বিজেপিবিরোধী জোট স্ফীত হচ্ছে

ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬

ভারতে লোকসভা নির্বাচন

বিজেপিবিরোধী জোট স্ফীত হচ্ছে

মনোজ দে ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

print
বিজেপিবিরোধী জোট স্ফীত হচ্ছে

ভারতে সাধারণ নির্বাচন (লোকসভা) যত ঘনিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ততই একাট্টা হচ্ছে বিরোধী শিবির। হিন্দুত্ববাদ ইস্যুতে ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত করা, প্রদেশগুলোর মাঝে বিরোধ উসকানো এবং কৃষকসহ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিজেপিপ্রধান এনডিএ জোটের জনপ্রিয়তা সম্প্রতি বছরগুলোতে ভাটার দিকেই ছুটছিল। সর্বশেষ গত নভেম্বরে উপ-নির্বাচনে বিজেপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে ভরাডুবিও হয়েছে শাসক দলের। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বের প্রতি খোদ দলের ভেতর থেকেই আসছে চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় বিজেপিবিরোধী জোট ক্রমেই স্ফীত হচ্ছে। তবে বসে নেই ক্ষমতাসীনরাও। বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে সীমান্তসংলগ্ন রাজ্যগুলোতে নতুন মিত্র খুঁজছেন তারা। আগামী এপ্রিল-মে মাসে ভারতে লোকসভা নির্বাচন। এ হিসাবে সময় আছে আর তিন মাস। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফল কি হবে সেটা নির্ভর করবে কোন জোটে কারা কাদের নিতে পারছে।

বড় চমক মমতার ব্রিগেডে সমাবেশ
সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মেরুকরণ হচ্ছে সেখানে বড় চমকটা দেখিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে কংগ্রেসসহ কুড়িটিরও বেশি বিরোধী দলের নেতাদের একমঞ্চে নিয়ে আসেন তিনি। লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি যেমন সেখানে ছিলেন, আবার বিজেপির বিদ্রোহী তিন নেতা- সাবেক অর্থমন্ত্রী যশওয়ান্ত সিনহা, অরুণ শৌরি ও শত্রুঘ্ন সিনহাও ছিলেন বিজেপিবিরোধী মঞ্চে।

যশওয়ান্ত সিনহা ওই সমাবেশে বাতলেও দেন বিজেপি-বধের মন্ত্র। তার পরামর্শ একের বিরুদ্ধে এক লড়া। অর্থাৎ যদি সব দল মিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে একক প্রার্থী দেওয়া যায় তবেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে দলটি।
২০১৪ সালে সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তবে তারা আসন পান ৩০০-এর বেশি। এর কারণ, বিরোধী দলগুলোর মাঝে বিভক্তি ছিল বহুধা। তবে গতবারের থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না বিরোধী শিবির।

মমতার ডাকে বিজেপিবিরোধী ওই মঞ্চে কাশ্মিরের ফারুক আবদুল্লাহ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ার, বিহারের তেজস্বী যাদব, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব, কর্নাটকের এইচ ডি দেবগৌঢ়ার মতো আঞ্চলিক প্রভাবশালী নেতারা এসেছিলেন। তাদের সবারই কণ্ঠে ছিল একাট্টা হওয়ার তাগিদ।

কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি বলেন, সম্প্রতি যে কোনো নির্বাচনের ফলাফল দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, ভোট ভাগাভাগির একমাত্র ফায়দা ওঠায় বিজেপি। এই বহুদলীয় মঞ্চে হাজির সব নেতা-নেত্রীদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয়। কেননা যেখানে ভোট ভাগ হওয়া আটকানো গেছে, সেখানেই বিজেপিকে পরাস্ত করা গেছে।’

মমতার এই সমাবেশে একাট্টার সে সুর বেজেছে তা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে গত সপ্তাহে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে ঘিরে ঘটনাপ্রবাহে। আলোচিত চিটফান্ড ও সারদা দুর্নীতির ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা সিবিআই রাজীব কুমারের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে ধরনায় (অবস্থান কর্মসূচি) বসেন মমতা। নির্বাচনের আগে মমতাকে শায়েস্তা করতেই কেন্দ্রীয় সরকার এ পরিকল্পনা এঁটেছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না-এ ইস্যুতে অনড় থাকাই শেষটা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু মমতার অবস্থানের প্রতি সংহতি জানায় সর্বভারতীয় নেতারা। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরাও দিল্লি সরকারের এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

নিজ রাজ্যে নিঃসঙ্গ মমতা
ব্রিগেডে মমতার ডাকা ওই সমাবেশে বিজেপিবিরোধী সর্বভারতীয় দলগুলোর নেতারা একত্র হয়েছিলেন। কয়েক লাখ মানুষও হাজির হয়েছিলেন তাদের কথা শুনতে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দুই প্রধান দল সিপিআইএম ও প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা সেখানে ছিলেন না। কারণ তারা বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমান সরব। আবার তৃণমূলও রাজ্যের বিরোধীদের ক্ষেত্রে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতে ভোটের আগে যেখানে প্রতিদ্ব›দ্বী আঞ্চলিক দলগুলোর মাঝে সমঝোতা হচ্ছে, বিরোধ মিটিয়ে তারা একসঙ্গে জোট গড়ছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের চিত্র উল্টো। সম্প্রতি সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে চিরশত্রু সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টি একত্রে হাত মিলিয়েছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। সর্বভারতীয় দলগুলোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও পশ্চিমবঙ্গে একা হাঁটার নীতিতে মমতা।