দিয়ে বাংলাদেশেই তৈরি করা হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনের জন্য পাঁচশত কোটি টাকার মানহানির মামলাতেও পড়তে হয়েছে। হাওর নিয়ে একটা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছি। হাওরের বাঁধগুলো কেন ভেঙে যায়, ঠিকাদাররা কেন নামমাত্র কাজ করে। এ ছাড়া প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির অনিয়ম নিয়ে, কলেজগুলোতে জিপিএ-৫ কীভাবে বিক্রি হচ্ছে সেটা নিয়ে। সরকারি অফিসে কীভাবে দুর্নীতি হয় সেটা নিয়ে গৌরিসেন শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন বেশ আলোচিত হয়েছিল।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন পেতেন?
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জবাবদিহিতা একটা বড় বিষয়। প্রতিবেদনগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পেরেছি। নর্থ সাউথের মতো বিশ্ববিদ্যালয় আমার রিপোর্টের পর ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমরা মূলত প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি এত বেশি কেন। সেটার জবাব তাদের দিতে হয়েছে। সরকারি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে গৌরিসেন প্রকাশের পর অনেক কর্মকর্তার চাকরি চলে গেছে। আমরা তো আসলে এমটাই চাই, একটা প্রতিবেদনের কারণে অনিয়মটা কমবে, দুর্নীতি কমবে। ভালো ইমপেক্ট তৈরি হলে সেটা নিজের কাছে ভালো লাগবে, এটা তো স্বাভাবিক। আর দর্শকদের কাছ থেকেও অনেক প্রতিক্রিয়া পাই। ইউটিউবে থাকা রিপোর্টগুলোর কমেন্টে গেলে দেখবেন অনেক মানুষ আমার জন্য দোয়া করে।

কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে ইউটিউবে কমেন্ট করে, আপনার অবস্থা তো আবার সাগর রুনির মতো হবে না!

তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে। একবার পজেটিভ ইন্টারভিউ করার কথা বলে এক অফিসে গিয়েছি, আমাকে চিনে পেলার পর কেনোভাবেই ইন্টারভিউ দিতে রাজি হয়নি। ওই কর্মকর্তা বলছেন, আপনি তো কখনো পজেটিভ নিউজ করেন না, আপনি নেগেটিভ নিউজ করেন। অনেক জায়গায় রিপোর্ট করতে গিয়ে মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছি। কোনো রিপোর্ট বন্ধ করার জন্য চাপ এসেছে, সেটা সামাল দিতে হয়েছে। কোনোটার ক্ষেত্রে ফিল্ডে গিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
আমাদের দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্য না পাওয়া। একটা হচ্ছে গোপনীয় তথ্য, অন্যটা উন্মুক্ত তথ্য। এখানে গোপনীয় তথ্য তো অনুসন্ধান করতে হবে, তবে উন্মুক্ত তথ্য পাওয়াও বেশ কঠিন। আপনার কাছে যদি সড়ক দুর্ঘটনার সব তথ্য থাকে, তাহলে আপনি অনুসন্ধান করে বের করতে পারবেন, বাংলাদেশের কোন কোন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়। তখন আপনি অনুসন্ধান করে বের করতে পারবেন, এখানে দুর্ঘটনার রহস্য কী? কিন্তু কোনো তথ্যই যদি না পান, তাহলে রিপোর্ট করবেন কীভাবে? আরেকটা বিষয় হলো, আমাদের মধ্যে সেল্ফ সেন্সরশিপ অনেক বেশি। রিপোর্টারের চাইতে নিউজ ম্যানাজারদের মাঝে এই প্রবণতা অনেক বেশি। বাস্তবতা সব সময়ই ছিল, হয়তো কম বেশি কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে, এখন সাংবাদিকরা স্বেচ্ছায় আত্মসর্মপণ করে। এটা আগে ছিল না।

আর করপোরেট চাপ তো আছেই। আপনার মালিক যদি করপোরেট হয় তাহলে তো কথায় নেই। তার পার্টনার, বন্ধু-বান্ধব তো চাপ দেবেই। সব দেশেই এমন করপোরেট চাপ আছে, তবে এটা বাংলাদেশে খুব নগ্নভাবেই হয়।

বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে ঠিকমতো বেতনভাতা না পাওয়াসহ নানা বিড়ম্বনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা সেই অর্থে পেশা হয়ে ওঠেনি। কারণ টেলিভিশন বলেন আর পত্রিকা বলেন, কোনোটাই ‘ইনস্টিটিউট’ হিসেবে দাঁড়ায়নি। যে যার ইচ্ছেমতো সাংবাদিকদের নিয়ে খেলাধুলা করেন! ওয়েজবোর্ড বলেন আর চাকরির নিশ্চয়তা বলেন, এসব বিষয়ে যে সাংবাদিক নেতাদের ভূমিকা রাখার কথা তাদের অবস্থানও স্বচ্ছ নয়। এটা প্রকৃত সাংবাদিকদের তেমন কাজে আসে না। কোনো পত্রিকা টেলিভিশন শক্ত অবস্থানে নেই। সবখানে ছাটাই চলছে। সাংবাদিকরা সংগ্রামের মধ্যে আছে। সাংবাদিকতা যে পেশা হিসেবে দাঁড়ায়নি তার পেছনে বড় কারণ মালিকানা। মালিকানায় যারা আছে, তারা আসলে কি চায়, তারা নিজেরাই তা জানে না। তারা কি গণমাধ্যমকে দাঁড় করাতে চায় নাকি সুযোগ সুবিধা চায়, নাকি নিজেদের সেভ করার জন্য গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, সেটা পরিষ্কার নয়। অনেকে ক্ষমতায় থাকতে কিংবা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে একটা পত্রিকা বা টেলিভিশন নিয়ে আসে। যখন লস আসতে থাকে, তখন হাল ছেড়ে দেয়। ফলে এখানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি গণমাধ্যম, অনেক মানহীন সাংবাদিকতাও ঢুকে পড়ছে। এসব কারণে পুরো ইন্ডাস্ট্রি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সাংবাদিকতাকে বলা হয় ‘থ্যাঙ্কস লেস জব’...
এটা ঠিক। সাংবাদিকতা এমন এক পেশা যেখানে প্রতিদিনই আপনাকে পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। আগে কি রিপোর্ট করেছেন সেটা বিষয় নয়, আপনি এখন যে রিপোর্টটা করেছেন, সেটা দিয়ে আপনাকে অফিস মূল্যায়ন করবে। অনেক ক্ষেত্রে পাঠক, শ্রোতাও মূল্যায়ন করে। সাংবাদিকদের পাঠক দর্শক থেকে শুরু করে সবাই জাজমেন্ট করে। আপনি ভালো করছেন নাকি খারাপ করছেন এটা সবাই দেখতে পারে। এটা দৃশ্যমান।

প্রথম দিকে সংবাদপত্রে, পরে টেলিভিশনে কাজ করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য কোনটাকে ভালো মনে করেন?
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য আমি টেলিভিশনকেই সাপোর্ট করব। টেলিভিশনে প্রতিবেদন দেখার পর যে ইমপেক্ট হয়, সংবাদপত্রে ওটা তেমন হয় না। মানুষ ভিজ্যুয়াল দেখতে চায়। তবে পত্রিকার চেয়ে টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করাটা অনেক কঠিন। আপনি এমনিতে গেলে সবাই কথা বলবে কিন্তু ক্যামেরা নিয়ে গেলে গোপন কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাইবে না। পত্রিকা থেকে গেলে কিছু তথ্য পাবেন, ইন্টারভিউ পাবেন। টেলিভিশনের ক্যামেরা নিয়ে গেলে আপনাকে ভিতরে ঢুকতেই দেবে না।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে অনেক যোগ্য সংবাদকর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। মিডিয়া পাড়ায় আপনার বিষয়েও এমন আলোচনা চালু আছে।
বাস্তব কথা হচ্ছে, মাছরাঙা আমাকে ছাড়তে হয়েছে। কারও চাপে কিনা সেটা আমি জানি না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে চাকরি হারাচ্ছে কিনা সেটা জানি না। তবে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা চাকরি হারাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো চাপই আসেনি কিন্তু আপনি চাপ ফিল করছেন, এই রিপোর্টারকে রাখলে আপনার সমস্যা হতে পারে। অথবা কেউ মনক্ষুণ্ন হতে পারে এমনটা ভেবে।

আপনি তো সাংবাদিকতা ছাড়লেন। এখন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে কী করতে চান?
এখনো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করছি। এমআরডিআই (ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম হেল্প ডেস্ক) সংস্থার মাধ্যমে মিডিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। এমআরডিআই বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য যে হেল্প ডেস্ক চালু করেছে, তার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখান থেকে আমরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আইডিয়া, গাইডলাইন, অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার জন্যই আমি এখানে এসেছি।

আবার সাংবাদিকতায় ফিরতে চান?
ফিরতে চাই এবং আমি অবশ্যই ফিরব। বিভিন্ন টেলিভিশন থেকে ভালো ভালো অফার পাচ্ছি। কিন্তু আমি চাচ্ছি এমআরডিআই এর মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বৃহত্তর পরিসরে যোগাযোগ তৈরি করতে। এখানে দুই বছরের প্রোজেক্টে আছি, এরপর আমি হয়তো আবার ব্যাক করব।

আপনার শৈশব ও শিক্ষা জীবন নিয়ে বলুন...
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আমরা মিরপুরের স্থানীয়, তখন খেলার মাঠ ছিল, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করে শৈশব-কৈশোর পার করেছি। বাবা মোহাম্মদ শামসুদ দোহা সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন, মা মাকসুদা বেগম গৃহিণী। শিক্ষা জীবনে আমি মণিপুরী স্কুল থেকে এসএসসি পাস করি। তারপর নটর ডেম কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ি। আমার স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

অনেক তরুণ সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়তে চায়। তাদের জন্য আপনার কী পরামর্শ থাকবে?
এখন মিডিয়ার অবস্থা খারাপ, এটা জেনে আসাই ভালো। এটা পেশা হিসেবে কতটা দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সাংবাদিকতার এমন অবস্থা থাকবে না। যে সাংবাদিকতার স্বপ্ন আমরা দেখি, যে সাংবাদিকতা আমরা প্রত্যাশা করি সেটা বাংলাদেশে হবে। এই পরিবর্তনটা তরুণেরাই আনতে পারবে। ডেডিকেটেট তরুণরা যদি সাংবাদিকতায় আসে এবং লেগে থাকে তাহলে এই সাংবাদিকতা ভালো হতে বাধ্য। তরুণদের নিয়ে আমি আশাবাদী।