করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ আট সপ্তাহ পর

ঢাকা, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ আট সপ্তাহ পর

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

print
করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ আট সপ্তাহ পর

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণটিকাদান পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম ডোজ দেওয়ার আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার সময়ে এ পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজের জন্য এক মাস পরের তারিখ দেওয়া হয়েছে। সেই তারিখও বদলে নতুন এসএমএস দেওয়া হবে বলে মহাপরিচালক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের পরামর্শক কমিটি, ওয়ার্ল্ড ভ্যাকসিনেশন কমিটি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন-সবাই মিলে পরামর্শ দিয়েছে যে এটা আট সপ্তাহ পরে হলে ভালো হয়। এ কারণে আমরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সময় পরিবর্তন করেছি।

গত ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে টিকা দিয়ে বাংলাদেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় দুই দিনে সাড়ে পাঁচশর বেশি মানুষকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণ করার পর ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় সারা দেশে গণটিকাদান। বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা। প্রত্যেককে এই টিকার দুটি ডোজ দিতে হবে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা শুরুতে জানিয়েছিল, এ টিকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান হবে চার সপ্তাহ। কিন্তু পরে বলা হয়, এ ব্যবধান বাড়লে টিকার কার্যকারিতাও বাড়ে। তখন সে অনুযায়ী বাংলাদেশের টিকাদান পরিকল্পনা সাজানো হয়। বলা হয়, প্রথম চালানে পাওয়া সব টিকা দিয়ে দেওয়া হবে, প্রথম মাসে টিকা পাবে ৬০ লাখ মানুষ। পরের চালানের টিকা পেলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। কিন্তু টিকা সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক একটি অনিশ্চয়তা থাকায় ফেব্রুয়ারির শুরুতে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, হাতে থাকা ৭০ লাখ ডোজের সব প্রথম মাসে না দিয়ে অর্ধেক সংরক্ষণ করা হবে। অর্থাৎ প্রথম মাসে ৩৫ লাখ লোক টিকা পাবে, পরের মাসে সংরক্ষণ করা টিকা থেকে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। তাতে দ্বিতীয় চালান পেতে দেরি হলেও প্রথম ডোজ পাওয়া ব্যক্তিদের দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে কোনো অনিশ্চিয়তা থাকবে না। তবে দ্বিতীয় চালান হাতে পেয়ে গেলে আবারও পুরনো পরিকল্পনায় ফিরে যাওয়া হতে পারে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক। কিন্তু জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এখন টিকার কার্যকারিতার সঙ্গে দুই ডোজের সময়ের পার্থক্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ায় পরিকল্পনায় আবার পরিবর্তন আনা হলো।

এ বিষয়ে অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা নতুন টিকা, এ বিষয়ে কারও কোনো অভিজ্ঞতা নেই। নানা ধরনের পরিবর্তন এতে হবে। ফিক্সড কোনোকিছু বলে দেওয়া যাবে না। গত রোববার পর্যন্ত সারা দেশে ৯ লাখ ৬ হাজার ৩৩ জন নিয়েছেন টিকা। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য এক মাস পর সময় দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে কী হবে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, তাদের সবাইকে আমরা পরবর্তী সময় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেব। আমাদের এমআইএসকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম দিনে টিকা নিলেন সোয়া ২ লাখের বেশি
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ জন। এদের মধ্যে মাত্র ২৯ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন: জ্বর, টিকা দেয়া স্থানে লাল হাওয়া ইত্যাদি) দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭১১ জন। এদের মধ্যে মোট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৪৫৫ জনের। গতকাল সোমবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এমআইএস) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৪৭ হাজার ১৫৫ জন এবং নারী ৭৯ হাজার ৫২৩ জন। বিজ্ঞতিতে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে ৬২ হাজার ৭৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ হাজার ৪৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫২ হাজার ৭৪৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৪ হাজার ৬০ জন, রংপুর বিভাগে ২১ হাজার ৬১৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৭ হাজার ৭১০ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ হাজার ১৩১ জন ও সিলেট বিভাগে ১৬ হাজার ২২৭ জন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্য অনুসারে, গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথম দিন টিকা দেয়া হয় ২৬ জনকে।

করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচ হাসপাতালে মোট ৫৪১ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়। আর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এদিন সারা দেশে টিকা নেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৮৫৭ জন এবং নারী সাত হাজার ৩০৩ জন।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, রাজধানী ঢাকায় ৫০টি হাসপাতাল ও সারা দেশে ৯৫৫টি হাসপাতালসহ সারাদেশে মোট এক হাজার পাঁচটি হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। রাজধানী ঢাকায় ৫০টি হাসপাতালে ২০৪টি ও সারা দেশে ৯৫৫টি হাসপাতালে দুই হাজার ১৯৬টি টিম কাজ করবে। মোট এক হাজার পাঁচটি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৪০০টিম কাজ করবে। এছাড়াও ভ্যাকসিনবিষয়ক কার্যক্রমের জন্য টিম প্রস্তুত রয়েছে সাত হাজার ৩৪৪টি। আপাতত ২ হাজার ৪০০ জনকে দিয়ে কালকের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, চার সপ্তাহ নয়, আট সপ্তাহ পরে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।