মায়ের অভাব পূরণ হবে না

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

ক থা সা মা ন্য

মায়ের অভাব পূরণ হবে না

তৌফিকুল ইসলাম ২:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০১৯

print
মায়ের অভাব পূরণ হবে না

নাট্যকার আহসান হাবিব সকাল বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তৌফিকুল ইসলামের সঙ্গে

বিশ্ব মা দিবসের নাটক জগৎ সংসার নিয়ে বলুন...

নাটকের গল্পটি আমাদের চলমান সমাজের ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন কিছু কাক্সিক্ষত, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে দেখা যায়, মা বয়স্ক হয়ে গেলে সে মাকে আমরা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসি। অথচ যে মা তার দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের একসময় কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছে। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এ গল্পটা লিখেছিলাম।

অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদারকে এ নাটকে মায়ের চরিত্রে নির্ধারণ প্রসঙ্গে...
নাটকটির পরিচালক রিদম খান শাহীন অনেক দিন থেকেই ফেরদৌসী মজুমদারকে নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছিলেন। তিনি এজন্য গল্প খুঁজছিলেন, ফেরদৌসী মজুমদারের কাছে নির্মাতা বেশ কয়েকজন লেখকের গল্প পাঠিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি গল্পগুলো রিজেক্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর নির্মাতা আমাকে চিত্রনাট্য লেখার অনুরোধ করলে আমি বেশ সময় নিয়ে তা লিখে পাঠাই। যার নাটক দেখে বড় হয়েছি তার জন্যে নাটক লিখব, উনি আমার চিত্রনাট্যে কাজ করবেন
এটা অনেকটা আমার কাছে স্বপ্নের মত ছিল। ফেরদৌসী মজুমদার চিত্রনাট্যটি পছন্দ করেন। অ্যাকচুয়ালি গল্পের প্রয়োজনেই তাকে চরিত্রটি করার জন্য নেওয়া।

মা দিবস উপলক্ষে নাটক লেখার ইচ্ছে কি আগেই ছিল?
আসলে এটি বেসিক্যালি পরিচালকের ভাবনা। তিনি মা দিবসের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করতে চাইছিলেন। সে ভাবনা থেকেই গল্প সিলেক্ট করে মা দিবসের কাজ করা।

আপনার মা জীবিত আছেন?
না, আমার মা জীবিত নেই। আমার মা মারা গেছেন আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে। নাটকের শুটিং হওয়ার পর মা মারা যান।

নাটকটি লেখার সময় মায়ের অভাব বোধ করছিলেন?
হ্যাঁ, মায়ের অভাব তো পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হবে না। কারণ, মা মা-ই। মা না থাকলে বুকের মাঝে একটা শূন্যস্থান চিরকাল থেকে যায়। কোনো কিছু দিয়েই এ শূন্যস্থান পূরণ হবে না।

ঈদের জন্য আর কী কী কাজ করেছেন?
ঈদের জন্য আমি দুটি কাজ করছি, আমি সাধারণত একটু বেছে বেছে ভেবে-চিন্তে কাজ করার চেষ্টা করি। আমি ফানি বা হালকা গল্প একটু কম করি। সবসময় পারিবারিক মূল্যবোধ, একটা মেসেজ থাকবে, জীবন, সময় ও সমাজের কথা থাকবে, রোমান্স থাকবে, তবে অতিরঞ্জিত কিছু না এ ধরনের সামাজিক বাস্তবতার আলোকে কাজ করার চেষ্টা করি। এজন্য আমি কাজ বেছে বেছে করি, ঈদে দুটো কাজই করছি। একটা নাটক চ্যানেল আইতে প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে, অন্যটির বিষয়ে এখন বলতে পারছি না।

মা দিবস নিয়ে তো অনেক নাটক হচ্ছে, আপনার নাটক দর্শক কেন দেখবে বলে মনে করছেন?
ভালো একটা প্রশ্ন করেছেন। আমার এ নাটকে মাকে নিয়ে তরুণ সমাজের অনেক কিছুই শেখার আছে। এ জেনারেশনের সবাই অনেক কিছুই জানতে পারবে। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না দিলে যেটা হয়, এ কথাটার ভাবার্থ গল্পটাতে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনার লেখালেখির শুরুটা কীভাবে হলো?
আগে থেকেই লিখতে পারতাম, ছোট কবিতা, গল্প লিখতাম। তারপর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে যখন ঢাকায় চলে এলাম, তখন এফডিসিতে যেতাম, পরিচালকদের নাম্বার কালেক্ট করে গল্পগুলো দিতাম। এফ আই মানিক, বাদল খন্দকার তাদের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর গল্প শোনালাম, তারা বললেন এভাবে না এভাবে করো। তারপর এফ আই মানিকের সঙ্গে কাজ করলাম একটা গল্পের স্ক্রিপ্টের ডায়লগে। আমার লেখালেখিটা ফিল্ম দিয়েই শুরু। সেটা ২০০৫ এর শেষের দিকের কথা। তারপর ২০০৭ এর দিকে এটিএন বাংলায় জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় একটা নাটক লিখলাম ‘মেঘে মেঘে বৃষ্টি’। এরপর থেকেই লেখালেখিটা করে যাচ্ছি। নিজের ভালো লাগা থেকেই লিখছি।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা...
লেখালেখিটা তো থাকবেই, এটা রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। ইচ্ছে করলেও হয়তো এটা ছাড়তে পারব না।