মানবিকতা ও সহমর্মিতা

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

মানবিকতা ও সহমর্মিতা

ডেস্ক রিপোর্ট ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

print
মানবিকতা ও সহমর্মিতা

গল্পটা এক নারী আর এক পুরুষের। যাদের দুজন দুই ধর্মের, দুই জাতিগোষ্ঠীর। যে দুটি জাতির মধ্যে আছে দীর্ঘ বিরোধ, রক্তপাত আর গণহত্যার ইতিহাস; কিন্তু এ বিরোধের ইতিহাস তাদের দুজনের সম্পর্কের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সম্পর্কটা প্রেমঘটিত নয়, একান্তই মানবিকতা আর সহমর্মিতার। এক নিঃসঙ্গ অসহায় বৃদ্ধার প্রতি সম্পূর্ণ অচেনা এক লোকের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার গল্প। যেখানে বাধা হতে পারেনি দুজনের ধর্ম, জাতিগত বিরোধ কিংবা পথের দূরত্ব। এসব কিছুকে হার মানিয়ে জয় হয়েছে মানবিকতার।

গল্পটা বলকান অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ব ইউরোপের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কসভোর। গল্পের নায়ক ফাদিল রামা নামের এক কসভোর নাগরিক। যিনি জাতিগত আলবেনীয়। তিনি স্থাপন করেছেন এমন অনন্য নজির, যা জায়গা করে নিয়েছে বিশ্ব মিডিয়ায়। নিজের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে প্রত্যন্ত এক গ্রামে একাকী বসবাস করা এক সার্ব বৃদ্ধার দেখাশোনার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। নিঃসঙ্গ বৃদ্ধাকে একটু স্বস্তি দেওয়াটাই যার উদ্দেশ্য।

কসোভোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নাম ভাগনেস। গ্রামটির একমাত্র বাসিন্দা ৯২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। নাম তার ভøাদিকা দিচিচ। যার সন্তানরা কেউ তার কাছে থাকে না। নিজ নিজ স্বার্থে তারা চলে গেছে দূরে। দেখাশোনা কিংবা সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই তাই বৃদ্ধার। শুধু যে নিজের ঘরে একা থাকেন ভøাদিকা দিচিচ তাই নয়, পুরো গ্রামেই তিনি একা। গত প্রায় ২০ বছর ধরে ভাগনেস গ্রামের একমাত্র বাসিন্দা হয়ে আছেন তিনি।

ছবির মত সুন্দর একটি গ্রাম; কিন্তু সেটি খালি পড়ে আছে। গ্রামের রাস্তাঘাটে ঘাস গজিয়ে উঠেছে, কারণ সেখানে মানুষের পা পড়ে না। গ্রামটিতে আছে সুন্দর একটি গির্জা- যেটিতে এ শতাব্দীর শুরু থেকে আর কেউ যায়নি প্রার্থনার জন্য। যাবে কি করে পুরো? গ্রামটিতেই তো বাসিন্দা বলতে ওই একজন। বছর বিশেক আগে গ্রামটিতে কয়েকটি পরিবার মিলে বিশ জনের মতো লোক ছিল; কিন্তু নগরায়ণের সুবিধা ভোগ করতে তারা গ্রাম ছেড়ে সবাই পাড়ি জমিয়েছেন বিভিন্ন শহরে।

একজন অবশ্য গ্রামের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি। পারেননি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বেড়ে ওঠা জীবন ছেড়ে হঠাৎ শহুরে হয়ে যেতে। তিনি ভøাদিকা দিচিচ। কিন্তু দীর্ঘদিন একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকলেও এক সময় বয়সের কাছে কাবু হয়ে গেছেন দিচিচ। এখন আর নিজের প্রয়োজনীয় কাজটুকুও করতে পারেন না তিনি। ৯২ বছর বয়সে এসে তাই তার বেঁচে থাকাই হয়ে উঠেছে কষ্টকর। কোনো একদিন কীভাবে যেন সেটিই চোখে পড়ে ফাদিল রামার। বিবেকের তাড়নাকে তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি।

এগিয়ে আসেন দ্রুত। নিজের সব কাজ সামলেও তিনি সময় বেড় করে নেন বৃদ্ধা দিচিচকে সহযোগিতার। দুই কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম স্ট্রেজোভচে থেকে নিজের গাড়ি নিয়ে সপ্তাহে দুই বার তিনি যান ভাগনেস গ্রামে।

ঘটনাটি বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় আসার কারণ দিচিচ ও ফাদিলের জাতিগত পরিচয়। একজন আলবেনীয় অন্যজন সার্ব জাতিগোষ্ঠীর। যে দুটি জাতির মধ্যে রয়েছে বিরোধ, সংঘাত আর লড়াইয়ে রক্তাক্ত ইতিহাস। সে সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের তাকাতে হবে ইতিহাসের দিকে। সূত্র : আলজাজিরা।