বাতের ওষুধ-চিকিৎসায় প্রণোদনার আহ্বান

ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

বাতের ওষুধ-চিকিৎসায় প্রণোদনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০

print
বাতের ওষুধ-চিকিৎসায় প্রণোদনার আহ্বান

নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন, শরীরচর্চার পাশাপাশি জনসচেতনতায় বাতব্যথার রোগীরা অনেকটা সুস্থ থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রায় দুই শতাংশ তরুণ-তরুণী বাতব্যথায় ভোগেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বাতব্যথার কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ৯ থেকে ১০ বছর পর তীব্রতা প্রকাশ পায়। ফলে কম বয়সে বিষয়টি বোঝা যায় না। এতে করে অল্প বয়সে অনেক তরুণ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। নিয়মিত শরীর চর্চা ও ওষুধ সেবনই এর তীব্রতা রোধ করতে পারে। একই সঙ্গে বাতের ওষুধ আমদানিতে শুল্কমুক্ত করাসহ এ চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শুক্রবার আশুলিয়ার সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে বাতব্যথার রোগীদের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে প্রফেসর নজরুল রিউম্যাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এতে সহযোগিতা করেছেন হেলথকেয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ব্যথাকে আর করব না ভয়, জীবনকে এবার করব জয়’।

বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত বাতব্যথার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবে অনেক রোগী ধীরে ধীরে তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এ চিকিৎসার অনেক ওষুধ দেশে তৈরি হয় না, তাই আমদানি করতে হয়। ফলে এর চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যায় অনেক। এতে করে অনেক রোগী ব্যয় বহন করতে না পেরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এমন বাস্তবতায় বাতব্যথার রোগীদের সচেতন বাড়ানো, ওষুধ আমদানিতে ট্যাক্স মওকুফ ও চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেন তারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রিউম্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে প্রতিদিন পাঁচ হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে চলে যাচ্ছে। বিশ্বে ৬৪৪ প্রকারের বাতজ্বর রয়েছে। বড় দাগে ২০০ প্রকার রোগ রয়েছে।

আমাদের দেশের দুই শতাংশ তরুণ এ রোগে আক্রান্ত। ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ কোমর ব্যথায় ভোগেন। অথচ এ রোগের জন্য দেশে বিশেষজ্ঞ ডা. রয়েছে মাত্র ৫০ জন। এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীসহ দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে পদ সৃষ্টি করলে সহজেই চিকিৎসা দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে বাতব্যথা চিকিৎসা খরচ বেশি হওয়ায় অনেক রোগী মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। এজন্য ওষুধ আমদানিতে ট্যাক্স মওকুফ করা ও চিকিৎসা সেবায় প্রণোদনা দিতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত শরীর চর্চা ও ওষুধ সেবনে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক ভিসি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স (বিআইএইচএস) অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের পরিচালক (অর্থ) ও বিসিএস অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস মো. আবদুস সোবহান, বিশিষ্ট অভিনেতা আজিজুল হাকিম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহেদুর রহমান পান্নু, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, এ্যাপোলো হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আখতার জামিল আহমেদ, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের সহকারী ব্যবস্থাপক সামিউল হক, প্রোডাক্ট ম্যানেজার রওশন শামা, মডার্ন ওয়ানস্টপ আর্থারাইটিস কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চিকিৎসক ডা. ফাহিদ বিন নজরুল, ডা. আশিকুজ্জামান রিয়াদ, ডা. মাহফিল তানি, ডা. শিমুল রায়, ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা, ডা. তানজিনা শারমিন রুম্পা প্রমুখ।