শেকৃবিকে আন্তর্জাতিক মানে নেব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

শেকৃবিকে আন্তর্জাতিক মানে নেব

ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ

ছাইফুল ইসলাম মাছুম ৯:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০২, ২০১৯

print
শেকৃবিকে আন্তর্জাতিক মানে নেব

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। বর্তমানে তিনি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’র সভাপতি। বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। আগামী ১৪ আগস্ট উপাচার্য হিসেবে তার দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছরপূর্তি হতে চলেছে। খোলা কাগজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কথা বলেছেন বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা, গুচ্ছ পরীক্ষা, সম্ভাবনা ও নানা সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ছাইফুল ইসলাম মাছুম-

আপনি তো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন, শিক্ষার্থী থেকে ভিসি হওয়ার গল্পটা জানতে চাই-
এইচএসসি পাস করার পর আমার ইচ্ছা ছিল ডাক্তারি পড়ার। কিন্তু বাবার পরামর্শ আর নিজেরও জনসেবা করার আগ্রহ থেকে কৃষি বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিই। ভর্তি হই বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই)-এ, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। এখান থেকে ১৯৭৯ সালে অনার্স পাস করি। আমার শিক্ষক একেএম শামসুদ্দিন স্যারের আহ্বানে ১৯৮১ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় স্কলারশিপে ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডে এসএসসি এজি ডিগ্রি অর্জন করি। ফিরে এসে আবার শিক্ষকতা করি। ১৯৮৪ সালে পদোন্নতি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি, তখন নিয়ম ছিল পোস্ট খালি হলেই পদোন্নতি। আমার সহকারী অধ্যাপক হতে ৭ বছর ১০ মাস লেগেছে। ১৯৮৮ সালে সহকারী অধ্যাপক হই। সহযোগী অধ্যাপক হয়েছি ১৯৯৬ সালে, আর অধ্যাপক হই ২০০০ সালে। এর মধ্যে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই) থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

শিক্ষার্থী থাকাকালীন কখনো ভেবেছিলেন, একদিন প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিতে হবে?
সেই স্বপ্ন তো থাকতেই পারে। কারণ ১৯৮২ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব দিই, তখন আমি একজন লেকচারার মাত্র। বয়স কম ২৫ কি ২৬ হবে। তখন সিনিয়ররা বলেছিলেন, তুমি স্বপ্নবিলাসী। আমি বলেছি, এটি ব্রিটিশ আমল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদায় ছিল তাই এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করা উচিত। এই দাবিতে ১৯৮৫ সালে, ১৯৮৯ সালে আন্দোলন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উন্নতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের উন্নয়ন, লেখাপড়ার মানোন্নয়ন করার স্বপ্ন যেহেতু সব সময় ছিল, ফলে প্রাসঙ্গিকভাবে মনের মধ্যে ছিল যাতে আমি দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জন্য কিছু করতে পারি।

আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কেমন পরিবর্তন এসেছে?
আমি ভিসির দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় করার আইনের ড্রাফট আমার হাতে করা। প্রতিষ্ঠানটির আইন, অধ্যাদেশ, বিধিমালা, নীতিমালা করাসহ সব ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য বর্তমানে ৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রজেক্ট চলছে। যেহেতু পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব আমার ওপর এসেছে, আমি চেষ্টা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে।

বাংলাদেশে পাঁচটি কৃষি বিদ্যালয় আছে। কেন শেকৃবি স্পেশাল?
এটি বাংলাদেশের উচ্চতর প্রথম কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কৃষি শিক্ষার পথিকৃৎ। একেএম ফজলুল হক দ্বারা স্থাপিত। এটি বাংলাদেশের আপামর জনগণের উন্নয়নে কৃষি শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের কৃষি গবেষণায় প্রথম থেকে কাজ করছে। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানের যে ভূমিকা, এর সমতুল্য আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। এই প্রতিষ্ঠানের কৃষিবিদরা দেশে বিভিন্ন প্রান্তের কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। পড়ালেখার মানের দিক থেকে আগেও ভালো ছিল, এখনো ভালো। আমরা প্রতিনিয়ত আরও আধুনিকায়ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে আগেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

আপনার শৈশব কৈশোর কোথায় কেমন কেটেছে?
আমার জন্ম কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে। গ্রামে শৈশবটা খুব মধুর কেটেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল, হা-ডু-ডু, দাড়িয়াবান্ধা খেলতাম; বর্ষায় নদীতে সাঁতার কাটতাম। খেলাধুলায়ও বন্ধুদের চেয়ে এগিয়ে থাকতাম। যুক্ত ছিলাম মঞ্চ নাটক, যাত্রাপালাসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও।

শিক্ষা জীবন?
প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণি পড়া হয়নি। সাড়ে ছয় বছর বয়সে ক্লাস ফোরে ভর্তি করানোর জন্য বাবা নিয়ে যান। ফোরে পড়ার সামর্থ্য থাকলেও বয়স বিবেচনায় শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি নেন। ভর্তির পর থেকে প্রতি ক্লাসে প্রথম হতে থাকি। বাবা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকা চলে এলে কমলাপুর প্রি-প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হই। কুমিল্লার মাথাভাঙ্গা ভৈরব হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করি। পরে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি, এর পর তো এই প্রতিষ্ঠানে পড়েছি। যুক্তরাজ্য থেকে ১৯৮৭ সালে এমফিল এবং ২০০৭ সালে পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলার শুরুটা কেমন?
আধুনিক কৃষি শিক্ষার সূতিকাগার বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই) স্থাপিত হয় ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে। এ দেশের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের বাঁচানোর জন্য শেরেবাংলা একে ফজলুল হক বিএআই স্থাপন করেছিলেন। ১৯৫২ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত এখানে মাস্টার্স চালু ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। কৃষি শিক্ষার সূতিকাগার বিএআই-এর পাশ কাটিয়ে ১৯৬০ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে, প্রতিষ্ঠানটিকে নানাভাবে খর্ব করা হয়। অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা বিএআইকে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) প্রতিষ্ঠা করেন।

অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী সংখ্যা কেমন আছে?
এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজারে ওঠানামা করে। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ হাজারে নেওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ, এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ এবং ফিসারিজ অনুষদের ৩৫টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি তিন ধরনের কোর্স চালু রয়েছে। রয়েছে সিড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট। তিনটি স্তরে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ৩২২, কর্মকর্তা ২৬৮ ও কর্মচারী ৩৯১ জন। শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার জন্য রয়েছে পাঁচটি খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি হল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছেলেদের এবং দুটি মেয়েদের জন্য বরাদ্দ। প্রশাসনিক ভবনের ঠিক পূর্বপাশে ছয়তলা বিশিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে রয়েছে ডিজিটাল লাইব্রেরি। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং আরএফআইডি টেকনোলজি সমৃদ্ধ এই গ্রন্থাগারে রয়েছে ৪০,০০০ এরও বেশি দেশি-বিদেশি বই, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ম্যাগাজিনের এক বিশাল সংগ্রহশালা। এছাড়া এই গ্রন্থাগারের জন্য একটি অ্যাপ ডেভেলপ করা হয়েছে যার মাধ্যমে যখন তখন যেখানে সেখানে বসে দরকারি বই পড়া ও তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

আপনি তো ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’র বর্তমান সভাপতি। সংগঠনটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কি কাজ করছে?
প্রথমত, সংগঠনটি বাংলাদেশর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময়, একসঙ্গে বিভিন্ন সহশিক্ষা (খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিনিময়) কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ছাত্রছাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয়ের জন্য আমরা কাজ করছি। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির মাধ্যমে আমরা সমাধানের পথ খুঁজি।

আপনারা এ বছর থেকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিতে যাচ্ছেন...
ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ নিরসন ও অর্থ সাশ্রয়ের কথা ভেবে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় একমত না হলেও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ বছর পাঁচটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে পারবে। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ছাত্রছাত্রীদের বারবার দৌড়াতে হবে না, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে, যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে তারা।

আপনার দায়িত্বকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেকৃবির সবচেয়ে বেশি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে...
হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব চুক্তি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বারবার চেষ্টা চালিয়ে জাপান, চীন, কোরিয়া, ভারত, মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি, বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক চুক্তি নবায়ন করি। এসব চুক্তির সুফল শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে। তারা সহজেই ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শেকৃবির গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে বলুন...
বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় গবেষণার প্রজনন ক্ষেত্র। গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তাচেতনার বিকাশ প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছি।

আমি মনে করি, এখন অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে। শিক্ষকরা দেশের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উপায় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করার জন্য ছাদ বাগান নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা। সুন্দরবনের সব ধরনের প্রাণীর জেনেটিক বারকোড নির্ণয় ও বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এমএস এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীরা গবেষণা করছে এবং শিক্ষকরা তাদের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। আপনাদের তো কীটতত্ত্ব বিভাগ রয়েছে, ডেঙ্গু বিষয়ক তাদের কোনো কাজ আছে কি?
আমরা প্রতিবছর মশক সপ্তাহ পালন করি। ডেঙ্গু নিয়ে একটা গবেষণা হয়েছে। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র কোথায় কোথায় তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই গবেষণা ছোট এরিয়া নিয়ে হয়েছে। ঢাকা কিংবা দেশজুড়ে গবেষণা হওয়া দরকার।

আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে?
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনশ একর জমি ছিল। সব দখল করে নিয়েছে বাণিজ্যমেলা, চন্দ্রিমা উদ্যান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শিশু মেলাসহ বহু প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

দেশের সামগ্রিক কৃষিতে কেমন ভূমিকা রাখছে শেকৃবি?
দক্ষ কৃষিবিদ এবং কৃষিবিজ্ঞানী তৈরি করার পাশাপাশি কৃষি গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রসার করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের কৃষি সেক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাখছে কৃতিত্বের স্বাক্ষর। শুধু ধান নয়, অনেক ফসল নিয়ে এখানে গবেষণা হয়েছে। বাংলাদেশ যে আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সেজন্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে আপনার কী স্বপ্ন?
বিলুপ্তপ্রায় গাছ দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসটিকে একটি মিনি বলধা গার্ডেন বানানো হবে-এটা আমার স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৬০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন বঙ্গবন্ধুর একটি মনুমেন্ট সংবলিত স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে। কৃষি অনুষদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হবে। প্রবেশদ্বারে দুটি অত্যাধুনিক গেট নির্মাণ করা হবে। লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হবে। তাছাড়া আমি উপাচার্য থাকাকালীন এগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে আরও কিছু সময়োপযোগী ডিগ্রি চালু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।