যুক্তরাষ্ট্র উত্তাল, সেনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

পুলিশি নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্র উত্তাল, সেনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

print
যুক্তরাষ্ট্র উত্তাল, সেনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

পুলিশি নির্যাতনের পর এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে দেশটির রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে লাস ভেগাসে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েনের জন্য সর্বনিম্ন চার ঘণ্টার নোটিস জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য সেনাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ১৯৯২ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে দাঙ্গার ঘটনার পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে সেনা মোতায়েন হতে যাচ্ছে।

মিনেসোটায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, জজির্য়া, শিকাগো, ইলিনয়েস, আইওয়া, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, লুইজিয়ান, নিউইয়র্ক. ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, নেভাডা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওহিও, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে মানুষ। ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আগুন।

প্রথমদিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংসতায় রুপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা মিনিয়াপোলিসের প্রধান পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে পুলিশ, গ্রেফতার করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে।

এদিকে, ডেট্রয়েটে বিক্ষোভের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভের সুযোগে আটলান্টার লেনক্স শপিংমলে হামলা চালিয়ে লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এছাড়া সেখানকার একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ দমাতে জর্জিয়ার ফুল্টন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর ব্রায়ান কেম্প। অন্তত ৫০০ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে আটলান্টা জুড়ে।

লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতের সহিংসতায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। যেকোনও ধরনের অবৈধ জনসমাবেশ এড়িয়ে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সেখানকার প্রশাসন।

এর আগে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড। গত ২৫ মে সন্ধ্যায় প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরেন জর্জের। এভাবে অন্তত আট মিনিট তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখা হয়। সূত্র : সিএনএন, এপি, আল জাজিরা

এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’ তার মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ।