ইলিজারভ পদ্ধতিতে ভাঙা হাঁটুর অস্ত্রোপচার

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

ইলিজারভ পদ্ধতিতে ভাঙা হাঁটুর অস্ত্রোপচার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ১:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০

print
ইলিজারভ পদ্ধতিতে ভাঙা হাঁটুর অস্ত্রোপচার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রথমবার ইলিজারভ পদ্ধতিতে ভাঙা হাঁটুর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নাচোল উপজেলার খুরশেদপুর এলাকার জিয়ারুল (৪২) নামে এক রোগীর এ অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক্স সার্জারি ডা. ইসমাইল হোসেন।

এ সময় একই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাদিম সরকার উপস্থিত ছিলেন।

ডা. ইসমাইল হোসেন জানান, প্রথমবার সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে রোগী সুস্থ আছেন। সদর হাসপাতালে এ অপারেশনের যন্ত্রপাতি না থাকায় তিনি তার প্রাইভেট প্রাকটিসের যন্ত্রপাতি এনে এ অপারেশন করেছেন এবং এখন থেকে তিনি নিয়মিত এ অপারেশন করার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও জানান, ইলিজারভ রাশিয়ায় আবিষ্কৃত অর্থোপেডিক্স শাস্ত্রের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। অর্থোপেডিক্সে অন্য গতানুগতিক চিকিৎসার যেখানে শেষ, ইলিজারভ চিকিৎসার সেখানে শুরু। এটা এমন এক পদ্ধতি যেখানে কেটে অপারেশন করতে হয় না। বাইরে থেকে কিছু তার নিয়মমাফিক ভাঙা হাড়ের ভেতর প্রবেশ করানো হয়। এরপর রিংয়ের সাহায্যে সেই তারগুলোকে আটকিয়ে এক ধরনের টানার ব্যবস্থা করা হয়। তারগুলো ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গের মত কাজ করে। অপারেশনের পরের দিন থেকেই রোগী সম্পূর্ণ ভর দিয়ে হাঁটতে পারে। এ অভিনব পদ্ধতির মাধ্যমে হাড় জোড়া লাগাতে সময় লাগে গড়ে ৪-৬ মাস। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এ অপারেশন খুবই সুবিধাজনক।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সার্পোট থাকলে আরও ভাল অপারেশন করা যাবে। এখানে জনবল ও লজিস্টিক সার্পোট কম থাকায় আমরা অপারেশনগুলো করতে পারছিনা। ১০০ বেডের জনবল অনুযায়ী এখনো এখানে চিকিৎসক নাই। পুরো জেলাতে রয়েছে মাত্র ১জন অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার। আর চক্ষু, নাক, গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় এখানে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সার্পোট পেলে নিয়মিত অপারেশনসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দিতে পারবো। যাতে কোনো রোগীকে অন্য জেলায় স্থানান্তর করতে না হয়।