তামাক রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

তামাক রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা

বছরে ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১:২৬ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৯

print
তামাক রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা

তামাক ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আদায় হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পরোক্ষভাবে তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত লোকদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফের অডিটোরিয়ামে তামাকবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে ‘সেমিনার ও তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক-২০১৯’-এর অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ২০৪০ সালের আগেই তামাকমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব। তবে এ জন্য আগে আমাদের কৃষিখাতকে অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। কৃষকের ফসল দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিতে পারলেই অটোমেটিক্যালি তামাক চাষ বন্ধ হয়ে যাবে।

তামাকবিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল মালিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না, তামাকমুক্ত দিবসটি রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান পালন করছে কি না। পিকেএসএফ এ দিবসটি পালন করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, টোব্যাকোর ভয়াবহতা আমরা সবাই কম বেশি জানি। টোব্যাকো সমস্যা খুবই কঠিন ও জটিল। অনেক গণমাধ্যম-এনজিও তামাক বিরোধী কাজ করছে। কিন্তু এরপরও বাস্তবতা ভিন্ন। ৩০-৩২ শতাংশ মানুষ এখনো তামাক নিচ্ছেন।

নির্বাচনে তামাকের (বিড়ি, সিগারেট) ব্যবহার অপ্রতিরোধ্য। গ্রামে এখনো নির্বাচন এলে রাত বিরাতে ব্যাপকভাবে সিগারেট বিলি হয়। কৃষকদের ইনোভেটিভ উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তামাকের জন্য রংপুর খুব প্রসিদ্ধ ছিল। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর অফিস ছিল, কার্যক্রম ছিল রংপুরে। সবচেয়ে দরিদ্রতম এলাকাগুলোকে টার্গেট করে তামাকের চাষ করানো হতো। এখন রংপুরে আলু চাষ হয়। কারণ কৃষকরা অনেক বেশি ইনোভেটিভ হয়ে গেছে। বিশেষ করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জে কৃষকদের খুবই ইনোভেটিভ হিসেবে দেখেছি। একসঙ্গে অনেক ফসল আবাদ করে। ৫০-৬০ দিনে ফসল হবে এমন সবজি করে।

ফসলের ফলন বেশি হয়, দামও বেশি পায় ওই কৃষকরা। কুষ্টিয়ায় অনেক এলাকায় তামাকের ভয়াবহ চাষাবাদ। মন্ত্রী বলেন, টোব্যাকো কোম্পানিগুলো খুবই শক্তিশালী। ২২ হাজার কোটি টাকা রেভিনিউ দেয় টোব্যাকো। এই টাকা আমাদের জন্য অনেক বেশি। এই জন্য বেশি দিন আগে নয় বিএনপি-জামায়াতের জোটের আমলে বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। এই বছর আমাদের বাজেট ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আমাদের জিডিপি ছিল ৪ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর প্রথম বাজেট ছিল ৭০০-৮০০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এক সময় উন্নয়ন বাজেট ছিল ২০-২৩ হাজার কোটি টাকা। এখন তা প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা।

মন্ত্রী বলেন, তামাকজাত পণ্য উৎপাদনে টোব্যাকো কোম্পানিগুলো নানা ধরনের প্রণোদনা দেয় প্রলুব্ধ করে। সেখানে তামাকবিরোধী প্রণোদনা সরকারকে দিতে হবে। কৃষককে তামাকের বিরুদ্ধে প্রমোট করতে হবে।

চাষিকে যদি তামাক চাষ বন্ধ করতে বলি তাহলে সে অল্টারনেট কী করবে? আমাদের আলুর প্রয়োজন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন, সেখানে রংপুরসহ সারা দেশে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টন। ৩৩ লাখ টন আলু বেশি। এই উদ্বৃত্ত আলু নিয়ে আমরা কী করবো সেটা আমরা এখনো ঠিক করতে পারিনি। উদ্বৃত্ত এই আলু নিয়ে আমি নিজে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। চাষীরা তো আছেনই। ধান, এই বছর আমাদের আমনে টার্গেট ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টন। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ টন ধান হয়েছে। ১৩ লাখ টন বেশি।

আমনের ধানের চাহিদা বেশি থাকে। সেখানে শুকনো ধান নিয়েও কৃষক ধান বিক্রি করতে পারছে না। গ্রাহক বা ক্রেতা নেই। আম গত বছর অনেকে লোকসানে বিক্রি করেছে। এবারও সেরকম আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাছের ক্ষেত্রে তাই হচ্ছে। কৃষক দাম পাচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, তামাকের ওপর নির্ভর করতে হবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। তামাক বন্ধ হবেই। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের কৃষকের ফসল বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। কমার্শিয়াল এগ্রিকালচারই পারে তামাকমুক্ত দেশ গড়তে। অনেক সম্ভাবনার খাত কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ করে বিশ্ববাজার ধরতে হবে।