আতঙ্ক তো এখনো আছেই: মিন্নি

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

আতঙ্ক তো এখনো আছেই: মিন্নি

আবু বকর সিদ্দীক ১১:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০১৯

print
আতঙ্ক তো এখনো আছেই: মিন্নি

বরগুনায় নৃশংস হত্যার শিকার রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সময় কাটছে মানসিক ট্রমার মধ্যে। তার চোখের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। গা শিউরে ওঠা এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ধরা পড়েছে কয়েকজন আসামি। আজকে (৪ জুলাই) খোলা কাগজের ফেসবুক লাইভে অডিওর মাধ্যমে যুক্ত হন মিন্নি।

আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে তৎপরতা তাতে সন্তুষ্ট কিনা? পরিপূর্ণ বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আপনি কি আশাবাদী?

হ্যাঁ, আমি পুলিশের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। আশাবাদী যে বাকি যারা আসামি তারা দ্রুত ধরা পড়বে। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হবে।

এ হত্যাকাণ্ডের পর, যখন মামলা চলমান, আসামিদের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি বা আতঙ্ক রয়েছে কিনা?
আতঙ্ক তো এখনো আছেই। হত্যাকারীদের কয়েক সদস্য তো এখনো বাইরে। তারা তো আমার ওপরে যে কোনো সময় হামলা চালাতেই পারে।

নয়ন বন্ডের সঙ্গে তো আপনি বা আপনার স্বামীর পরিচয় ছিল আগেই। এ হত্যাকাণ্ডের আগে এমন কোনো ইঙ্গিত বা আলামত কি পেয়েছিলেন যে হামলা হতে পারে?
ইঙ্গিত পাইনি। তবে সব সময়ই ভয়ে থাকতাম। সব সময় ভয় কাজ করত যে কোনো সময় যে কোনো কিছু করে ফেলতে পারে।

এ ভয়টা কী কারণে ছিল আপনার?
ও তো (নয়ন বন্ড) আমাকে ডিস্টার্ব করত। আর সবাই তো জানত ও সন্ত্রাসী। ওর কাছে বিভিন্ন রকম অস্ত্র থাকত। আর প্রায়ই আমাকে হুমকি-ধামকি দিত। এ জন্য ভয়ে থাকতাম।

নয়ন বন্ড যখন আপনাকে উত্ত্যক্ত করত, তখন কি কোনো রকম আইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন?
এ রকম কিছু করিনি তখন। কারণ ও হুমকি দিত আমার বাবারে মেরে ফেলবে, আমার ভাইরে..। আপনারা তো জানেন, ও প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, অনেকগুলো মামলা ছিল। ভয়ে মামলা করিনি। কিছুদিন পর তো আবার বেরিয়ে আসবে; তখন যদি কোনো ক্ষতি করে বা আমার পরিবারের কাউরে কিছু বলে। এ ভয়ে আইনের সহায়তা নিইনি।

আপনি যখন বিয়ে করেছেন, সংসার করছেন, সে সময়ে যখন নয়ন আপনাকে উত্ত্যক্ত করছিল, নিশ্চয় আপনি নিষেধ করেছেন...
আমি নিষেধ করছি, আমার হাজবেন্ডও নিষেধ করছে, কিন্তু সে শুনতই না, কন্টিনিয়াসলি বিরক্ত করতেই থাকে।

সেদিন আপনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছিলেন। সে সময় আপনার স্বামী শেষ কি বলেছিলেন?
আমার স্বামী শেষে কিছুই বলতে পারেনি। রিফাত শুধু বলেছে আমারে ছাইড়া দাও। যখন কুপিয়েছে তখন তো ও কথা বলেনি। যখন আমরা গেট থেকে বের হচ্ছিলাম, তখন রিফাত ফরায়েজি নামের ছেলেটা এসে বলতেছিল, তুই নাকি আমারে গালিগালাজ করছোস। তখন সে বলেছিল, আমার চোখের দিকে তাকায়ে কথা বল।