নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

অধ্যাপক ডা. হাফিজ উদ্দীন আহমদ ১২:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

print
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ

নদীর স্রোত এগিয়ে যাওয়ার সময় দুপারে ধাক্কা দেয় এবং পার ভেঙে পড়ে। তেমনি আমাদের শরীরের ৫ লিটার রক্তের স্রোত ধমনী দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দুপাশের দেয়ালে যে চাপ সৃষ্টি করে তাই রক্তচাপ। হৃৎপিণ্ড সংকোচনের সময় বেশি (সিস্টোলিক) চাপ ও প্রসারণের সময় কম (ডায়াস্টোলিক) চাপ থাকে।

রক্তচাপ লিখে প্রকাশ করার সময় ভগ্নাংশের মতো উপরে সংকোচনকালীন ও নিচে প্রসারণকালীন চাপ লেখা হয়। একজন তরুণের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০। যদি ১২০-১৩৯/৮০-৮৯ থাকে সেটা ঝুঁকিপূর্ণ। ১৪০-১৫৯/৯০-৯৯ প্রথম ধাপের বা মৃদু, ১৬০/১০০-১৮৯/১০৯ দ্বিতীয় ধাপের বা মধ্যম ৮০-১১০ বা বেশি হলো তৃতীয় ধাপের উচ্চ রক্তচাপ। ৯০/৬০ বা কম থাকলে নিম্ন রক্তচাপ।

যে সব কারণে উচ্চ রক্তচাপ হয় তা হলো- ধূমপান, স্থলত্ব, শারীরিক পরিশ্রম না করা, অতিরিক্ত লবণ (এমনকি নোনতা বিস্কুট বা চানাচুর বর্জনীয় ) ও তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ, দুশ্চিন্তা, বার্ধক্য, মদ্যপান, জিনগত ইত্যাদি।

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করতে বছরে একবার তা মাপুন, ব্যস্ত জীবনপ্রণালি পরিবর্তন করুন, কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুমান, রাতজাগা পরিহার করুন, ওজন বেশি হলে কমান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, প্রতিদিন বিরতিহীন ১ ঘণ্টা হাঁটুন, ভূরিভোজ, লবণাক্ত ও তৈলাক্ত খাবার (গরু-খাসি, অতিরিক্ত তেল), ধূমপান পরিহার করে শাকসবজি ফলমূলসহ (পটাশিয়াম থাকে) স্বাস্থ্যসম্মত স্বল্পাহার করুন, অফিসের কাজ বাড়িতে না এনে অফিসেই করুন ও কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু হেঁটে আসুন বা বিশ্রাম নিন। প্রকাশ্য বা চাপা ক্রোধ ও ঘৃণা বর্জন করুন। প্রতিদিন ৫ মিনিট ধ্যান (শব্দমুক্ত আঁধার ঘরে মাথা থেকে সব চিন্তা সরিয়ে হাতপা ছেড়ে শবাসন) করুন।

মাঝে মাঝে সপরিবারে বেড়াতে যান। এরপরও উচ্চ রক্তচাপ হলে চিকিৎসক দেখিয়ে এসিই প্রতিরোধী (যথা- রেমিপ্রিল), ক্যালশিয়াম পথ অবরোধী (যথা- নিফেডিপিন), মূত্রবর্ধক (যথা- স্পাইরানোল্যাকটোন), বিটা অবরোধী (যথা- বিসোপ্রোলল) ইত্যাদি গ্রহণ করুন।

সাবধান, চিকিৎসা না করলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), বৃক্ক বিকলতা, হৃৎপিণ্ড বিকলতা ঘটতে পারে। একবার এক রোগীকে তরকারিতে দেওয়া লবণ ছাড়া কাঁচা লবণ খেতে মানা করেছিলাম। ক’দিন পর রক্তচাপ না কমায় জিজ্ঞাসা করাতে সে উত্তর দিয়েছিল- স্যার, আপনি বলার পর লবণ আমি ভাজি করে খাই!

এমবিবিএস, এমসিপিএস, এফসিপিএস