ফাইজার টিকা নিরাপদ বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ফাইজার টিকা নিরাপদ বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ১২:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

print
ফাইজার টিকা নিরাপদ বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার তাদের কোভিড-১৯ টিকার পর্যাপ্ত সুরক্ষা বা নিরাপত্তা তথ্য একত্র করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ প্রশাসন (এফডিএ) থেকে টিকাটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালবার্ট বোরলা ১৭ নভেম্বর, মঙ্গলবার এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের টিকার অগ্রগতি বিষয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার একটি ইতিবাচক ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, তাদের টিকা করোনাভাইরাস থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ওই সময়ে তারা জানায়, তারা এফডিএর কাছে অনুমোদন চাওয়ার আগে যথেষ্ট সুরক্ষা তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে।

১৭ নভেম্বর, মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বোরলা। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, সুরক্ষা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছে। আমাদের সুরক্ষা মাইলফলক ইতিমধ্যে অর্জন করা হয়েছে। আমরা এখন টিকা অনুমোদন চাওয়ার জন্য তা জমা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মডার্না গত সোমবার তাদের করোনা টিকার তৃতীয় ধাপের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, টিকা পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকারিতা দেখা গেছে। চলতি নভেম্বর মাসের শেষ দিকে আরও সুরক্ষা তথ্য পাওয়ার পর মডার্নার পক্ষ থেকেও টিকাটির জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন চাওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি সিএনএনকে এ সপ্তাহে বলেছেন, আমেরিকার নাগরিকেরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে টিকা পেতে শুরু করবেন।

এফডিএর টিকা অনুমোদন বিষয়ে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, এফডিএর কর্মকর্তারা ভ্যাকসিনস অ্যান্ড রিলেটেড বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস অ্যাডভাইজরি কমিটির সঙ্গে ডিসেম্বর মাসের ৮, ৯ ও ১০ তারিখে বৈঠক করবেন। ওই পরামর্শক কমিটি মূলত এফডিএর বাইরের বিশেষজ্ঞ দল। সংস্থাটি ১০ ডিসেম্বর বৈঠকের শেষে টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। সিএনএনকে ওই সূত্র বলেছে, এফডিএ উভয় আবেদন একসঙ্গে বিবেচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হয়।

মডার্না ও ফাইজার দুটি টিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি টিকার ক্ষেত্রেই পরীক্ষার তৃতীয় বা চূড়ান্ত ধাপে একই রকম সুরক্ষা ও কার্যকারিতার তথ্য পাওয়া গেছে। সে বিবেচনায় উভয় আবেদনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিএনএন বলছে, যদি এফডিএ টিকা দুটির অনুমোদন দেয় তবে তা তাৎক্ষণিক যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এ তথ্য উপস্থাপন করেছিল।

সিডিসির পরামর্শক কমিটি টিকার তথ্য পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান টিকা দিতে পারবে না। এই প্রতিষ্ঠানটিই কারা আগে টিকা পাবেন তা সুপারিশ করবে। এফডিএর অনুমোদনের পর সিডিসির পরামর্শক কমিটি ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাবে। ওই সিদ্ধান্তে টিকা সবাই পাবে কি না, তা ঠিক করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টিকাদান ক্লিনিকগুলোতে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশদ জানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ ফাইজারের টিকাটি জটিল ধরনের। এটি মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। চিকিৎসকের কার্যালয় বা ফার্মাসিতে সাধারণত এ ধরনের শীতলীকরণ যন্ত্র থাকে না। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মীদের পাশাপাশি বয়স্ক লোকজন, জরুরি কাজে নিয়োজিত কর্মী বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তা ও যাদের শারীরিক সমস্যা আছে, তারা আগে টিকা পাবেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ১৮ নভেম্বর, বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫০৯ জনের। দেশটিতে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৫৫ জনের।