ফ্রান্সে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় নীরব ইইউ

ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

ফ্রান্সে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় নীরব ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৫:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

print
ফ্রান্সে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় নীরব ইইউ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পেনশন ব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের ওপর ধর্মঘটের প্রথম দিনে পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সাধারণত ইউ বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সংকট সমাধানে দ্রুত এগিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু নাকের ডগায় ফ্রান্সে পুলিশের বল প্রয়োগের বিষয়ে নীরব থাকা, সংস্থাটিকে ফেলে দিয়েছে সমালোচনার মুখে।

গতকাল শনিবার তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইইউ ফ্রান্স পুলিশের এ অতিরিক্ত বল প্রয়োগের নিন্দা জানাতে অনিচ্ছুক। এটা সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক আচরণ। ফ্রান্সে পেনশন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিবাদে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সেখানে পুলিশ ধর্মঘটে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে। এদিন কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হন সাংবাদিক মোস্তফা ইয়ালসিন।

এয়ার ফ্রান্স জানায়, ধর্মঘটের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ৩০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। প্লেন ব্যবস্থা ইজিজেট জানায়, ধর্মঘটের কারণে তাদের ২২৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

যানবাহন শ্রমিক থেকে শুরু করে শিক্ষক, আইনজীবী, হাসপাতাল ও বিমানবন্দর কর্মীসহ সব ধরনের পেশাজীবী মানুষ বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটে অংশ নেন। অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট কতদিন অব্যাহত থাকবে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। ম্যাক্রোঁ পেনশন ব্যবস্থা ও অবসরের সময়সীমা সংস্কার পরিকল্পনা বাতিল না করা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলে জানান ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।

এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের মুখপাত্র এরিক মামের বলেন, কমিশন মানুষের আন্দোলনের অধিকার এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অধিকারের বিষয়ে সম্মান করে। একই সঙ্গে পুলিশের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে যেন, শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ আন্দোলন করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।’

এ বিষয়ে মামের বলেন, ‘কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রে সংগঠিত এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রত্যেকের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে।’

ম্যাক্রোঁ পরিকল্পিত পেনশন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিবাদে ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহৎ ধর্মঘট এটি। ধর্মঘটের প্রথম দিনে ৭ কোটি জনসংখ্যার দেশটির প্রায় ৮ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।

ফ্রান্সে বর্তমানে প্রায় ৪২ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এগুলো বিলোপ করে সংস্কারের মাধ্যমে পেনশনকে একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

১৯৯৫ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন সরকার পেনশন ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় দেশজুড়ে তিন সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ-ধর্মঘট হয়েছিল।