সবচেয়ে বেশি জন্ম বাংলাদেশে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬

কম ওজনের শিশু নিয়ে ল্যানচেটের প্রতিবেদন

সবচেয়ে বেশি জন্ম বাংলাদেশে

ডেস্ক রিপোর্ট ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৯

print
সবচেয়ে বেশি জন্ম বাংলাদেশে

বিশ্বে সবচেয়ে কম ওজন নিয়ে বেশি নবজাতকের জন্ম হয় বাংলাদেশে। এরপরেই রয়েছে কমোরোস ও নেপাল। এ ক্ষেত্রে তালিকায় স্থান পাওয়া শীর্ষ ১০ দেশ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘দ্য ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথ’ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে জন্মের সময় নবজাতকের গ্রহণযোগ্য ওজন হলো ২.৫ কিলোগ্রাম। কিন্তু ২০১৫ সালে বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ২৭ ভাগ অর্থাৎ ৮ লাখ ৬৪ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে এই ওজনের নিচে। ২০০০ সালে এমন কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু। অন্যদিকে কমোরোস ও নেপালে এই হার যথাক্রমে শতকরা ২৩.৭ এবং ২১.৮ ভাগ। ১০ দেশের তালিকায় ফিলিপাইনের অবস্থান ৫ম, লাওস ৭ম ও মরিশাস ১০ম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রহণযোগ্য ওজনের কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুর মৃত্যুহার অনেক বেশি। তাদের শরীরের বৃদ্ধিসহ আছে নানা রকম ক্রনিক বা জটিল রোগে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি। বিশ্বজুড়ে বছরে মোট ২৫ কোটি শিশু জন্মগ্রহণ করে। এর মধ্যে শতকরা কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা ৮০ ভাগেরও বেশি শিশু মারা যায়। বিশ্বে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুর প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশিয়ায়। ২০১৫ সালে এমন শিশু ছিল প্রায় ৯৮ লাখ। তবে, মানসম্পন্ন তথ্যের ঘাটতি থাকায় ভারত নিয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি গবেষকরা।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যাটারনাল অ্যাডোলেসেন্ট রিপ্রোডাকটিভ অ্যান্ড চাইলড হেলথের পরিচালক জয় লন বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শিশুর জন্ম হয় ভারত ও চীনে। ভারতে আংশিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাই আমরা ভারতের বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারিনি। ওদিকে সাব সাহারান আফ্রিকায় কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ৪৪ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে।

এদিকে, ২০১২ সালে প্রায় ১৯৫টি দেশ কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্ম ২০২৫ সাল নাগাদ শতকরা ৩০ ভাগ কমিয়ে আনতে চেয়েছে। কিন্তু গবেষণায় বর্তমানে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যায় এই হার কমছে খুব ধীরগতিতে।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ডা. হান্নাহ ব্লেনকাউ বলেন, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুর হার খুব ধীরগতিতে কমার অর্থ হলো এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।