রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভাবছে বিশ্বের তরুণ সমাজ

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভাবছে বিশ্বের তরুণ সমাজ

ছাইফুল ইসলাম মাছুম ৭:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

print
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভাবছে বিশ্বের তরুণ সমাজ

 

অভিবাসন ও শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ সারা বিশ্বব্যাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে বহুকাল থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এই সংকটে ভুগছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ও শরণার্থী ইস্যু একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। মায়ানমার এর উত্তররাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নৃশংস অভিযান চালানো হয়েছে তারই ফলশ্রুতিতে লাখো মানুষ শরণার্থী হিসেবে পাড়ি দেয় পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে। শরণার্থী সমস্যা এখন কোন দেশের একক অভ্যন্তরীণ সমস্যানয়; এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।

 

বর্তমানে দেশের প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ তরুণ সমাজ; যা মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এবং এই যুব সমাজই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং দেশ চালনার মুল চালিকা শক্তি। শরনার্থী সংকট উত্তরণের উপায় এবং বিশ্বকে কিভাবে এসকল সংকট থেকে মুক্ত করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা, মতামত, বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের তরুণদের নিয়ে একটি ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তরুণদের নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি আট সদস্যের একটি বিদেশি দল বাংলাদেশ পরিদর্শন করে গেছে। ডেনমার্ক ও রোমানিয়ার মোট চারটি ভিন্নভিন্ন সংস্থা থেকে আগত এ আট সদস্য বিশিষ্ট দলটি বাংলাদেশে এসেছিল‘দ্যা আর্থ সোসাইটি’র আমন্ত্রণে। বিদেশি চারটি সংস্থা হচ্ছে ইন্টার কলেজ, ইয়্যুথ অ্যাকশন, অ্যাডেপ্ট এবং ইকো প্রো। দ্যা আর্থ সোসাইটির সদস্যসহ বিদেশি চারটি সংস্থা মিলে -সারাদিন ব্যাপী এক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে অ্যাসার মর্টেনসেন, অ্যামেশালরা ল্যাজলো, ড্যানি ফোম্যান হোমনিয়েলসেন, অ্যানাভিরু, এডুয়ার্ডভ্যালেন্তিনগানেস্যু, বোহদান হ্যাব্রিয়েল আলবেস্তিনু, মায়া হেডিন, সিসে ক্যারিলস, মোহাম্মদ সাদেকুল আরেফীন, মোহাম্মদ মামুনমিয়া, ইমদাদুল হকএবং স্কাইপিতে অংশগ্রহণ করেন শাকিলা সাত্তার ত্রিনা।

বৈঠকের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল কিভাবে বাংলাদেশ এবং ইউরোপিয়ান তরুণ-তরুণীদের নিয়ে চলমান বাংলদেশের রোহিঙ্গা ইস্যু ও ইউরোপের অন্যান্য শরণার্থী সংকট নিয়ে একসাথে কাজ করা যায়। তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে দলটি একটি প্রস্তাবনা পেশ করে; যেটি হচ্ছে, এবছরের নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ এবং ডেনমার্ক উভয় দেশের বিশজন করে মোট চল্লিশজন তরুণ-তরুণী নিয়ে কক্সবাজারে একটি ‘ইয়্যুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ আয়োজন করা হবে, যেখানে উভয় দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরের সাথে তাদের নলেজ, আইডিয়া, অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় শেয়ার করবে। একই প্রকল্পের অধীনে আগামী বছরের এপ্রিলে দ্যা আর্থ সোসাইটির তিন সদস্যের একটি দল শিক্ষাসফরে ডেনমার্ক যাবে, যেখানে তারা ডেনমার্কে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কার্যক্রম অবলোকন করবে এবং সেই কার্যক্রম গুলোর ব্যাপারে ধারণা নিবে; এবং এরই ধারাবাহিকতায় এই দলটি আগামী বছরের শেষের দিকে নয়দিনের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নিতে রোমানিয়া যাবে।তরুণ-তরুণী ছাড়াও দলটি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চায়, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মহিলা এবং তরুণ-তরুণীদের নিয়ে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন সহযোগীতা করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস। দ্যা আর্থ সোসাইটির পক্ষে দলটির সাথে সমন্বয়ের কাজ করেন দ্যা আর্থ সোসাইটি’র প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মামুন মিয়া।

এ প্রোগ্রাম বিষয়ে দ্যা আর্থ সোসাইটি’র নিবার্হী পরিচালক মোহাম্মদ সাদেকুল আরেফীন বলেন, শরণার্থী সংকট নিয়ে এখনই উত্তম সময় তরুণদের কথা বলা যাকিনা বৈশ্বিক সংকট নিরসনে দ্বার উন্মোচন করবে এবং ‘ইয়্যুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ এর মাধ্যমে বিশ্বের সকল তরুণদের মধ্যে চিন্তা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।


উল্লেখ্য, দ্যা আর্থ সোসাইটি একটি বাংলাদেশি এনজিও সংস্থা যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড, বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি এবং দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে।