ভ্যাকসিন কিনতে স্বাস্থ্য বিভাগ ৭৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেল

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

ভ্যাকসিন কিনতে স্বাস্থ্য বিভাগ ৭৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেল

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:০৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২০

print
ভ্যাকসিন কিনতে স্বাস্থ্য বিভাগ ৭৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেল

করোনা ভ্যাকসিন কিনতে ৭৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর, রোববার স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবকে অর্থ বিভাগের (বাজেট অনুবিভাগ-১) যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ হতে কোভিড-১৯ প্রতিরােধক ভ্যাকসিন ক্রয়ের লক্ষ্যে পরিবহন খরচসহ কোল্ড চেইনে পৌঁছানাে পর্যন্ত তিন কোটি ডােজ ভ্যাকসিনের জন্য ৭৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮২ হাজার টাকার বিভাজন অনুমােদনসহ কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম নতুন কোড সৃষ্টিতে নির্দেশক্রমে সম্মতি জ্ঞাপন করা হলাে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ:

প্রথম ধাপে তিন কোটি ডোজ টিকা জনগণের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে অর্ধেক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিভিন্ন খাতে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তাবিত করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ (ওষুধ ও প্রতিষেধক) বাবদ এক হাজার ২৭১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৬৪৩ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আপ্যায়ন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়নি। প্রস্তাবিত হায়ারিং চার্জ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১ কোটি ২ লাখ টাকার পরিপ্রেক্ষিতেও কোনো টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৬ কোটি ৭৬ লাখ ১৯ হাজার টাকার পরিপ্রেক্ষিতেও কোনো বরাদ্দ হয়নি। বরাদ্দ হয়নি স্বাস্থ্য বিধান সামগ্রীর জন্য প্রস্তাবিত তিন কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকাও।

পণ্যের ভাড়া ও পরিবহন ব্যয়ের প্রস্তাবিত ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৮ হাজার টাকার মধ্যে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ ব্যয়ের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকার মধ্যে ১২ কোটি ৮০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বাবদ প্রস্তাবিত ৫৮ কোটি ৫৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকার বিপরীতে ৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৬ কোটি ২৬ লাখ এক হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া জরিপের জন্য প্রস্তাবিত ৯৫ লাখ টাকার বিপরীতে কোনো টাকাই বরাদ্দ দেয়া হয়নি। সম্মানী বাবদ প্রস্তাবিত ১০ কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি বাবদ প্রস্তাবিত ১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার পুরোটাই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে ডাটাবেজ বাবদ প্রস্তাবিত ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পুরোটাই। তবে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রস্তাবিত ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকার বিপরীতে কোনো টাকাই বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ভ্যাকসিন কিনতে ইতোমধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন বা টিকা কিনে জনগণের মাঝে বিনামূল্যে দেয়া হবে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এ টিকার ভারতীয় উৎপাদক সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৫ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সিরাম ইনস্টিটিউট।

করোনার ভ্যাকসিন কিনতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চাহিদাপত্র পাওয়ার পর গত ৩০ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান ভ্যাকসিন কেনার বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে সারসংক্ষেপ পাঠান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে পাঠানো এ সারসংক্ষেপে করোনা ভ্যাকসিন কিনতে সরকারের ব্যয় ও ডোজপ্রতি ভ্যাকসিনের ব্যয় উল্লেখ করা হয়।

গত ২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে করোনা ভ্যাকসিন কিনতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ থেকে প্রথম ধাপে অর্ধেক বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়।