বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর সবচেয়ে ত্যাগী নেতা

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর সবচেয়ে ত্যাগী নেতা

ড. কাজল রশীদ শাহীন ১০:১০ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৯

print
বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর সবচেয়ে ত্যাগী নেতা

বিদিশা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী।
আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হলেও এ সম্পর্ক ঘিরে আলোচনা বন্ধ হয়নি কখনো।
‘রহস্যময়ী নারী’র তকমাও লেগেছে বিদিশার গায়ে।
খোলা কাগজ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপে উঠে এসেছে এরশাদের সঙ্গে
প্রেম-ভালোবাসা-বিচ্ছেদ, বাংলাদেশের রাজনীতি, একমাত্র সন্তান এরিকের কথা।
সঙ্গে ছিলেন ড. কাজল রশীদ শাহীন

 

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি জিরো হয়ে যাবে...
আমার তা মনে হয় না। তার সন্তান তো বেঁচে আছে। এখন হয়তো সে ক্যাপাবল না। আমি এরিককে দিয়ে রাজনীতি করাব, সেটা মিন করিনি। আমি বলতে চাচ্ছি সে তো তার সন্তান। রংপুরের একটা ব্যাপার আছে, এরশাদের নামের ওপরই ওখানে সব চলে। এখন যেমন জিএম কাদের সাহেব আছেন, তাকে কিন্তু বাদ দেওয়া যাবে না। সেই অর্থে বলছি।

জিএম কাদেরের গ্রহণযোগ্যতা তো আর এরশাদের মতো না...
সেটা সময়ই করে দেবে, জনপ্রিয়তা তো এক দিনে হয় না। জিএম কাদের যদি মনে করেন আমাদের দরকার, ফ্যামিলির সাহায্য দরকার, তখন এরিক নিশ্চয়ই পাশে থাকবে। সেই অর্থে এরিকের কথা বলছি। এরিক রাজনীতি করতেও পারে আবার নাও করতে পারে। হ্যাঁ, শারীরিকভাবে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তার কিন্তু ব্রেন হচ্ছে সুপার। আইনের সব ধারা তার মুখস্থ, হাজার হাজার গান মুখস্থ, লাখ লাখ টেলিফোন নম্বর মুখস্থ। মানুষকে একবার দেখলে দশ বছর পরও তার নাম বলে দিতে পারবে। সে হচ্ছে স্পেশাল অ্যাবিলিটি চাইল্ড।

তাহলে কি এরিককে নিয়ে আপনি স্বপ্ন দেখেন?
না, তেমনটা আমি বলছি না। এরিক লেখাপড়া করতে পছন্দ করে, গান-বাজনা পছন্দ করে। সে তার মতো আছে। আমি বলতে চাই, রংপুরের কাছ থেকে আমরা যা পেয়েছি, রংপুরবাসীর জন্যও তো আমাদের কিছু করার আছে। দায়িত্বশীলরা যদি প্রয়োজন বোধ করে, আমরা সবাই হেল্প করব। এখন এরশাদ সাহেব তার ভাইকে বসিয়েছেন। এখান থেকে মনে হয় না কেউ তাকে সরাতে পারবেন।

কিন্তু মাঝখানে সরে গেল কেন?
সরে গিয়ে তো ভালোই হলো, ব্যাক করাটা আরও শক্তিশালী হয়েছে। তৃণমূলের প্রেসারে তাকে ফেরাতে হয়েছে। এখন কেউ তাকে সরাতে পারবেন বলে আমি মনে করি না।

এরশাদ সাহেবের ওপর রওশন এরশাদের কেমন প্রভাব?
আমি উনার সম্পর্কে কিছু জানি না। তবে উনারও তো এখন আর দেওয়ার কিছু নেই। রিটায়ারমেন্টে প্রায় চলেই গেছেন। বয়স ৮৪-৮৫ বছর হবে। উনি যে সংসদে বিরোধী দলের নেত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন, এটা পরিস্থিতির দাবি, অন্য কিছু নয়। তা না হলে আজকে জাতীয় পার্টি কোথায় থাকত? কেউ কি কোনো দিন ভেবেছে, জাতীয় পার্টি অপজিশন হবে? আজকে তো সেখানে চলে এসেছে দল। সেক্ষেত্রে তারও তো অবদান আছে।

এখানে একটা গেম খেলা হয়েছে বলে মনে করা হয়...
রাজনীতি মানেই তো গেম, কৌশল। যার যেমন সুবিধা হবে সে তেমনই করবে। ইকুয়েশনে যদি মিলত, আপনি কি মনে করেন জাতীয় পার্টি যেত না বিএনপির সঙ্গে? লেনদেনে মেলেনি, তাই যায়নি।

আপনি প্রকাশ্যে দুয়েকটা সভায় হাজির হন না কেন?
এখনো সময় আসেনি। তবে আমি কোনো সভায় গেলে সেই সভা কন্ট্রোল করা যাবে না- এটুকু কনফিডেন্স আমার আছে। আমার ওপর এই আশীর্বাদও আছে। এখন তারা যদি আমাকে কাজে লাগাতে চায় তাহলে আমি রাজি। আবার একটা গ্রুপ আছে যারা ভয় পায়। যারা আমাকে ওখান থেকে বের করেছে, তারা তো এখনো অ্যাকটিভ আছে। এরশাদ সাহেব যদি না থাকে, জাতীয় পার্টি কত টুকরা হবে কে জানে!

এরশাদ সাহেবকে একদিকে পল্লীবন্ধু বলা হয় আবার স্বৈরাচারও বলা হয়...
স্বৈরাচার নামটা এখন আর নেই। কারণ এখন অনেকে তার চেয়ে আরও বড় স্বৈরাচার প্রমাণিত হয়েছে। তাই এখন তাকে এটা বলা ভুল হবে। একটা সময় আমিও বলতাম। আমার বাবা স্বৈরাচারের হাত থেকে পুরস্কার নেয়নি। সব সময় তো সব কথা একইভাবে প্রযোজ্য হতে পারে না।

এরশাদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাবা-মার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে?
বাবা-মার সঙ্গে আমার সম্পর্ক বরাবরই খুব ভালো। তবে এটা ঠিক, ওই সময় তারা মনে কষ্ট পেয়েছিলেন, শকড হয়েছিলেন। বাবার থেকেও বয়সে বড় একটা মানুষকে বিয়ে করলাম...। এগুলো তো থাকবেই। কিন্তু তার মানে এই না, তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। উল্টো আমার কষ্টের সময় তারা দৌড়ে এসেছে।

বিদিশা ফাউন্ডেশন কী উদ্দেশে?
‘নারীমুক্তি দেশের শক্তি।’ এখান থেকে নারী ও শিশুদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। কমন জেন্ডারদের নিয়ে কাজ করা হয়। শিশুর সোশ্যাল সিকিউরিটি, গার্মেন্ট নারীদের হেলথ সেনেটাইজেশনের ট্রেইনআপসহ আরও অনেক কিছুই করার চেষ্টা করছি। রোজায় যেমন ইফতার বিতরণ করছি। যখন যেটা পারি। আমার বড় মেয়ে একটা এনজিওর সঙ্গে কাজ করে। সে আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করে, আইডিয়া দেয়।

আপনি কি কখনো হতোদ্যম হননি?
একদমই না। কোনো কিছুই আমাকে আটকাতে পারেনি। আমি দুই মাস পর পর আজমির শরিফে যাই। সেখানে গেলে একটা অভ্যন্তরের শক্তি পাই। আমার কাছে যারা আসে, পজিটিভ বুদ্ধি দিই, কখনো নেগেটিভ বুদ্ধি দিই না। যতটুকু পারি সাহায্য করি। জীবনে দু-একবার যে ভেঙে পড়িনি এমন নয়। আমাকে আটক করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যখন বিছানার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে মারা শুরু করল, তখন ভয় পেয়েছিলাম। তখনো আমার মনে হয়েছিল খাজাবাবা (মাঈনুদ্দিন চিশতী) আমাকে বাঁচাবে। এখনো ওটাই আমার স্ট্রেংথ।

আপনাকে যে নির্যাতন করা হলো, এরশাদ চাইলে বাঁচাতে পারতেন না?
নিশ্চয়ই পারতেন। কিন্তু উনারা তো চাননি। উল্টো চেয়েছিলেন যেন আমাকে মেরে ফেলা হয়। কিন্তু পারেনি কেউ। রাখে আল্লাহ মারে কে? আমার বিশ্বাস হচ্ছে আল্লাহর ওপর। আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমি জানতাম, তারা ভুল করছে। ওই সময় শুধু পুলিশ না, গোটা সিস্টেমটাই অমানবিক ছিল। আমার বিরুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়েছে আমাদেরই লোক। আজকে যারা সরকারের সঙ্গে আছে।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর...
নতুন করে বাঁচতে শিখলাম। শুরু হলো কোর্টে দৌড়াদৌড়ি। তখন আমার পাশে ছিল ড. কামাল হোসেনের পুরো চেম্বার, সব মিডিয়া। তা না হলে তো বাঁচতাম না। থানার ছাদের ওপরে এটিএনের ক্যামেরা রাখা ছিল। ওদের কাছে ইনফরমেশন ছিল হয়তো রাতে আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমাকে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তা না পেরে টেনেহিঁচড়ে আমাকে পিটিয়েছে। সে সময় মিডিয়ার ভূমিকা ছিল বিশাল। বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এই মানুষগুলো আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি টাকাও আমাকে দিতে হয়নি কোনো দিন। ধন্যবাদটুকু ছাড়া কিছুই দিতে পারিনি তাদের। ওই অবস্থা থেকে আমি বিদিশা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

এরশাদের প্রেমে পড়াটা ভুল ছিল- এমনটা কখনো মনে হয়েছে?
না, কখনই মনে হয়নি। ওটা পার্ট অফ লাইফ। আমি তো এনজয়ও করেছি। এরশাদের মতো কেউ তো আমাকে ভেজা রুমালে শিউলি ফুল দিয়ে ঘুম ভাঙাবে না। এমন প্রেমিক পৃথিবীতে নেই। আমি তো মনে করি, এরশাদ এখনো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক। সেটা নাটক হয়ে থাকে নাটক। কিন্তু আমি তো এনঞ্জয় করেছি।

দশ বছর পর বিদিশাকে আমরা কোথায় দেখতে পাব?
বিদিশা ফাউন্ডেশনকে বড় করতে চাই। কিছু সেফ হোম করতে চাই। মেয়েদের ইন্ডিপেন্ডেন্ট করতে চাই। আমি চাই, মেয়েরা সবই গাড়ি চালাবে। আরেকটা আইডিয়া মাথায় আছে, ‘সেভ দ্য নেশন’ নামে একটা প্রজেক্ট করতে চাই। সব জায়গায় এই নামে একটা চ্যারিটি বক্স থাকবে। স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, সবাই এক টাকা করে দেবে। মাসে কত টাকা হবে, হিসাব করতে পারবেন না। এই ফান্ডটা গভর্নমেন্ট হ্যান্ডেল করবে। প্রত্যেক দিন জানানো হবে, আজ কত টাকা উঠল। একটা আলাদা মনিটরিং সিস্টেম থাকবে। এতে করে অটোমেটিক্যালি কর্মক্ষেত্র বাড়বে। আমার এই স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করতে চাই।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?
উনি ছাড়া বাংলাদেশ হতো না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, সব সময়ই আমি এটা বলে আসছি। এত ত্যাগী নেতা আমি কোথাও দেখিনি। উনার জীবনী যখন পড়ি, অবাক লাগে। এত কষ্ট কীভাবে উনি করেছেন? এত জেল-জুলুম। সে কারণে আজও উনার পপুলারিটি আকাশছোঁয়া।

জিয়াউর রহমান সম্পর্কে?
উনাদের সম্পর্কে কথা বলাটা আমাদের মতো মানুষদের মানায় না। আমরা অনেক ছোট মানুষ। তাদের ত্যাগ, তাদের পলিটিক্স, তাদের শিক্ষা-দীক্ষা অনেক উঁচুমানের। সেসবের কাছে আমরা নস্যি। তারা শুধু দিয়েই গেছেন, কিছু নেননি।

এখনকার রাজনীতিকদের মধ্যে কেউ আপনার আইডল আছে?
না। তবে শেখ হাসিনার একটা জিনিস আমার পছন্দ-সেক্রিফাইস। বেসিক্যালি উনি তো এতিম মানুষ। উনার কি আছে? শুধু তো দিয়েই যাচ্ছেন। রিটার্ন কী পেয়েছেন- হয়তো জনগণের ভালোবাসা। আর আমি কী বলব শেখ হাসিনা সম্পর্কে, তার সম্পর্কে তো বড় বড় কথা বলেছেন মাহাথির মোহাম্মদ, বিল গেটস, নরেন্দ্র মোদি, মমতা।

এরশাদের দুটি ভুলের কথা জানতে চাই...
চিন্তা করতে হবে, এভাবে আসলে ভাবিনি কখনো। তবে নিশ্চয়ই আছে, প্রচুর ভুল আছে। সবারই ভুল আছে, আমারও ভুল আছে। বড় কথা হলো সেই ভুল থেকে শিখতে পারলাম কিনা।

উনাকে কি সফল বলা যাবে?
উনি আসলে অনেক লার্নেড। নয় বছর রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন এবং আমি মনে করি সফল রাষ্ট্রনায়ক। ওই সময় তো উনি সফলই ছিলেন। উত্তরবঙ্গের মানুষ তো উনার নামেই পাগল। এটা কি এমনিতেই? উনার সময় তো মানুষ ভালো ছিল, দুর্নীতি ছিল না।

রাষ্ট্রনায়ক এরশাদ, স্বৈরাচার এরশাদ, প্রেমিক এরশাদ- কার কথা আপনার বেশি মনে পড়ে?
উনার প্রতি রাগ অভিমান ক্ষোভ সবই ছিল। সেসব আমি মাফ করে দিয়েছি। কখনো বদদোয়া দিইনি। আফটার অল, উনি আমার সন্তানের পিতা তো। এরিক তার বাবাকে অনেক ভালোবাসে, তিনিও এরিককে ভালোবাসেন। খুব কষ্ট লাগে, এই দুঃসময়ে উনাকে দেখার কেউ নেই। বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করছেন। সেদিন শুনলাম খেতে গিয়ে উনার দাতে মাংস আটকে গেছে। হেল্প করার কেউ নেই। কষ্ট লাগে, শেষ সময় পাশে থাকতে পারছি না। পাশে থাকলে নিশ্চয়ই খেদমত করতাম। শেষ পর্যন্ত মানুষ তো আমরা!

এই সময়ে একটা উদ্যোগ নিয়ে আপনি পাশে থাকতে পারেন না?
উনি যদি আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো হতেন, তাহলে সম্ভব ছিল। এখন আমি গেলেই অনেকে তাতে স্বার্থ খুঁজবে। ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কথা তুলে আনবে। আজেবাজে কমেন্টস করবে। অথচ আমার স্বার্থটা কোথায় বলেন? উনার সব সম্পত্তি তো উনি দিয়ে দিয়েছেন। আমার তো নেওয়ার কিছু নেই। তাই খারাপ লাগলেও আমি যেতে পারছি না। পৃথিবীতে এর চেয়ে কষ্টের আর কী আছে- উনি নিজের কবরের জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না।

এরশাদ শুধু প্রেমই বিলিয়ে গেলেন, প্রেম পেলেন না...
প্রতিদান পাননি, শুধু বিলিয়ে গেছেন। গার্লফ্রেন্ডদের স্টাবলিসড করে দিয়েছেন। সব গার্লফ্রেন্ডের দুই-তিনটা করে ফ্ল্যাট আছে গুলশানে। বাড়ি, গাড়ি দিয়ে গেছেন। কোথায় সেই গার্লফ্রেন্ডরা? সেই কাজের লোকরাই- ওহাব, সাত্তার, নিপা, রুবি, বাদশা- এরাই সব কিছু করছে। নিঃস্বার্থভাবে দেখাশোনা করছে।

সর্বশেষ এখন উনার কী অবস্থা?
কথা বলতে গেলে জড়িয়ে যাচ্ছে। হুইল চেয়ারে বসে থাকতে হচ্ছে। বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করছেন। কাউকে চেনার শক্তিটা আছে। মনে রাখতে হবে, উনার বয়স নব্বই।

আপনার সঙ্গে তো কিছুদিন আগে দেখা হলো...
আমি দেখতে গিয়েছিলাম, সিএমএইচ-এ। আমাকে দেখে বসতে বললেন। কাঁদলেন, আমিও কাঁদলাম। অনেক হিসাব নিকাশ করে গিয়েছিলাম- এই বলব, ওই বলব। কিচ্ছু করতে পারিনি। হাত ধরে বসেছিলাম।

বাবার এই অবস্থায় এরিকের কী অনুভূতি?
সে তো সারাক্ষণই বাবার কথা বলে। আমার এখানে আসার পর খেতে দিলে বলে, একটু খাবার রেখে দিই, মা? আমি বলি কেন? ড্যাডির জন্য বাকিটা নিয়ে যেতে চাই। ড্যাডি তোমার হাতের রান্না খুব পছন্দ করেন। তারপর খাবারটা প্যাকেট করে নিয়ে যাবে। আবার বাবা যে খাবার পছন্দ করে, সেটা বসে থেকে আমাকে দিয়ে রান্না করিয়ে নেয়। এই কেমিস্ট্রিগুলো সাধারণত কোনো ছেলে বাচ্চার মধ্যে দেখিনি, মেয়েদের মধ্যে দেখেছি। এগুলো দেখে মনে মনে শান্তি পাই, যাক, অন্তত ও তো দেখে রাখছে। স্কুলে যেতে চায় না, বলে, যদি আমি যাওয়ার পর ড্যাডি মারা যায়।

এরিকের কি শুধু চলাফেরায় সমস্যা?
পায়ে একটু সমস্যা। এ ধরনের বাচ্চারা হয় বোকাসোকা হবে, না হয় অসম্ভব ইন্টেলিজেন্ট হবে। এরিক হয়েছে অসম্ভব ইন্টেলিজেন্ট। যেমন- ম্যাথস, ওর ক্যালকুলেটর লাগবে না। নিজেই একটা ক্যালকুলেটর।

এরশাদ কতটুকু দিলেন আর কতটুকু পেলেন?
উনি উনার প্রাপ্যটা পাননি। ক্ষমতা ছাড়ার পর উনি তো স্রেফ টিকে থাকার জন্য রাজনীতি করেছেন। কী আওয়ামী লীগ আর কী বিএনপি- সারাক্ষণ চাপে রেখেছেন উনাকে। ঠিকমতো রাজনীতিই করতে দেওয়া হয়নি। মামলা দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করতে দিলে উনি দেশকে অনেক কিছুই দিতে পারতেন। পার্লামেন্টে উনারা বিরোধী দল, কিন্তু কোনো কনট্রিবিউশন নেই, আওয়াজ নেই, কিছুই করতে পারছে না তারা।

রংপুরে যাওয়া হয়?
যাই মাঝে মাঝে। আমার ছোট্ট একটা অ্যাডপটেড বাচ্চা আছে, নাম মায়া। এক মাস বয়স থেকে অ্যাডপট করেছি। ওর বয়স এখন আঠারো। ও থাকে দার্জিলিংয়ে। ওকে দেখতে গেলে রংপুরের ওপর দিয়ে যাওয়া-আসা করি। আমার কয়েকজন কর্মচারী আছে ওদিকে কাজ করে। ফাউন্ডেশনের কিছু কর্মকর্তার বাড়িও রংপুরে। রংপুরের আমার সঙ্গেই আছে।

রংপুরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ আছে। ফোনে কথা হয়। আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয় এটা অনেকে জানাতে চায় না। অনেকেই অফিসে আসে, দেখা হয়, কথা বলে। রংপুরের গণমাধ্যমের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আছে। তাছাড়া ফেসবুক তো আছেই। এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

আপনার কি আরেকটু সরব হওয়া উচিত নয়?
আমি যেচে কারও সঙ্গে কখনো কথা বলি না। আগে যেমন মিডিয়ার অনেকের সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করতাম, গল্প করতাম, এখন আর এগুলো করি না। এখন আমি আমার কাজটাকেই সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিই। আমি চাই কর্ম দিয়েই আমার পরিচয় হোক। আমার কর্মই যদি না থাকে তাহলে মিডিয়ারই বা সময় নষ্ট করব কেন?

তাদের ডেকে এনে কি পাবলিসিটি করব? কাজটাকেই আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছি। এখন আমরা কিছু প্রোডাক্টও মার্কেটিং শুরু করেছি উত্তরবঙ্গ থেকে। সেখানে আমাদের ডিমান্ডও ভালো। আমাদের সব প্রোডাক্ট হলো বিদিশার নামে। বিদিশা আটা, বিদিশা ময়দা, বিদিশা সুজি...। আমরা কম মূল্যে ভেজালমুক্ত সামগ্রী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
খোলা কাগজ পরিবারের জন্য শুভকামনা।