বিক্ষোভে নাকাল ট্রাম্প, সেনা নামানোর প্রস্তুতি

ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ | ৫ আষাঢ় ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বিক্ষোভে নাকাল ট্রাম্প, সেনা নামানোর প্রস্তুতি

ডেস্ক রিপোর্ট 
🕐 ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২০

বিক্ষোভে নাকাল ট্রাম্প, সেনা নামানোর প্রস্তুতি

পুলিশি হেফাজতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল পুরো যুক্তরাষ্ট্র। টানা সাত দিন ধরে শহরে শহরে চলছে বিক্ষোভ। ৪০টি শহরে কঠোর কারফিউ জারি করার পরও তা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি পুলিশি দমনের বিপরীতে চলছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ। ২৩টি অঙ্গরাজ্যে সক্রিয় রয়েছেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। এখন পর্যন্ত তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য, গ্রেফতার হয়েছেন অর্ধশতাধিক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহিংস আন্দোলন না থামালে সেনা অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে চীন, ইরানসহ কয়েকটি দেশ সহিংসতা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

গত সোমবার হোয়াইট হাউসসহ বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরতদের ওপর পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বেশ ক’জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিক্ষোভ চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আর শিকাগোর সিসেরো এলাকায় দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শহরের মুখপাত্র রে হানানিয়া জানিয়েছেন, সিসেরোর বাইরে থেকে আসা দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকা- চালিয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

সিএনএন- প্রতিবেদক ড্যান সিমন জানিয়েছেন, সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে কারফিউ শুরুর আগেই বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিলো বলে উল্লেখ করেন সিমন। তবে টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে ওকল্যান্ডের পুলিশ বিভাগ দাবি করে বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভঙ্গ করেছে। ৪০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথা জানিয়েছেন তারা।

মিনেসোটার সেন্ট পলের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরা সোমবার রাতে অন্তত ৬৬ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা মিছিল করতে করতে করতে গভর্নর ম্যানশন থেকে ক্যাপিটলের দিকে এগিয়ে যায়। তবে রাত ১০ টায় কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও কিছু বিক্ষোভকারী অবস্থানস্থল ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোমবার হোয়াইট হাউসের কাছে বিক্ষোভরতদেরকে সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে বের হয়ে একটি গির্জায় যান।

এদিকে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট হচ্ছে উল্লেখ করে সোমবার বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান গভর্নর বিল দে ব্লাসিও।

তিনি জানান, অনেকে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে লুটপাট করছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, অন্যকে আঘাত করছে। তবে তার বিবৃতির পর সোমবার রাতেও অনেক দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙে লুটপাট হয়েছে।

এরমধ্যে বিক্ষোভ দমনে সেনা অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরইমধ্যে রাজধানীতে সেনা নামানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। হুমকি দিয়েছেন, বিক্ষোভ প্রশমিত না হলে অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, সহিংস বিক্ষোভ থামাতে রাজধানীর সড়কগুলোতে হাজারো সেনা নামাচ্ছেন তিনি। অঙ্গরাজ্যগুলো বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে তিনি দ্রুত তাদের সংকট থেকে বের করে আনতে সেনা মোতায়েন করবেন।

আগেও ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে বিক্ষুব্ধরা হোয়াইট হাউজের বাইরে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করে। সেখানে সংঘর্ষও হয়। ভয়ে বিশেষ বাঙ্কারে অবস্থান নেন ট্রাম্প।

 
Electronic Paper


SA Engineering