বৈরুতে হাহাকার আর্তনাদ

ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১১ আশ্বিন ১৪২৭

বৈরুতে হাহাকার আর্তনাদ

ডেস্ক রিপোর্ট ৯:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০২০

print
বৈরুতে হাহাকার আর্তনাদ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গত মঙ্গলবার ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটির বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলাকালে তাদের গৃহবন্দি করা হলো। বৈরুত কাঁপানো সেই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৩৫ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৫ হাজারের বেশি। এ ঘটনার পর লেবাননে দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গুদামে রাখা ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কারণে এ বিস্ফোরণ হয়েছে।

দেশটির কাস্টমস প্রধান বাদরি দাহের বলেন, এসব রাসায়নিক পদার্থ সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তার সংস্থা বললেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। কৃষিকাজের জন্য সার এবং বিস্ফোরক বানানোর জন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়।

গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদের এক জরুরি বৈঠকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিস্ফোরণের কারণে বৈরুত শহরে যে আতঙ্ক নেমে এসেছিল সেটি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পুরো শহর দুর্যোগকবলিত হয়েছিল। ব্রিটেনের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা শহরে যে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়েছিল, সেটির দশভাগের এক ভাগ শক্তি ছিল বৈরুত বিস্ফোরণে। তারা বলছেন, বৈরুতের এই বিস্ফোরণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক-বহির্ভূত বিস্ফোরণ।

সংবাদদাতারা বলছেন, গুদামটিতে যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল এবং তা ছয় বছর ধরে অনিরাপদ অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৩ সালে একটি জাহাজে করে এ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বৈরুত বন্দরে এসেছিল। বৈরুত বন্দরের প্রধান এবং কাস্টমস প্রধান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা জানতেন যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিপজ্জনক এবং বন্দরের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে রাখা রাসায়রিক পদার্থ রফতানি কিংবা বিক্রি করে দেওয়ার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার চিঠি লেখা হয়েছিল।

লেবাননের সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিল বলেছে, এ ঘটনার জন্য যারা দোষী হবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। লেবাননের তথ্যমন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ বলেছেন, ২০১৪ সাল থেকে বন্দরের যেসব কর্মকর্তা সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ রাখা, সেগুলো তত্ত্বাবধান করা এবং এর কাগজপত্র যারা দেখাশোনা করেছেন সবাইকে গৃহবন্দি করা হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মৃত্যুর এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে হতাহতদের খুঁজছেন। এ ঘটনায় তিন লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন এবং বৈরুতের গভর্নর মারওয়ান আবুদ বলেছেন, আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।

জরুরি খাদ্য-মেডিকেল সামগ্রীসহ টিম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ : লেবাননে খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী এবং মেডিকেল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রয়োজনে জরুরিভিত্তিতে বাংলাদেশ লেবাননকে যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে, বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছারবেল ওহেবিকে ফোন করে সেদেশে বিস্ফোরণে নিহতদের বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করার সময় এসব বিষয় জানিয়েছেন। এ সময় ড. মোমেন বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য লেবানন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।