শিশুর উদরাময়

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

শিশুর উদরাময়

ডা. হাফিজ উদ্দীন আহমদ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

print
শিশুর উদরাময়

এখন বর্ষাকাল। বিশুদ্ধ পানির সংকটের জন্য চারদিকে উদরাময় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর সারা বিশ্বে হাজার হাজার শিশু, অনেক সময় বড়রাও এর কবলে পড়ে মারা যান। কোনো লোকের বয়স ও খাবার অনুযায়ী তার মলত্যাগের মাত্রার তারতম্য ঘটে। ছয় মাস থেকে দুই বছরের শিশুদের উদরাময় সবচেয়ে বেশি। ছয় মাসের কম বয়স তবে গরু ও টিনের দুধ খায় তাদেরও এ রোগ বাড়ে।

শিশুদের উদরাময় হলে মল শুধু পাতলাই হয় না তা দুর্গন্ধযুক্ত ও শব্দ করে বের হয়। মলের সঙ্গে রক্ত থাকলে তাকে রক্ত আমাশয় বলে। ২ সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি স্থায়ী উদরাময়কে পুরনো বা ক্রনিক উদরাময় বলে। মানসিক অবসাদ, আন্ত্রিক জীবাণু-দূষণ যথা এন্টারো বা রোটা ভাইরাস, জীবাণু যথা : শিগেলা, সালমোনেলা (টাইফয়েড ঘটে), জীবাণু-বিষ জাত : ই-কলাই, ভিব্রিও কলেরি (কলেরা ঘটে), স্টেফাইলোকক্কাস, পরজীবী যথা : জিয়ার্ডিয়া, এন্টামিবা হিস্টলাইটিকা (আমাশয় ঘটে)। 

এছাড়া বীজঘ্ন বা এন্টিবায়োটিক সেবন, ভেগাস স্নায়ু কর্তন, যকৃৎ প্রদাহ, অপুষ্টি, খাদ্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, দীর্ঘ ভ্রমণ অতিভোজন ইত্যাদি কারণে উদরাময় ঘটে। মনে রাখতে হবে- বারবার স্বাভাবিক মলত্যাগ উদরাময় নয়। উদরাময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। একে জলবিয়োজন বা ডিহাইড্রেশন বলে। এক্ষেত্রে শিশু পিপাসিত থাকে, চোখ গর্তে বসে যায়, চর্মে স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস ঘটে (চিমটি কাটলে চর্ম তাড়াতাড়ি পূর্বস্থানে ফেরত যায় না), করোটিরন্ধ্র বা মাথার মাঝখানের নরম অংশ (বয়স ১৮ মাসের কম হলে) গর্তে বসে যায়।

জলবিয়োজনের জন্য খাবার স্যালাইন, অনুমোদিত তরল পদার্থ যথা মাড়, ঝোল (স্যুপ), স্তনের দুধ বা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ পানি মেশানো বাইরের দুধ দিন। পটাশিয়াম সরবরাহের জন্য তাজা ফলের রস বা কলা দিন। তেলবিহীন কাঁচকলা ভর্তা ও নরম ভাত বড়দের বেলা খুব উপকারী। ছোটদের ৩-৪ ঘণ্টা পরপর (দিনে ৬ বার) খাদ্যদ্রব্য (খাদ্যশস্য ও মাছ কিংবা মাংসের মিশ্রণ, পেঁপে, গাজর ইত্যাদি) বেটে গুঁড়ো করে রান্না করে খেতে দিন। উদরাময় সেরে গেলে ওজন পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এক বেলা অতিরিক্ত খাবার দিন।

তিন আঙ্গুলের প্রথম ভাঁজ পর্যন্ত এক চিমটি লবণ, একমুঠো গুড় আধসের ফুটন্ত পানি ঠাণ্ডা করে গুলিয়ে ঘরে খাবার স্যালাইন তৈরি করা যায়। কলেরাতে টেট্রাসাইক্লিন, সিগেলা রক্ত আমাশয়ে ট্রাইমেথোপ্রিম এবং সালফামেথোক্সাজল ব্যবহার করা হয়। তবে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসক দেখাতে হবে। মলত্যাগের পর ও খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুলে, স্তনদানের আগে বোঁটা সাধারণ পানিতে (সাবান ছাড়া) ও খাবার পাত্র পুকুরের জলে নয়, কলের পানিতে এবং দুধের বোতল প্রতিদিন পরিষ্কার করে পুরনো নিপল ফেলে দিলে তথা পানি ফুটিয়ে পান করলে উদরাময় দূরে থাকবে।

অধ্যাপক ডা. হাফিজ উদ্দীন আহমদ
অধ্যক্ষ, মনোয়ারা সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কার্তিকপুর, শরীয়তপুর।