ফুঁসছে লেবানন, বৈরুতে বিক্ষোভ, লাঠিপেটা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

ফুঁসছে লেবানন, বৈরুতে বিক্ষোভ, লাঠিপেটা

ডেস্ক রিপোর্ট ৯:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০২০

print
ফুঁসছে লেবানন, বৈরুতে বিক্ষোভ, লাঠিপেটা

ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে লেবানন। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী বৈরুত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভ চলছে। গত শনিবার বিক্ষোভ দমনে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ও লাঠিচার্জ করে। প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে দেশটিতে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী প্রত্যেককে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন।

এর আগে বিক্ষোভকারীরা রাজধানী বৈরুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হামলা চালায়। তারা প্রেসিডেন্টের ছবি নামিয়ে ফেলে এবং বিভিন্ন নথি ছিড়ে ফেলে। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে জনগণ।

এরইমধ্যে সংকট উত্তরণে আগামী ১০ বছরের জন্য লেবাননের কর্তৃত্ব ফ্রান্সের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশন খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

হাসান দিয়াবের এমন আহ্বানের মধ্যেই দেশটির রাজপথে নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী বৈরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে গুলির আওয়াজ আসতে থাকে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৈরুতে এদিনের সহিংসতায় অন্তত ৭২৮ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। লেবাননকে ফ্রান্সের কর্তৃত্বে নেওয়া সংক্রান্ত পিটিশনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা স্পষ্টতই রাষ্ট্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও দেশ পরিচালনায় তাদের অক্ষমতা দেখিয়েছে।

একটি ব্যর্থ ব্যবস্থা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ এবং মিলিশিয়া বাহিনী দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্র ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এক সময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল লেবানন।

এখন এ পিটিশনের উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লেবাননকে ফের ফ্রান্সের অধীনে ফিরে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।