সিডনিতে স্বস্তি আনল প্রবল বর্ষণ

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

সিডনিতে স্বস্তি আনল প্রবল বর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৪:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

print
সিডনিতে স্বস্তি আনল প্রবল বর্ষণ

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে এবার সবচেয়ে বড় শহর সিডনিতে স্বস্তি এনে দিয়েছে প্রবল বৃষ্টি। কয়েকমাস ধরে যার দেখা ছিল না, সেই কাক্সিক্ষত ঘনঘোর বর্ষার এমন রূপ দেখে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভেসেছে নগরবাসী।

গত সেপ্টেম্বর থেকেই দাউ দাউ করে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বন-জঙ্গল। আগুনের বলয়ে আটকা পড়েছে বহু মানুষ। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৪ জনের। তাপমাত্রা সময়ে সময়ে অসহনীয় হয়েছে। দমকলকর্মীরা আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে হয়েছে ক্লান্ত-শ্রান্ত। খরায়, দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরাও।

অবশেষে বৃষ্টি থৈ থৈ পানিতে চারদিক ভরিয়ে দিয়ে প্রতিটি মানুষকেও আনন্দের বন্যায় ভাসিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনি এবং এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাসহ উত্তর উপকূলের দাবানলে পুড়ে ছারখার হওয়া এলাকাগুলোতে শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎসহ এ ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। ভিক্টোরিয়া এবং কুইসল্যান্ডেও দাবানলের আগুন নিভিয়ে দিয়ে ঝরেছে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এসব এলাকায় এ সপ্তাহজুড়েই আরও বৃষ্টির পূর্ভাবাস আছে। আগামী রোববারের মধ্যে ৩০ থেকে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া ব্যুরো।

শুক্রবার বৃষ্টি প্রথমে ফোঁটা ফোঁটা করে পড়া থেকে শুরু করে পরে ৪ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও গোটা অস্ট্রেলিয়ার দাবানল থামাতে এ বৃষ্টি যথেষ্ট নয়। কারণ, দেশটির দক্ষিণের অনেক অঞ্চলে এখনও দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তারপরও আপাতত কয়েকটি জায়গায় ভারি বর্ষণের কারণে প্রাণঘাতী আগুন নিভে গেছে, রাস্তা হয়েছে কর্দমাক্ত। তাই স্বভাবিকভাবেই অনেকে খুশি হয়েছে।

অপ্রত্যাশিত এ বৃষ্টির দৃশ্যে ভরে গেছে স্যোশাল মিডিয়া। স্থানীয়রা উচ্ছ্বাস নিয়ে একের পর এক শেয়ার করেছে ছবি, ভিডিও। সিডনির উত্তরে স্বেচ্ছাসেবী দমকল ব্রিগেডের এক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রে হোয়াইটের কথায়, ‘এ বৃষ্টি এক স্বস্তি, এর বদৌলতে এখানে এ মুহূর্তে সব আগুনই নিয়ন্ত্রণে চলে এল।’ তবে খুশি-আনন্দের পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে মানুষকে পোহাতে হয়েছে কিছু সমস্যাও। সিডনিতে বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হয়েছে ট্রেন চলাচল, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম, কোনো কোনো জায়গায় দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। পানিতে ছাই এবং আবর্জনা ভেসে গিয়ে জলাধারে পড়ায় অনেক এলাকাতেই পানি সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সিডনির ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহকারী জলাধার ওয়ারাগাম্বা বাঁধে পানি দূষণমুক্ত করার চেষ্টা চলছে।