‘করোনা ভাইরাসের আগেই না খেয়ে মরব’

ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

‘করোনা ভাইরাসের আগেই না খেয়ে মরব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৭:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

print
‘করোনা ভাইরাসের আগেই না খেয়ে মরব’

ভারতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। আর মারা গেছে ১০ জন। তাই দিন দিন এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঠেকাতে সারা দেশ আগামী তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন দেশটির দিনমজুর মানুষরা।

গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে এই লকডাউন জারি থাকবে।’ এই সময়ে দেশের কোনো নাগরিককে বাড়ির বাইরে পা না রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তবে ভারতে টানা ২১দিন ‘লকডাউন’ ঘোষণা করায় মহাবিপদে পড়েছেন দিনমজুর মানুষরা। এ সময় সরকারের কাছ থেকে যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা না পেলে অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন তারা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দিনভিত্তিক মজুরির শর্তে ভারতের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী কাজ করে থাকে। বিভিন্ন কলকারখানাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। সারা দেশ অচল হয়ে যাওয়ায় আয়ের এই উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।

উত্তর প্রদেশের রমেশ কুমার নামের এক দিনমজুর সেসব কর্মীদের একজন, যিনি প্রতিদিন ৬০০ রুপি আয় করে ঘরে ফেরার সময় চাল, ডাল কেনেন।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, ‘প্রতিদিন আমার পাঁচজনকে খাওয়াতে হয়। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি আমি জানি। কিন্তু ছেলেমেয়েকে তো খাবার দিতে হবে।’

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর নভেল করোনা ভাইরাসে ভারতে ৫০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই অবস্থায় সংক্রমণ থামাতে লকডাউন ঘোষণা করার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিম্ন আয়ের মানুষদের সরাসরি অর্থ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কতটা রাখা হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

রাজপাল সিং নামের একজন যেমন বলছিলেন, ‘বলা হচ্ছে অর্থ দেওয়া হবে। কিন্তু সেটি কীভাবে তা এখনো আমরা জানি না। আর দিলেও কতদিন, কত করে দেওয়া হবে, তাও বলা হয়নি। এই অবস্থায় আমরা শঙ্কিত।’