দুর্নীতি আমাদের মজ্জাগত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

দুর্নীতি আমাদের মজ্জাগত

আহসানুল আলম পারভেজ

কাজল রশীদ শাহীন ১০:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

print
দুর্নীতি আমাদের মজ্জাগত

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ। ব্যাংকিং খাতের এই বিশেষজ্ঞ ছিলেন রূপালী ব্যাংক এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের সাবেক পরিচালক। বর্তমানে অধ্যাপনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে। খোলা কাগজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কথা বলেছেন অর্থ পাচার, কালো টাকা, গ্যাসের দাম, দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্পর্কে। বাদ যায়নি শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গও। সঙ্গে ছিলেন কাজল রশীদ শাহীন

[শেষ পর্ব]

টাকা যে পাচার হয়ে যাচ্ছে, সুইচ ব্যাংকে চলে যাচ্ছে-এর জন্যও কি ব্যাংকের রুগ্ন অবস্থা দায়ী?
না, আমি তা মনে করছি না। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা-সব দেশ থেকেই টাকা পাচার হয়। আর টাকা পাচার হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকটাই মেইন কথা না। যে দেশে অফিসিয়াল ইনকামের চেয়ে আনঅফিসিয়াল ইনকাম দশগুণ বেশি হবে, সেখানে টাকা সিস্টেমেটিক্যালিই কালো হয়ে যায়। আমার দেশের অবস্থাটা তাই। যেমন আমি বলি, কালো টাকা বলে কিছু নেই।

মনে করেন একজন ডেভেলপার। বাড়ি বানাতে গিয়ে তার খরচ পড়ল দুই হাজার টাকা স্কয়ার ফিট এবং সে বিক্রি করল পাঁচ হাজার টাকা স্কয়ার ফিট। এবার সরকার বলছে, ওই ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে খরচ হবে পনেরশ টাকা স্কয়ার ফিট। তাহলে এখানে অটোমেটিক্যালি কালো টাকার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় রাষ্ট্রের কারণে এভাবে কালো টাকা সৃষ্টি হচ্ছে। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসহ পেশাজীবীদের অনেকেই কলম ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি করছে, ওটাও কালো টাকা। এনজিওর নামে কেউ দশ কোটি টাকা এনে এক কোটি দেখালো, নয় কোটিই রেখে দিল। ওটার ওপর যেহেতু ট্যাক্স দেওয়া হয়নি তাই ওটাও কালো টাকা। ব্যাংক ইজ ওয়ান; যেখান থেকে আপনি লোন নিচ্ছেন, মিথ্যা লোন। সেই লোন সেভ করার জন্য অর্ধেক টাকা বাইরে পাঠাচ্ছেন। বাকি টাকা বিনিয়োগ করছেন। এগুলোও সব কালো টাকা। তাই আমি কালো না বলে ‘অপ্রদর্শিত টাকা’ বলতে পছন্দ করছি। আমি এসব কথা বললে অনেকে বলে আমি নাকি কালো টাকার পক্ষে কথা বলছি।

আমাদের দেশে এমন মজার মজার পদ আছে যেখানে কলম ঠেকিয়ে পাঁচশ কোটি টাকা ইনকাম করা যায়। সো, ওইসব টাকা এখানে ইনভেস্ট করবে কীভাবে-তাই বিদেশে পাচার করে। কালকে থেকে কালো টাকা বন্ধ করে দিলে আপনি মনে করবেন না যে দুর্নীতি কমে যাবে। রং ডিক্লারেশন দেওয়া, কলমের খোঁচায় পাঁচশ কোটি টাকা ইনকাম করা-এগুলো একটাও বন্ধ হবে না।

তাহলে এর সমাধান কী?
সমাধান অবশ্যই আছে। পাচার হওয়া টাকাটার ব্যাপারে আমরা যদি খুব কঠোর হই, যদি টাকাটা দেশে আসতে না দিই তাহলে এটা বিদেশে রেঞ্জ, বাংলো, প্রাসাদ-এগুলোতে বিনিয়োগ হয়ে যাবে। কারণ এই টাকা বিদেশে অন্যভাবে ইউজ করতে পারবে না। বিদেশে বিজনেস করা ভেরি ভেরি ডিফিকাল্ট। বিদেশে ব্যাংকে ফেলে রাখলেই ওয়ান পার্সেন্ট ইন্টারেস্ট পায়। তাই আমাদের অর্থনীতির যেখানে দগদগে ঘা; যে জায়গায় মাজাটা ভাঙা, সেখানে এই টাকাগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে। এখন আমাদের অর্থনীতির মাজাটা ভাঙা হচ্ছে স্টক মার্কেটে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে, সরকারকে বারবার অনুরোধ করেছি, দুটো তিনটা খাতে আপনারা এই টাকা ব্যবহার করুন-একটা হচ্ছে রিয়েল এস্টেট, যেখানে একশ ছিয়াশিটা আইটেম আছে-সিমেন্ট, রড, মিস্ত্রি, রং, শিরিস কাগজসহ আরও অনেক কিছু। শেয়ার মার্কেটে টাকাটা আসতে দেন। মার্কেটে টাকা বাড়বে, ডিভিডেন্ড হবে। এখান থেকে টাকা আবার অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে যাবে। এভাবে সার্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

আমরা যদি লং টাইমে কালো টাকা প্রতিরোধ করতে পারি, তাহলে দুর্নীতি কমে যাবে না?
একেবারেই না। আপনি কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা করছেন না বলে আমি কি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেব নাকি? কালো টাকা সাদা করতে দিচ্ছেন না বলে কি আমি কন্ট্রাক্টরি থেকে টাকা চুরি করব না নাকি? এক কথায় এই দুটোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। এজন্য টাকাটা যদি কাজে লাগানোর সুযোগ না দেন তাহলে এটা নন-প্রোডাক্টিভ জায়গায় ইনভেস্ট হয়ে যায় অথবা দেশের বাইরে চলে যায় এবং এই পাচার করাটা কিন্তু খুব সোজা।

আমাদের এখানে এক ধরনের থিওরিটিক্যাল টিচারস এবং অর্থনীতিবিদরা আছেন যারা জানেন না, চুরি কত প্রকার ও কী কী? কালো টাকা কত প্রকার ও কী কী? কালো টাকার পরিমাণ কত? এখন পর্যন্ত আমাদের একটা ধারণা হচ্ছে, আট থেকে দশ লাখ কোটি টাকা (দুই থেকে তিন বছরের বাজেট) দেশের বাইরে আছে।

কালো টাকার সবচেয়ে বড় মেশিনটা হচ্ছে বাংলাদেশে। এটাকে আপনি স্টপ করতে পারছেন না। দুর্নীতি করে পাঁচশ-এক হাজার কোটি টাকা কামানোর লোক ঢাকার শহরে অন্তত পাঁচ হাজার আছে।

গ্যাসের দাম বাড়ল-এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
কনজ্যুমারদের সঙ্গে তো আমি সহানুভূতি প্রকাশ করবই। তবে এর উল্টো দিকেও কিছু যুক্তি আছে। এই আমরা তো সেই আমরা যারা এই পাঁচ সাত বছর আগেও গ্যাস দিয়ে কাপড় শুকিয়েছি, দেদার গ্যাস নষ্ট করেছি। সো, এখন আমাদের সম্পদ কমে এসেছে। সেই অভাব এবং অপচয়কে কন্ট্রোল করার জন্য সরকার যদি এটা করে থাকে, তাহলে এটার মধ্যে কিছু যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি। তবে খরব আসছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে গ্যাসের দাম আমাদের চেয়ে কম। যদি তাই হয় তাহলে আমি মনে করি, ভারত থেকে গ্যাস আমদানি করা যেতে পারে।

কিন্তু সরকারের যেখানে হাত দেওয়া দরকার সেখানে দিচ্ছে না। ধরা দরকার চোর কিন্তু তা না করে তারা জনগণকে ধরছে...
একজেক্টলি, ইউ আর রাইট। এ জায়গায় আমি আপনার সঙ্গে একমত। ঠিক চোর বলব না, আমাদের এখানে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে, গ্যাসের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ সিস্টেম লস হয় সেটা ঠিক করতে পারলে সংকট থাকার কথা না। আমাদের সমস্যা তো ওই একটাই-সব জায়গায় শুভঙ্করের ফাঁকি। সব জায়গায় দুর্নীতি। এটা আমাদের মজ্জাগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমি খুব জোর গলায় আমার অর্থনীতির স্যারদের সঙ্গে তর্ক করতে পারি। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা অর্থনীতির ‘অ্যাপ্লাই সাইড’ জানেন না। একটা ব্যাংকের ভেতরে কী হয় আপনারা জানেন না। কীভাবে কালো টাকা হয়, তা বলার সাহস আপনাদের নেই। সো, আপনারা শুধু কালো টাকা কালো টাকা বলে ব্যবসায়ীদের বোঝাচ্ছেন। দেয়ার আর ফিউ হান্ড্রেড অফিসার্স, হু হ্যাজ মাস্ট প্রোপার্টিজ মোর দেন টু থাউজেন্ড করাপ্ট। আমি এদের নাম নিচ্ছি না। কারণ আমি সমস্যাটাকে চিহ্নিত করতে চাই, পাপকে চিহ্নিত করতে চাই। পাপির ব্যাপারে এই মুহূর্তে আমার কিছু বলার নেই। ওইসব অর্থনীতিবিদ জানেন না, কালো টাকা সাদা করতে না দিলে পাপিরা বসে থাকবে না, একটা না একটা পথ বের করে নেবেই। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে পাঁচশ-এক হাজার টাকার নোট আছে। কিন্তু সিঙ্গাপুর হ্যাজ টেন থাউজেন্ড ডলারের নোট।

আমাদের তো পাঁচ হাজার টাকার নোট আনার চিন্তাভাবনা আছে...
হ্যাঁ, সেরকম ভাবনা চিন্তা হচ্ছে। এক হাজার ডলারের নোট সিঙ্গাপুরে খুব কমন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুধু একশ ডলারের নোট হায়েস্ট। সো একটা এক হাজার ডলারের নোট বাজারেই আছে। যদি তাই হয় তাহলে সেটা সিক্সিটি সিক্স থাউজেন্ড টাকা। সো, কারও পক্ষে সিঙ্গাপুর থেকে টাকা আনা-নেওয়া তো খুব কঠিন কিছু না। তাই আমি ওই সব অর্থনীতিবিদকে বলতে চাই, অসুখটার ভেতরে দেখতে হবে। কালো টাকা মানে শুধু ব্যবসায়ী না। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেছেন। খুব খারাপ ইনটেনশন থেকে করেছে, আমি এটা বলতে চাই না। আমি বলতে চাচ্ছি, বাই ডিফল্ট কালো টাকা হয়ে গেছে।

আমি যেহেতু ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র, অর্থনীতি আমার ধ্যানজ্ঞান। আমি তিন বছর সাধারণ বীমায় ছিলাম। তিন বছর রূপালী ব্যাংকে ছিলাম। ইসলামী ব্যাংকে ছিলাম। ডিরেক্টর, ভাইস চেয়ারম্যানসহ নানা পদে ছিলাম। তাই ফাঁকি-ফিরিস্তি সব আমার জানা আছে। সেসব জেনেই আমি উপলব্ধি করেছি, দুর্নীতির সঙ্গে ডিরেক্টলি কালো টাকার কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহলে আমাদের এই অচলায়তন চলতেই থাকবে?
এই অচলায়তন কেন সৃষ্টি হচ্ছে, মূল গলদটা কোথায়? আমার বয়স একশট্টি বছর, পঁয়ত্রিশ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। শেষ পর্যন্ত আমার যেটা উপলব্ধি-আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ‘মোরাল’ ব্যাপারটা নেই। যে শিক্ষাব্যবস্থা শুধু ভোগবাদী শিক্ষা দেয় সেখান থেকে এমন জিনিসই বেরিয়ে আসবে। আমাদের শিক্ষকদের কাছে ছাত্রীরা আসতে ভয় পায়, হুজুরদের কাছে মেয়েরা নিরাপদ না, শিক্ষকদের কাছে নিরাপদ না! তো এই যখন অবস্থা তখন আপনি চাঁদাবাজদের কাছ থেকে নিরাপদ থাকার আশা করবেন কীভাবে?

সমাজের মধ্যে আপনি কি শুধু দুর্নীতিই দেখছেন? রেপ, খুন, কোপা শামসু দেখছেন না? কোথাও যেন একটা মোরাল-এথিক্যাল একটি স্টেন্ডের অভাব আছে। এখান থেকে আমাদের বেরুতে হবে। আমার জীবনেই আমি দেখেছি, কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থাটা নষ্ট হয়ে গেল। দ্যাট ইজ এ লস্ট গেম। এটাকে ঠিক করতে আরও দশ বছর সময় লাগবে। হয়তো কখনো আসবে সেই মহাপুরুষ; যিনি শিক্ষাব্যবস্থাটা ঠিক করবেন। তবে আমি যেহেতু শিক্ষাবিদ নই, তাই এসব নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু বলতে পারব না। আমি আমার সাবজেক্ট নিয়ে বলতে পারি। আমার অর্থনৈতিক জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমি গরিবের কথা বলি। যেটা পেটের প্রশ্ন। গরিবের পেটে ব্যথা হচ্ছে, চিকিৎসা পাচ্ছে না, ওষুধ পাচ্ছে না অথচ আমরা অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে যাচ্ছি। এমন অবস্থায় বোধ হয়, সৃষ্টি আর স্রষ্টা; কেউ সুখী থাকেন না।

আপনার নিজের থেকে কিছু বলার থাকলে বলেন...
নাথিং। আমি শুধু একটা কথাই বলব, আইন করে, এটা করে সেটা করে সমাজকে ভালোর দিকে নেওয়া যাবে না। এই যে দেখেন, একটার পর একটা ক্রসফায়ার হচ্ছে, এদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে-এটা যদি এখনো বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে ওই সমাজ নিয়ে কথা বলতে রাজি না। যখন ক্রসফায়ার হচ্ছে তখন এনজিওগুলো চিৎকার করে উঠছে। আবার যখন একটা লোক পঞ্চাশ জনকে কোপাচ্ছে তখন এনজিওরা সবাই চুপচাপ। তো এ রকম একটা দৈন্যদশা আমাদের সমাজের। আমি মনে করি একটা চড়াই উতরাইয়ের ভেতর দিয়েই আমাদের এগোতে হবে।

বিচারব্যবস্থা নিয়ে কী বলবেন?
আমাদের দেশে বর্তমান বিচারব্যবস্থায় বিচারকের সংখ্যা, কোর্টের সংখ্যা, হলিডেজ, আমাদের ল’য়ারদের অবস্থা-সবকিছু মিলিয়ে বিচার ব্যবস্থাটা অপ্রতুল। তাতে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

রাষ্ট্রই কি বিষয়টাকে এমন করে রাখছে না?
আপনি যে পেশায় আছেন, আপনার বোধ হয় এখতিয়ার আছে এ রকম প্রশ্ন তোলার। কিন্তু আমি তো তুলতে পারি না। এই দেশে টাকা না থাকলে উকিল ধরা যায় না। উকিলকে ডাবল টাকা দিলে এক রকম লেখে। আরেকটু টাকা দিলে আরেক রকম লেখে। বিচার পেতে হলে আমাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়। তখন আমি খুঁজি শর্টকাট পদ্ধতি বা সার্জারি বলে কিছু আছে কিনা? সব ভিক্টিমই বোধহয় এক পর্যায়ে এমনটা ভাবে।

তবে এই সার্জারি অর্থাৎ ক্রসফায়ার জিনিসটার অপব্যবহার হবেই। কারও কারও মতে এটা টেম্পোরারি সল্যুশন হলেও হতে পারে কিন্তু অবশ্যই এটিকে পারমানেন্ট করা যাবে না। এই দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের দুই টাকা নিয়ে গেছে বলে তার বিচার হচ্ছে অথচ বড় ব্যাংকের দশ কোটি টাকা চুরি গেলেও বিচার হয় না।

শেষ পর্যন্ত সব দায় তো নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের?
প্রশ্নটা হচ্ছে, রাষ্ট্রটা ইফিশিয়েন্স কিনা? যে দেশের স্বাধীনতা আছে, পতাকা আছে, সরকার আছে, সংবিধান আছে সেটা তো রাষ্ট্রই। এটুকু নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ইফিশিয়েন্স রাষ্ট্র হতে গেলে রাষ্ট্র কর্তৃক নাগরিককে তার প্রত্যাশা ডেলিভার করতে হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়া, দীর্ঘসূত্রতা ছাড়া, বিরক্ত করা ছাড়া, কষ্ট দেওয়া ছাড়া, ঘুষ ছাড়া, দুর্নীতি ছাড়া যদি নাগরিককে তার পাওনাটা বুঝিয়ে দেওয়া যায় তাহলে সেটা হয় ইফিশিয়েন্স রাষ্ট্র। তো সেই নিরিখে আমরা কত মার্কস পেতে পারি-আমি সেই প্রশ্নটা আপনার কাছেই রাখলাম। আপনি যেহেতু বারবার রাষ্ট্রের দায়ের কথা বলতে চাইছেন।

ঢাকা শহরে এখন ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যাদের দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা কতটুকু তা পালন করছে?
এই যে ঢাকা শহর, এই অল্প জায়গায় দুই কোটি মানুষ সাস্টেইনেবল না। তাই ন্যাচারাল প্রসেসে এই অবক্ষয়গুলো আসবেই। বড় একটা ভূমিকম্প হলে আরও বড় ঘটনা ঘটবে। সো, এখানে আরবান প্ল্যানিং বলে কিছু নেই। এই যে রাজউক বসে আছে, আমি মনে করি, দে আর নট কোয়ালিফাইড টু রান অ্যা সিটি অব টু ক্রোড় পিপল। আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, রাজউকের চেয়ারম্যানকে এখানে বসান, আমি পাঁচটা প্রশ্ন করব এবং উনি একটি প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারবেন না। অ্যাক্সিডেন্টের ঘটনা ঘটার পর আমাদের দেশের মন্ত্রী বলছিল, ‘ড্রাইভারের আবার এত কিছু লাগে নাকি, শুধু কার্ড চিনলেই তো হয়ে যায়!’ তো এই দেশে বসে আপনি কতটুকুই বা প্রত্যাশা করতে পারেন।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
খোলা কাগজ পরিবারের জন্য শুভকামনা।