ডিসেম্বরে করোনার টিকাদান শুরু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

ডিসেম্বরে করোনার টিকাদান শুরু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

print
ডিসেম্বরে করোনার টিকাদান শুরু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১১ ডিসেম্বর নাগাদ কোভিড-১৯-এর টিকাদান কার্যক্রম শুরু হতে পারে। বয়স ও ঝুঁকি বিবেচনায় ধাপে ধাপে টিকা পাবেন মার্কিনিরা। দেশটির নভেল করোনাভাইরাস কার্যক্রমের প্রধান ড. মনসেফ স্লাওইয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ড. মনসেফ স্লাওই মার্কিন সংবামাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, করোনার কোনো টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা টিকাদানের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছানোর’ পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন ড. মনসেফ স্লাওই।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে দুই লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি।

এদিকে যৌথভাবে নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করার পর, প্রতিষেধকটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার এবং জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক।

এর আগে গত বুধবার ফাইজার-বায়োএনটেক তাদের তৈরি ভ্যাকসিন করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে ঘোষণা করে। প্রতিষেধক হিসেবে টিকার দুটি ডোজ দিতে হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টিকার সর্বাধিক পাঁচ কোটি ডোজ উৎপাদনে করতে পারবে বলে আশা করছে ফাইজার।

ফাইজার-বায়োএনটেকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এফডিএ জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটির জরুরি প্রয়োগের অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের উপদেষ্টা কমিটি আগামী ১০ ডিসেম্বর বৈঠকে বসবে।

ড. মনসেফ স্লাওই সিএনএনকে জানিয়েছেন, ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের ‘অনুমোদন পেলে দিন দুয়েকের মধ্যেই হয়তো’ সেটি প্রয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিনগুলো সরবরাহ করা হবে। ড. মনসেফ স্লাওই বলেন, কাদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবে। তবে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের যেমন—স্বাস্থ্য সেবাকর্মী ও বয়স্কদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না গত সোমবার ঘোষণা করেছিল, তাদের তৈরি করোনার ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে প্রতিষেধকটি ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর। এ ছাড়া মডার্না আরো জানিয়েছে, নিজেদের ভ্যাকসিনের আরো সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর চলতি মাসের মধ্যে তারাও এফডিএর কাছে টিকার জরুরি প্রয়োগের অনুমতির আবেদন করবে।

করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলো যে পর্যায়ে কার্যকারিতা দেখিয়েছে, তাতে ৭০ শতাংশ মার্কিনিকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেলে আগামী বছরের মে মাস নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ‘সত্যিকারের হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন ড. স্লাওই।