বড়ই নিঃসঙ্গ বরিস জনসন

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

ব্রেক্সিট নিয়ে নিজ দলে বিদ্রোহের সুর

বড়ই নিঃসঙ্গ বরিস জনসন

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

print
বড়ই নিঃসঙ্গ বরিস জনসন

বড়ই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ক্ষমতায় আসার পর তাকে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ব্রিটিশ সংসদে বিরোধী ও বিদ্রোহী পক্ষ এবং আদালত সামাল দিতে হচ্ছিল। টোরি দলের মধ্যে বিপুল সমর্থন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অন্তত অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আশঙ্কা ছিল না। এবার মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের ফলে ঠিক সেটাই ঘটতে চলেছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

গতকাল বুধবার দ্য টাইমস সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় দলের অনেক সদস্য পদত্যাগ করতে চলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস এই দাবি করেছে।

জার্মানিভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, দলের মধ্যে সত্যি এমন বিদ্রোহ ঘটলে বরিস জনসনের রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা বড় ধাক্কা খেতে পারে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যে কোনো মূল্যে ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করে আগাম নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থনের আশায় রয়েছেন তিনি। কিন্তু দলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তার সঙ্গ ত্যাগ করলে নির্বাচনে সাফল্য অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। বিরোধীদের মধ্যে বেড়ে চলা ঐক্যও টোরি দলের জয়ের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে পারে।

এদিকে আর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ব্রেক্সিট কার্যকর করার সম্ভাবনাও কমে চলেছে। মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর শেষ মুহূর্তে বোঝাপড়ার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছে।

দফতরের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মেরকেল নাকি উত্তর আয়ারল্যান্ড সম্পর্কে এমন দাবি করেছেন যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘গোপন’ এই সংলাপ সম্পর্কে জার্মান চ্যান্সেলরের দফতর এখনো মুখ খোলেনি। তবে জার্মান সংসদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান নর্বাট ব্যয়োটগেন এক টুইট বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জার্মানির অবস্থানে কোনো রদবদল ঘটেনি। শুরু থেকেই জনসনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে চুক্তির সম্ভাবনা অবাস্তব ছিল। তা সত্ত্বেও ইইউ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এমন পরিস্থিতির জন্য অন্যদের দায়ী করা মোটেই ঠিক না।

কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে ইইউ সরকারগুলোর পরিষদের প্রধান ডোনাল্ড টুস্ক সরাসরি বরিস জনসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি জনসনের উদ্দেশে দোষ চাপানোর ‘বোকা’ খেলা ছেড়ে ব্রিটেন ও ইউরোপের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ডাক দিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তার সরাসরি প্রশ্ন, আপনি চুক্তি চান না, ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াতে চান না, ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে চান না, কী চান আপনি?

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রধান ডাভিড সাসোলি আরও এক ধাপ এগিয়ে বরিস জনসনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মঙ্গলবার লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বলেন, পাঁচদিন আগে জনসন ইইউ মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ের কাছে যে প্রস্তাব পেশ করেছেন তার আইডিয়া যদি শুধু সেটুকুর মধ্যেই সীমিত হয়, তার অর্থ জনসন আদৌ কোনো চুক্তি চাইছেন না।

এমন নেতিবাচক পরিবেশ সত্ত্বেও ব্রাসেলসে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকরের সঙ্গে বরিস জনসনের টেলিফোন সংলাপের পর সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন কোভেনি শেষ মুহূর্তে বোঝাপড়া সম্পর্কে আশা প্রকাশ করেছেন।