চীনে আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা সুস্থ

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চীনে আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা সুস্থ

আন্তর্জাতিক ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৪, ২০২০

print
চীনে আবিষ্কৃত করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা সুস্থ

করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনেই। আর এ ভাইরাস নির্মূলে প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য নামে চীন। এরই ধারাবাহিকতায় ভ্যাকসিনও আবিষ্কার করে দেশটির গবেষকরা-ডাক্তাররা।

ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য একদল স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়েছিল এ ভ্যাকসিন। প্রথম পর্যায়ে ১০৮ সুস্থ-সবল স্বেচ্ছাসেবী এ ট্রায়ালে অংশ নেন। শরীরে ভ্যাকসিন প্রবেশ করানোর পর তাদেরকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

এর মধ্যে ১৮ জনকে নিবিড় মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এদের ১৪ জনের কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদেরকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন শেষে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।

গবেষক দল এই স্বেচ্ছাসেবীদের আরও ৬ মাস পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের রক্তের নমুনা ল্যাবরেটরিতে রাখা হয়েছে। তাদের রক্তের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে গবেষক দলের সদস্যরা।

গবেষক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে তারা চীনের বাইরেও এ ট্রায়াল চালাবে।

এ ট্রায়ালে অংশ নেয়া ১০৮ জনের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর। এ সব স্বেচ্ছাসেবীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। এরপর গ্রুপ অনুযায়ী তাদের শরীরে বিভিন্ন মাত্রায় ভ্যাকসিন প্রবেশ করানোর হয়। তাদেরকে উহান স্পেশাল হেলথ সার্ভিসের আইসোলেশন রাখা হয়। সেখানে তাদের শারীরিক গতিপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে গবেষক দল।

কেয়ারেন্টাইন শেষে স্বেচ্ছাসেবীদের অনেকেই বলেছেন, তারা প্রথম কয়েকটা দিন সামান্য ব্যথা অনুভব করেছে। তবে তারা সবাই সুস্থ এবং আগের শারীরিক অবস্থায় আছেন। তারা ভ্যাকসিনটির বিষয়ে খুবই আশাবাদী।

গত ১৭ মার্চ মেডিকেল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন পায় চীনা গবেষকদের আবিষ্কৃত এ ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিনটি আবিষ্কারে নিয়ামক ভূমিকা রাখে চীনের মিলিটারি বায়ো-ওয়েলফেয়ার বিশেষজ্ঞ চেন উই।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এ ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ। এদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মানুষ। শুধুমাত্র চীনেই আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজারের বেশি মানুষ ও প্রাণ গেছে ৩ হাজার ৩২৬ জনের।