বায়ু ও পয়ঃবর্জ্যরে মাধ্যমে ছড়াতে পারে করোনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

বায়ু ও পয়ঃবর্জ্যরে মাধ্যমে ছড়াতে পারে করোনা

ডেস্ক রিপোর্ট ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০২, ২০২০

print
বায়ু ও পয়ঃবর্জ্যরে মাধ্যমে ছড়াতে পারে করোনা

পয়ঃবর্জ্যরে মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। এ ছাড়া গবেষকরা বলেছেন, বায়ুবাহিত ক্ষুদ্র কণা থেকেও করোনভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। আর তা একজনের দেহ থেকে একাধিক মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এজন্য পয়ঃবর্জ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে আয়োজিত জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর, ২০২০ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। ‘উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করি, করোনা ভাইরাসমুক্ত জীবন গড়ি’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর-২০২০ এর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পয়ঃবর্জ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে ফেলতে হবে। পরিবেশটা সবার, তাই পরিবেশের বিপর্যয় কখনো হতে দেওয়া যাবে না। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে সিটি করপোরেশন, নগর পরিকল্পনাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হাতের মাধ্যমে অনেক রোগ-জীবাণু শরীরে সংক্রমিত হয় জানিয়ে সবাইকে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, পয়ঃবর্জ্যরে মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। তাই এই বর্জ্যরেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

এদিকে করোনা নিয়ে নতুন আতঙ্কের কথা শোনালেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।

সম্প্রতি নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি সাময়িকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, করোনভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে বায়ুবাহিত ক্ষুদ্রকণা থেকেও। আর তা একজনের দেহ থেকে একাধিক মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘরের এক কোণে বসে থাকলেও একজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির নাক-মুখ থেকে বের হওয়া বায়ু আরও দশজনকে সংক্রমিত করতে সক্ষম। এছাড়াও বন্ধ ঘর বা যেখানে বায়ুর চলাচলের অসুবিধা রয়েছে সেই স্থানে দাঁড়িয়ে অথবা বসে কেউ হাঁচি-কাশি দিলে, গান বা চিৎকার করলেও একজনের থেকে অপরজনের শরীরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়।

করোনা মহামারীর শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলে আসছেন। তবে ৬ ফুট দূরত্বকে এখন যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তারা।

বায়ুবাহিত কোনো জীবাণুর বৃহত্তর কণা খুব বেশি সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না, কিছু সময় পরই তা মাটিতে পড়ে যায়। তবে সুযোগ পেলেই এরা নাক, মুখ বা চোখ যে কোনো কাউকেই সংক্রমিত করতে পারে।

সম্প্রতি অ্যারোসোল সম্পর্কিত এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড. জর্জেস বেনিয়ামিন বলেছেন, পুরো বিশে^ যতদিন না করোনার কোনো টিকা বের হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত মানতে হবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সতর্কতা বিধি। তাহলে কিছুটা রোধ করা যেতে পারে এই মারণ ব্যাধির দাপট।