বরিসের হাতে চার বিকল্প

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬

ব্রেক্সিট নিয়ে ঘোর সংকট

বরিসের হাতে চার বিকল্প

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
বরিসের হাতে চার বিকল্প

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে এ পর্যন্ত ছয়বার বিভিন্ন প্রস্তাবে অনুষ্ঠিত হওয়া ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি পার্লামেন্ট স্থগিত করে দিতে পারেন, সাময়িক সময়ের জন্য হলেও, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে বছরের এই সময়টাতে সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সম্মেলন করে থাকে, ফলে পার্লামেন্ট এই সময়ে সাধারণত বন্ধই থাকে।

কিন্তু পাঁচ সপ্তাহের মতো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে না এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আশা করাও উচিত নয় যে, এত দীর্ঘ সময় পার্লামেন্ট বন্ধ থাকবে। ব্রিটিশ গণতন্ত্রকে ‘চুরমার’ করে দেওয়ার জন্য বরিস জনসনকে দূষছেন বিরোধী নেতারা।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, কার্যত এর মাধ্যমে দলের এমপিদের বিরোধীদের সঙ্গে জোট বাধা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, যাতে সময় স্বল্পতার কারণে তার চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে না পারেন তারা। তবে এটা নিঃসন্দেহ যে, এর মাধ্যমে জনসন কিছু বাড়তি সময় হাতে পাবেন। কিন্তু তিনি ঠিক কী করতে যাচ্ছেন?

বিবিসির রাজনীতি বিষয়ক সংবাদদাতা রব ওয়াটসন বলছেন, বরিস জনসনের হাতে মূলত চারটি বিকল্প উপায় রয়েছে, এর যেকোনো একটিকে তার বেছে নিতে হবে। এক. আইন অমান্য করে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইইউ ত্যাগ করা, দুই. দ্রুত একটি চুক্তি করা, তৃতীয়. পদত্যাগ করা ও চতুর্থ. ইইউ ছাড়ার জন্য সময় বাড়িয়ে নেওয়া।
এখন দেখা যাক ব্রিটেন এবং তার জনগণের জন্য এসব বিকল্পের মানে কী?

প্রথম পথ হিসেবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে একটি চুক্তি না হলে, ইইউ ছাড়া ঠেকাতে পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। তার মানে হচ্ছে, ব্রেক্সিটের জন্য সময় বাড়ানোর জন্য এখন দেশটির এমপিরা আইনগতভাবে বাধ্য। কিন্তু সরকার এই আইন সরাসরি অমান্য না করলেও, ইতোমধ্যেই আইনের সীমা নির্ধারণের বিষয়ে কঠিন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে।

চ্যান্সেলর সাজিদ জাভিদ বলেছেন, সরকার ইইউ এর কাছে সময় চাইবে না এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট হবে। জনসন নিজে সব সময় বলে এসেছেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট হবে। তবে তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন হুঁশিয়ারিও তাকে দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ নতুন চুক্তির পথে হাঁটতে হবে বরিসকে। সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া এই প্রধানমন্ত্রী বলছেন, পার্লামেন্ট বন্ধ থাকার সময়টিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কাজে ব্যবহার করবে সরকার। একইসঙ্গে চুক্তি ছাড়া ইইউ ত্যাগের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হবে। কিন্তু ইইউ বলছে, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ব্রিটিশ সরকারের তেমন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তৃথীয়তঃ পদত্যাগ করতে হতে পারে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ‘খাদে পড়ে মরে যাবেন’ তবু ব্রেক্সিটের সময় বাড়াতে চাইবেন না। একটু বাড়াবাড়ি শোনালেও, জনসনের হাতে থাকা বিকল্পের একটি হচ্ছে পদত্যাগ করা এবং বলা যে, অন্য কেউ চাইলে সময় বাড়াক, আমি সময় বাড়াতে চাইবো না। এখন যদিও কনজারভেটিভ পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, এমনিতেও হয়ত সাধারণ নির্বাচন দিতে হবে তাদের।

সর্বশেষ বিকল্প পথ হলো- সময় বাড়িয়ে নিয়ে রাজি হয়ে যাওয়া। সোমবার রাজকীয় সম্মতি পাওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবরের মধ্যে এমপিরা চুক্তিসমেত অথবা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সম্মতি না দিলে, প্রধানমন্ত্রীকে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্রেক্সিট পেছানোর জন্য সময় চাইতে হবে।