পাইলস চিকিৎসায় হোমিও

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬

পাইলস চিকিৎসায় হোমিও

ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
পাইলস চিকিৎসায় হোমিও

পাইলস বা অর্শ রোগটির সঙ্গে আমরা হাজার বছর ধরে পরিচিতি। এটি একপ্রকার ধাতুগত পীড়া। মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরের চারপাশের শিরাগুলো ফুলে মটরদানা কিংবা আঙ্গুরের মতো কিংবা ছাগলের বাঁটের মতো ছোট ছোট গলি বা টিউমার হলে তাকে অর্শ বা হেমোরয়েড বলে। অর্শ প্রধানত দুই প্রকার এক. অন্তর্বলি ও দুই. বহির্বলি। এ ছাড়া একপ্রকার অর্শ আছে, যাকে মিশ্র বলি বলে। যেটি শরীরের ভেতর-বাইরের উভয় স্থানে হয়ে থাকে।

 

বয়স ৩০-৬০ বছর বয়সের ভেতর এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ২০ বছর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটা দেখা যায় না। পাইলস শনাক্ত করা খুব সহজ কাজ নয়। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কেবল যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাইলস শনাক্ত করতে পারেন।

পাইলস হওয়ার কারণ : নানা কারণে পাইলস হতে পারে। প্রধান কারণ, লিভারের মধ্যে এবং ধমনিতে রক্তাধিক্য হলে অর্শ হয়। এ ছাড়া অলস প্রকৃতির লোকের সারা দিন বসে থাকা, ঘিয়ে ভাজা বা অধিক মসলাযুক্ত রান্না খাওয়া। এ ছাড়াও নানা কারণে এই রোগ হতে পারে।

লক্ষণ : সময় সময় বলিগুলো চুলকায়। ধপ ধপ করে ব্যথা করে এবং জ্বালাপোড়া করে। কাঁটা ফোটার মতো বেদনা এবং কোমরে বেদনা। মলত্যাগকালে বলি থেকে রক্তস্রাব হয়। কোনো কোনো সময় রক্তস্রাব হয় না।

আনুষঙ্গিক চিকিৎসা : তিনটি বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে। এক. খাওয়া ও ভ্রমণ সম্পর্কিত নিয়ম পালন। দুই. নিয়মিত পায়খানা পরিষ্কার হওয়ার ব্যবস্থা ও তিন. অর্শের স্থানটিকে ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা।

অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা : অর্শে কোনো সুচিকিৎসা হয় না। অস্ত্রোপচার ছাড়া কোনো গতি নেই। কিন্তু তাতেও রোগ নির্মূল হয় না। অতএব প্রথম থেকেই অর্গানন অনুসরণকারী হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যে পুরাতন রোগের বীজ রোগীর দেহে বিদ্যমান থেকে এই রোগের সৃষ্টি করেছে সেই ধাতুগত দোষ করাই মূল কাজ।

ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
কো-চেয়ারম্যান হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র