কিউবার দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

কিউবার দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

print
কিউবার দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

জ্যামাইকা, কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ ও পূর্ব কিউবার মধ্যবর্তী ক্যারিবিয়ান সাগরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়েছে। এতে জ্যামাইকা, কিউবা থেকে শুরু করে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি পর্যন্ত বিশাল একটি এলাকা কেঁপে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে হতাহত বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি জ্যামাইকার মন্টিগো বে শহর থেকে ১৩৯ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে এবং কিউবার নিকুয়েরো শহর থেকে পশ্চিম দক্ষিণপশ্চিম দিকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে সাগরতলের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

স্থানীয় সময় ভোররাত ২টা ১০ মিনিটের সময় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির ঢেউ তৈরির সম্ভাবনা প্রায় পার হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক সুনামি তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে। তবে এরপরও ওই অঞ্চলের সমুদ্র পৃষ্ঠের এক ফুট পর্যন্ত ওঠানামার সম্ভাবনা এখনও আছে বলে জানিয়েছে তারা।

বিবিসি জানিয়েছে, এক টুইটে সিসমোলোজিস্ট ড. লুস জোন্স বলেন, “এম ৭.৭ জ্যামাইকান ভূমিকম্পটির কারণে চ্যুতিতে পার্শ্ব সঞ্চরণ ঘটায় সুনামির সম্ভাবনা কম।” প্রথম ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়। এরমধ্যে কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৬ দশমিক ১ মাত্রার বড় ধরনের একটি পরাঘাতও ছিল।

ভূমিকম্পটি কিউবার রাজধানী হাভানা, জ্যামাইকার কিংস্টোন, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরসহ কোথাও কোথাও উৎপত্তিস্থলের ৭০৮ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। মিয়ামি ও জ্যামাইকার কয়েকটি অংশে সাময়িকভাবে বিভিন্ন দপ্তর খালি করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কেইম্যানের রাজধানী জর্জ টাউনের শিক্ষনবিশ ট্র্যাভেল এজেন্ট সিনডি ওয়েলকাম (২৭) জানান, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর তিনি প্রথমে তার ব্লাডপ্রেশার বেড়ে গেছে বলে মনে করেছিলেন, তারপর ভূমিকম্প বুঝতে পেরে চেঁচানো শুরু করেন।

“ভবনটি কাগজের মতো কাঁপছিল। আতঙ্কটা বাস্তব ছিল। যত ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা হয়েছে এর মধ্যে এটাই সবচেয়ে মারাত্মক ছিল,” বলেন তিনি।

দ্বীপপুঞ্জের ৪৪ বছর বয়সী ঝুঁকি ব্যবস্থাপক জুয়েল হাইডস জানান, ড্রেনগুলো উপচে পড়ছে ও রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছে, এক গর্তে একটা গাড়ির অর্ধেকটা ঢুকে গেছে।

“এটা সত্যি, সত্যি ভয়ঙ্কর ছিল। এই দ্বীপের প্রত্যেকে আতঙ্কিত হয়ে আছে। আমরা বহু লোককে প্রার্থনা করতে দেখেছি, অনেকে ভবনগুলো থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে আসে.” বলেন তিনি। ফ্লোরিডার মিয়ামি শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি ভবনের দপ্তরগুলো থেকে কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ায় সেগুলো খালি হয়ে যায়।


ভূমিকম্পের সময় মিয়ামির পার্সোনাল ইনজুরি অ্যাটর্নি ইলা স্টিয়ার্স একটি ভবনের ২৯ তলায় তার দপ্তরে ছিলেন। মিয়ামিতে এত তীব্র ভূমিকম্প অপ্রত্যাশিত ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। আকাশচুম্বি ভবন আন্দোলিত হচ্ছে, ভূমিকম্পের সময় এ ধরনের বহু ফোন পেয়ে তারা সাড়া দিয়েছে বলে মিয়ামি-ডেইড ফায়ার রেসক্যু বিভাগ জানিয়েছে। তবে হতাহত বা স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয়েছে বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছে কেইম্যান ব্র্যাক শহরের মুখপাত্র অ্যাঞ্জি ওয়াটলার জানান, ভূমিকম্পে এখানে কয়েকটি ভবন ও এক রিজোর্টের একটি সুইমিংপুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। কিউবার বেশ কয়েকটি প্রদেশে ভূমিকম্পটি অনুভূত হলেও রাজধানী হাভানায় তেমন তীব্রভাবে অনুভূত হয়নি বলে রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানিয়েছেন।