শুধু মানুষ নয়, ব্যাংক নোটও কোয়ারেন্টাইনে রাখছে চীন

ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

করোনা ভাইরাস

শুধু মানুষ নয়, ব্যাংক নোটও কোয়ারেন্টাইনে রাখছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

print
শুধু মানুষ নয়, ব্যাংক নোটও কোয়ারেন্টাইনে রাখছে চীন

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে বাঁচতে সংক্রমিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি এবার ব্যাংক নোটকেও কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক নোটগুলোকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার আগে উচ্চ তাপমাত্রা বা আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মির মাধ্যমে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করে নেয়া হচ্ছে। তারপর সেগুলো সিল করে কোয়ারেন্টেইনে রাখা হচ্ছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন বলছে, করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর উহানে মজুতকৃত মাস্ক ও জীবাণুনাশক বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। মাস্ক সংকটের কারণে অনেককে বোতলকে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সর্বশেষ করোনা থেকে দূরে থাকতে ব্যাংক নোটগুলো জীবাণুনাশক ও কোয়ারেন্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নিল বেইজিং।

চীনের সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর ফান ইয়াইফেই রোববার বলেছেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাস্টমারদের নতুন ব্যাংক নোট সরবরাহ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চার বিলিয়ন ইউয়ান (চীনা মুদ্রা) নোট ছাপানোর নির্দেশ দিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, জনগণের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে মোবাইলে আর্থিক লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় সেন্ট্রাল ব্যাংকর এই উদ্যোগ কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাস এখন শুধু চীনা মূল ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই, দুই ডজনেরও অধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ছোঁয়াচে এই রোগ থেকে বাঁচতে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি, পরিবার, এলাকা বা দেশ থেকে দূরে থাকার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

চীনে এই ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর সারাবিশ্বে মাস্ক ব্যবহার বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, আপাদমস্তক ঢেকে চলাচল করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। লিফটে টিস্যুর প্যাকেট রেখে দেয়া হচ্ছে, যাতে করে বাটন প্রেস করার সময় টিস্যু ব্যবহার করা যায় এবং এক ব্যক্তির মাধ্যমে যেন অন্য ব্যক্তির শরীরে তা ছড়িয়ে না পড়ে।

গত ডিসেম্বরে চীনে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়।

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে হংকং, ফিলিপাইন ও জাপানে একজন করে মোট তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার এশিয়ার বাইরে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে চীনা এক নারী পর্যটক করোনায় মারা যাওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে।

চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাণঘাতী এই প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়ার সময় অন্তত ১ হাজার ৭১৬ মেডিকেল কর্মী সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া করোনায় সংক্রমিত হয়ে অন্তত ছয়জন চিকিৎসকও প্রাণ হারিয়েছেন। সিঙ্গাপুর, জাপান, থাইল্যান্ড, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের ২৮টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস।

এদিকে চীন এবং করোনাভাইরাস আক্রান্ত অন্যান্য দেশ থেকে দিল্লিতে আসা কয়েক হাজার মানুষের শরীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৭ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। গত মাসের মাঝের দিক দিল্লি বিমানবন্দরে কয়েক হাজার মানুষের শরীর পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ওই ১৭ জনের শরীরে করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়। পরে তাদের দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ।