কুসুম গরম পানির উপকারিতা

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ ১৪২৭

কুসুম গরম পানির উপকারিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০২, ২০২০

print
কুসুম গরম পানির উপকারিতা

মানুষের শরীরের জন্য কুসুম গরম পানি পানের উপকারিতা অপরিসীম। সহনযোগ্য তাপমাত্রাতে পানি গরম হলেই তা কুসুম গরম পানি হিসেবে ধরা হয়। কুসুম গরম পানির কোনও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা সম্বন্ধে কোথাও কিছু বলা নেই। কুসুম গরম পানির ক্ষেত্রে পানি কে ততটাই গরম করুন, যতটা সহ্য করতে পারবেন। জেনে নেই এই কুসুম গরম পানি পানের উপকারিতাগুলো - 

জ্বর হলে মুখের রুচি কমে যায়। খাওয়া দাওয়া করতে ইচ্ছা করে না। তাই জ্বরের সময়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে একটু বেশি গরম অর্থাৎ কুসুম গরম পানি পান করলে জ্বর কমাতে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

হজমজনিত সমস্যা থাকলে খাবার খাওয়ার পর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

প্রত্যেকদিন সকালে খালিপেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পানের অভ্যাস স্বাভাবিক মলত্যাগে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।

অনেকেরই মাঝেমধ্যে হেঁচকি ওঠার সমস্যা থাকে। এক্ষেত্রেও কুসুম গরম পানি পানে উপকার হয়।

কাশির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট রয়েছে এমন রোগীদের কুসুম গরম পানি পান করার কথা বলা হয়। এর মাধ্যমে জমে থাকা কফ বেরিয়ে আসে।

শরীরের মেদ ঝরাতেও সাহায্য করে কুসুম গরম পানি। তাই স্থূলত্ব বা ওবেসিটির রোগীরা নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান করলে উপকার পেয়ে থাকবেন।

গলা ব্যথা, গলা খুসখুস, গলা বসে যাওয়া সহ কন্ঠের যে কোনও সমস্যায় কুসুম গরম পানির গার্গল খুবই উপকারী। এই সমস্ত সমস্যায় দিনে দুই থেকে তিনবার প্রয়োজনমতো গার্গল করতে হয়।

দাঁতে ব্যথা এবং মুখে ঘায়ের অসুখেও দিনে এক থেকে দু’বার কুসুম গরম পানির গার্গল করলে সমস্যা অনেকটাই কমে।

কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের নিজস্ব তাপমাত্রা শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে শরীর ঝরঝরে থাকে। তাই যে কোনও সুস্থ মানুষ চাইলে প্রায় সারা বছরই কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পারেন।

বাতের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে সমস্যা বেশকিছুটা কমে। বিশেষত, বর্ষা এবং শীতে বাতের সমস্যা বাড়ে। তাই অন্তত এই দুই ঋতুতে বাতব্যাধিতে ভুক্তভোগী মানুষ রোজ নিয়ম করে কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পারেন।

সতর্কতা: কুসুম গরম পানির অনেক উপকারিতা থাকলে ও কিছু ক্ষেত্রে তা এড়িয়ে চলা ভালো।
গ্রীষ্মের তীব্র দহনে কুসুম গরম পানি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা দরকার। এছাড়া গরম খাবার সহ্য হয় না এমন মানুষদের কুসুম গরম পানি এড়িয়ে চলতে হবে।