ফের ‘রণক্ষেত্র’ মিয়ানমার, একদিনে নিহত ৩৮

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

ফের ‘রণক্ষেত্র’ মিয়ানমার, একদিনে নিহত ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৪, ২০২১

print
ফের ‘রণক্ষেত্র’ মিয়ানমার, একদিনে নিহত ৩৮

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে আবারও গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল বুধবার একদিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কয়েকটি শহরে এ প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। মিয়ানমারে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এদিন ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

এদিকে এক মাস ধরে চলমান সংকট অবসানের জন্য মিয়ানমারকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর চাপ প্রয়োগের এক দিন পর এ ঘটনা ঘটল।

নিহতদের মধ্যে দুজন কিশোর রয়েছেন বলেও জানা গেছে। মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত ক্রিস্টাইন শ্রানার বারগেনার বুধবারের ঘটনাকে ‌‘রক্তাক্ত দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বজুড়ে সমালোচনার পরও মিয়ানমার সামরিক বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার বেশকিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো সতর্কতা ছাড়াই বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এর মধ্যে মিয়ানমারের কেন্দ্রস্থল মনিয়ায় গুলিতে চারজন নিহত হন। এছাড়া আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন।

এছাড়া ইয়াঙ্গুন, মান্দালি এবং মিনগিয়ানে অন্যদের প্রাণহানি ঘটে। ইয়াঙ্গুনে একটি বিক্ষোভে গুলিতে ১৯ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, এদিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছাড়াও প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করেন। একজন বলেন, ‘এদিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জলকামান ব্যবহার না করে সরাসরি গুলি চালান বিক্ষোভে।’

দ্য মিয়ানমার নিউজ এজেন্সি জানায়, ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ থেকে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। জান্তা সরকারের একজন মুখপাত্রের কাছে ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্ব প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেত্রী অং সান সু চিকে মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে জান্তা সরকারকে আহ্বান জানালেও তা ব্যর্থ হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লা ইং। গ্রেফতার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চিসহ মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ও অধিকাংশ মন্ত্রীকে আটক করে। এর কয়েক দিন পর থেকেই দেশটির সর্বস্তরের জনতা রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে।

অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ এসব বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জান্তা সরকার। এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন চলছে ব্যাপক ধরপাকড়।