ড্রাইভিং সিটে কে বা কারা

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

ভারতজুড়ে শেষমুহূর্তের উত্তাপ

ড্রাইভিং সিটে কে বা কারা

কুন্তল দে ১১:২৬ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

print
ড্রাইভিং সিটে কে বা কারা

অপেক্ষা আর একদিন। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুজরাট- ভারতজুড়ে বইছে শেষমুহূর্তের উত্তাপ। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অরুণাচলে নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় বিধায়কসহ নিহত হয়েছেন ১১ জন। বুথফেরত জরিপে ক্ষমতাসীন বিজেপিজোটের নিরঙ্কুশ জয়ের আভাসের পর ইভিএম ইস্যু নিয়ে তেড়েফুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ইভিএম কক্ষে সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর সেখানে মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ইভিএম ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে কংগ্রেসসহ বিরোধী ২২ দল একযোগে নালিশ জানিয়েছে। দফায় দফায় তারা মিটিং করে নিজেদের রণকৌশল ঠিক করছেন। বসে নেই শাসক বিজেপিজোটও। বুথফেরত জরিপের ফলাফলকে অব্যর্থ নিজেরাও ভাবছেন না। তাই নিজেদের বিরোধী জোটে ফাটল ধরানো আর নিজেদের জোটের বাইরে মিত্র বাড়াতে মরিয়া তারাও। কেন্দ্র ও প্রদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এই হালহকিকতের মধ্যেই সবার এখন একটাই প্রশ্ন ড্রাইভিং সিটে বসছেন কে বা কারা?

৫৪৩ আসনের ভারতের লোকসভায় সরকার গঠন করার ম্যাজিক ফিগার হচ্ছে ২৭২। এর মানে কোনো দল বা জোট এ সংখ্যক আসন পেলেই তারা পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য বসবে দিল্লির মসনদে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন প্রায় ৯০ কোটি। দেড়মাস ধরে চলা তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয় ১৯ মে। একযোগে ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামীকাল ২৩ মে।

সর্বশেষ ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সংস্থা থেকে বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়। সবগুলো সংস্থার জরিপই আভাস দিয়েছে ৩০০-এর কাছাকাছি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-জোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের বিজেপি এবং এর সহযোগী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৩৩৬ আসন। বিজেপি এককভাবেই ২৮২ আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ফলে এককভাবেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায় তারা। ভোটের হিসাবে মোট প্রদত্ত ভোটের ৩১ শতাংশ পায় দলটি। অন্য শরীকরা মিলে পেয়েছিল ৮ শতাংশের মতো ভোট। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য নিজেদের ওপর নির্ভরশীল ছিল বিজেপি। এবারে বুথফেরত জরিপে আভাস দিচ্ছে, গতবারের চেয়ে আসন কমবে শাসকদের। ফলে সরকার গঠনের জন্য শরিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে দলটির। এমনকি আঞ্চলিক কোনো দলেরও সমর্থন লাগতে পারে তাদের। সেক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশে মায়াবতীর ওপর নির্ভর করতে হতে পারে নরেন্দ্র মোদির।

গতবারের নির্বাচনে হতাশাব্যঞ্জক ফলাফল করে কংগ্রেস এবং মিত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা ইউপিএ জোট। মাত্র ৪৪টি আসনে জয়ী হতে পারে ভারতের স্বাধীনতা আনা দলটি। সেক্যুলার মতাদর্শের কংগ্রেস শরিকদের নিয়ে মোট ৬০টি আসন নিয়ে সংসদে যায়। মোট ভোটারের মাত্র ১৯ শতাংশ পায় দলটি। জোট মিলে তারা পায় ২৩ শতাংশের কাছাকাছি ভোট। বুথফেরত জরিপ বলছে, এবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের আসন বাড়বে। এ সংখ্যা ১০০-১৩০ হতে পারে। যদিও বুথফেরত জরিপের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস জোট। তারা মনে করছে, ২৩ মে ফলাফল তাদের পক্ষেই যাবে। বিজেপি ঠেকাতে মমতা, মায়াবতী, অখিলেশ যাদব, চন্দ্রবাবু নাইডু, সীতারাম ইয়াচেরিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে মহাজোট গড়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। অন্যরা একজোট হলেও শেষমুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের মায়াবতী বিজেপি-কংগ্রেস দুই দিকেই আছেন।

কংগ্রেসসহ ২২টি বিরোধী দল মনে করছে বিজেপি জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার থেকে যদি আসন কম পায় তবে সম্মিলিতভাবে সরকার গঠনের সুযোগ তাদের সামনে আসবে। এক্ষেত্রে এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রাহুলই হয়তো এগিয়ে থাকবেন। কিংবা আগের রেওয়াজ অনুযায়ী কংগ্রেস সরকার গঠন না করে কোয়ালিশন সরকারের সমর্থন দেবে। এক্ষেত্রে কংগ্রেসের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন চন্দ্রবাবু নাইডু, মমতা কিংবা মায়াবতী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ নেতা এইচ কে দেবগৌড়া হতে পারেন। তবে কী ঘটতে যাচ্ছে তার অপেক্ষা আরও একদিন।